রোজার জরুরি আমল

  হাসান মুহাম্মাদ শরীফ

০৫ জুন ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ০৫ জুন ২০১৭, ০০:০৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

রোজা রাখার পাশাপাশি যে সকল কাজ রোজার জন্য ক্ষতিকর সেগুলো থেকেও বেঁচে থাকতে হবে। এক হাদিসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনÑ রোজা হচ্ছে মানুষের জন্য ঢালস্বরূপ, যতক্ষণ না তা বিদীর্ণ করা হয়। একথা শুনে এক সাহাবি আরজ করলেন- ইয়া রাসুলুল্লাহ! রোজা আবার কোন জিনিস দ্বারা বিদীর্ণ হয়ে যায়? উত্তরে তিনি বললেন, মিথ্যা এবং গিবত দ্বারা। এরকম আরও অনেক হাদিসে রোজা রাখা অবস্থায় এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকতে সবিশেষ গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে।

এ সকল হাদিস সামনে রেখে মাশায়েখগণ রোজার ছয়টি আদবের কথা উল্লেখ করেছেন। রোজাদার ব্যক্তির জন্য এগুলোর প্রতি লক্ষ রাখা জরুরি-

১. দৃষ্টির হেফাজত করা। কখনো যেন অপাত্রে দৃষ্টি না পড়ে সেজন্য সবসময় সচেতন থাকা। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন- যে ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে দৃষ্টির হেফাজত করে চলে, আল্লাহপাক তাকে এমন ইমানি নুর দান করেন, যার স্বাদ ও মিষ্টতা সে অন্তরে অনুভব করতে থাকে।

২. জবানের হেফাজত করা। মিথ্যা, চোগোলখোরি, অশ্লীল কথাবার্তা, গিবত, ঝগড়া-বিবাদ সবই এর অন্তর্ভুক্ত।

৩. কানের হেফাজত করা। এই বিষয়টি রোজাদারের জন্য খুবই জরুরি। যে সকল জিনিস মুখে বলা ও উচ্চারণ করা নাজায়েজ তা শোনাও নাজায়েজ।

৪. শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গও হেফাজত করা। যেমনÑ স্পর্ষ করা নাজায়েজ এমক কিছু হাত দিয়ে না ধরা। পা দিয়ে কোনো নাজায়েজ কাজের দিকে হেঁটে না যাওয়া। এমনিভাবে ইফতারের সময় নাজায়েজ ও সন্দেহযুক্ত খাবার থেকেও বিরত থাকা।

৫. ইফতারের সময় হালাল খাবার থেকেও এতো বেশি না খাওয়া, যার ফলে উদর মাত্রারিক্ত ভরে যায়। কারণ এতে করে পাশবিক শক্তিকে পরাজিত করে ঐশী শক্তি অর্জন করা এবং দরিদ্র ও নিরন্ন মানুষের যাতনা উপলব্ধি করা, যা রোজার অন্যতম উদ্দেশ্য, সেটাই ব্যাহত হয়।

৬. সর্বশেষ যে বিষয়টির প্রতি রোজাদারের অতিব গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন সেটি হলোÑ রোজা রাখার পর মনের ভেতর এই ভীতি জাগ্রত রাখা যে, না জানি আমার এই রোজা কবুল হচ্ছে কিনা? যে সকল ভুলত্রুটির দিকে সাধারণত দৃষ্টি যায় না, না জানি এমন কোনো ভুলে আমার রোজা নষ্ট হয়ে গেছে কিনা? এই যে নিজের কাজে গর্বিত না হয়ে উল্টো বিনীত হওয়া- এই বোধটা আসে তাকওয়া থেকে। যে তাকওয়া অর্জনের জন্যই মূলত আল্লাহ তায়ালা রমজানের রোজা ফরজ করেছেন।

এই আদবগুলোর প্রতি পূর্ণ যত্নবান থেকে যদি রোজা পালন করা হয়, তাহলে আশা করা যায় এর মাধ্যমে রোজার যে মূল উদ্দেশ্য তাকওয়া অর্জন করা; তা আমাদের নসিবে জুটে যাবে। বড় কিছু পেতে হলে ত্যাগ ও বিসর্জন দিতেই হয়। সামান্য কিছু সময় শরীর ও আত্মার চাহিদাকে বিসর্জন দিয়ে আমরা যদি তাকওয়ার মতো মহাসম্পদ লাভ করতে পারি, তাহলে এর মাধ্যমে অশেষ কল্যাণের সূচনা হবে। যারা বুদ্ধিমান ও সচেতন তারা এ কাজে সামান্যও পিছিয়ে থাকেন না।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে