সেহরি খাওয়া ইবাদত

  মুফতি হাসান মুহাম্মাদ শরীফ

২৯ মে ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ২৯ মে ২০১৭, ০০:০৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

রমজানের রাতে সেহরি খাওয়া সুন্নত। হযরত ইবনে ওমর (রা) থেকে বর্ণিত রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, স্বয়ং আল্লাহতায়ালা ও তার ফেরেশতাগণ যারা সেহরি খায় তাদের ওপর রহমত নাজিল করেন (সহিহ ইবনে হিব্বান)। আল্লামা আইনি (রহ) সতেরোজন সাহাবায়ে কেরাম থেকে সেহরির ফজিলত সম্পর্কিত বহু হাদিস বর্ণনা করেছেন।

আরেক হাদিসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, আমাদের এবং ইহুদি-খ্রিস্টানদের রোজার মধ্যে পার্থক্য হয় সেহরি খাওয়ার দ্বারা। কারণ তারা সেহরি খায় না। অন্যত্র তিনি ইরশাদ করেন, সেহরি হওলো বরকতময় এক বিষয়। আল্লাহতায়ালা আপন দয়ায় তোমাদের এ বরকত দান করেছেন। সেহরি খাওয়া কখনো পরিত্যাগ করো না। তিনি আরও বলেন, আর কিছু যদি নাও খেতে পার, অন্তত একটি খেজুর হলেও খেয়ে নিও বা এক ঢোক পানি হলেও পান করে নিও।

সেহরি খাওয়ায় রোজাদারের যেমন ক্ষুধা নিবারণ হয়, তেমনি বিনাকষ্টে সওয়াবও লাভ হয়। এক হাদিসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, সেহরি খেয়ে রোজার জন্য শক্তি সঞ্চয় করো আর দুপুরে ঘুমিয়ে শেষ রাতে ওঠার বিষয়টি সহজতর করো। এ ছাড়া সেহরির দ্বারা ইবাদতে শক্তি পাওয়া যায় এবং অধিক একাগ্রতা সৃষ্টি হয়। অত্যধিক ক্ষুধার কারণে অনেক সময় মেজাজ খিটখিটে হয়ে থাকে। সেহরি খেলে এরও প্রতিরোধ হয়। কাজেই সেহরির ব্যাপারে সবারই গুরুত্ব দেওয়া কাম্য। অলসতা বা গুরুত্বহীনতার কারণে যেন এত বড় ফজিলত থেকে বঞ্চিত না হতে হয়।

তবে এখানে একটি কথা স্মরণ রাখা দরকার, যে কোনো কাজে অতিমাত্রা ও অতিস্বল্পতাÑ উভয়ই সমানভাবে ক্ষতিকর। তাই সেহরিতে এত বেশি খাওয়া ঠিক নয়, যাতে সারাদিন ঢেকুর আসতে থাকে। আবার এত সামান্য খাওয়াও সমীচীন নয়, যাতে ইবাদত-বন্দেগিতে দুর্বলতা অনুভব হয়।

সেহরির সময়টা বিশেষভাবে দোয়া কবুলের সময়। এর বদৌলতে দোয়া, দুরুদ ও জিকিরের তওফিক হয়। যারা তাহাজ্জুদ পড়তে চান তাদের জন্যও এই সময়টা খুব উপযোগী। শেষরাতের নির্জন মুহূর্তে আল্লাহতায়ালার দরবারে আত্মনিবেদনের মাধ্যমে এ মুহূর্তে অনেক কিছুই লাভ করা যেতে পারে।

সেহরি খাওয়ার সময় কোনো অভাবী বা অসহায় লোক উপস্থিত হলে তাকে তৎক্ষণাৎ সাধ্যানুযায়ী সাহায্য-সহযোগিতা করা উচিত। পাড়া-প্রতিবেশী বা আশপাশের কেউ দরিদ্র ও অসহায় হলে তাকেও সাহায্য করার জন্য উদ্যোগী হওয়া দরকার। আল্লাহতায়ালা মানুষকে তারই স্বভাব দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। যে ব্যক্তি রবের মুখাপেক্ষী ও অভাবী বান্দার প্রতি সহানুভূতিশীল, খোদাতায়ালা অবশ্যই তাকে তাসবিহ তাহলিল ও অজিফা পাঠকারী কৃপণ বান্দার চেয়ে বেশি ভালবাসবেন।

সেহরি তুলনামূলক শেষ সময়ে খাওয়া উত্তম। তবে এত দেরি করাও আবার ঠিক নয়, যাতে করে রোজার ব্যাপারে সন্দেহ তৈরি হয়ে যায়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে