ইফতার হোক সৌহার্দ্যময়

  মুফতী হাসান মুহাম্মাদ শরীফ

০৬ জুন ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ০৬ জুন ২০১৭, ০০:১১ | প্রিন্ট সংস্করণ

রোজা রেখে ইফতার করা সুন্নত। যে কোনো খাবারের মাধ্যমেই এ সুন্নত আদায় হতে পারে। তবে খোরমা খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করা উত্তম।

এমনিভাবে অন্য কোনো রোজাদারকে ইফতার করানোও অনেক ফজিলতের। অন্যকে ইফতার করানোর ফজিলত সম্পর্কে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি এ মাসে কোনো রোজাদারকে (আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি ও সওয়াব লাভের প্রত্যাশায়) ইফতার করাবে তা তার পাপমোচন ও দোজখ থেকে মুক্তির কারণ হবে এবং এতে সে ওই রোজাদারের সমান সওয়াবের অধিকারী হবে। সে জন্য রোজাদারের সওয়াব থেকে সামান্যও কমানো হবে না।

এ কথা শুনে একজন সাহাবি আরজ করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাদের সবারই তো অন্যকে ইফতার করানোর মতো সামর্থ্য নেই। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে এক ঢোক দুধ দ্বারা বা একটি খেজুর দ্বারা কিংবা একটু পানি দ্বারাও ইফতার করাবে তাকেও আল্লাহতায়ালা এই সওয়াব দান করবেন। আর যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে তৃপ্তি সহকারে খাওয়াবে আল্লাহতায়ালা তাকে আমার হাউজে কাউসার থেকে এমন পানি পান করাবেন যে, সে জান্নাতে যাওয়ার আগে আর কখনো পিপাসার্ত হবে না।

কত চমৎকার, কত সুন্দর ব্যবস্থা। একজন সারা দিন কষ্ট করে না খেয়ে রোজা রাখে আর আরেকজন সন্ধ্যাবেলায় তাকে এক ঢোক দুধ বা পানি কিংবা একটা খেজুর খাইয়ে রোজাদারের সমান সওয়াবের অধিকারী হয়ে যায়। তার গোনাহ মাফ হয়। জাহান্নাম থেকে মুক্তির ব্যবস্থা হয়। এসবই আল্লাহপাকের রহমত। তার রহমত তো মানুষকে সমৃদ্ধ করার জন্য সততই পথ খুঁজে বেড়ায়। সামান্য ওসিলায় তাকে একদম ভরপুর করে তোলে।

আরেক হাদিসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কোনো ব্যক্তি হালাল উপার্জন দিয়ে কাউকে ইফতার করালে রমজানের রাতগুলোয় আল্লাহতায়ালার ফেরেশতাগণ তার ওপর রহমত পাঠাতে থাকেন এবং শবেকদরে জিবরাইল (আ.) তার সঙ্গে মুসাফাহা করেন। জিবরাইল (আ.) যার সঙ্গে মুসাফাহা করেন তার অন্তর কোমল হয় এবং তার চোখ থেকে বিনয় ও সমর্পণের অশ্রু ঝরতে থাকে।

ইফতার করানোর অর্থ কিছুতেই আনুষ্ঠানিকতা নয়। আনুষ্ঠানিকতার মাঝে বেশিরভাগ জায়গায়ই লোকদেখানোর মানসিকতা কাজ করে। দরিদ্র সাহাবিরা নিজেদের ইফতার অন্যকে দিতেন এবং অন্যের ইফতার নিজে নিতেন। এভাবে তারা প্রত্যেকেই ইফতার করানোর সওয়াব পেতেন। আমাদের সবাইরই চেষ্টা করা দরকার নিয়মিত নিজেদের খাবার থেকে সামান্য কমিয়ে অন্যদের ইফতার করানো। বিশেষত দরিদ্র কর্মজীবী, রিকশাওয়ালা অনেকেই কষ্ট করে রোজা রাখেন। অনেক সময় পর্যাপ্ত ইফতার করতেও তাদের কষ্ট হয়। সাধ্যমতো নিজেদের খাবার কমিয়ে এদের খাওয়ানো দরকার। এভাবেই মূলত সমাজে সহানুভূতি ও সহমর্মিতার একটা অভ্যাস গড়ে ওঠবে। কাজের চেয়ে কথায় বড় হওয়ার যে একটা প্রবণতা আমাদের মাঝে প্রকটভাবে বিরাজ করছে সে প্রবণতাকে দূর করতে হবে। শুধু মৌখিক চর্চা ও প্রচার দিয়ে সমাজের চিত্র পাল্টানো যায় না।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে