সহমর্মিতার চেতনা

  মুফতী হাসান মুহাম্মাদ শরীফ

১২ জুন ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১২ জুন ২০১৭, ০০:০৭ | প্রিন্ট সংস্করণ

মানবতার প্রশ্নে সব মানুষ সমান হলেও সমাজের সব মানুষের জীবনযাত্রার মান এক রকম নয়। সমাজের অসহায়, অবহেলিত ও দরিদ্র মানুষগুলো যেন দুবেলা দুমুঠো খেতে পারে, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষার মৌলিক অধিকার থেকে তারা যেন বঞ্চিত না থাকে সেজন্য সমাজের সামর্থ্যবান লোকদের ভেতরে অবশ্যই সহমর্মিতার চেতনা জাগ্রত থাকতে হবে। একই সমাজের কিছু মানুষ যদি মানবেতর জীবনযাপন করে তা হলে অন্যদের মানবতা নিয়ে প্রশ্ন থাকে।

হযরত সালমান ফারেসি (রাযি) বলেন, একবার শাবান মাসের শেষ দিন আমাদের সমবেত করে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুতবা দিলেন। তিনি বললেন, ‘হে লোক সকল! বরকতময় ও মহিমান্বিত একটি মাস তোমাদের দুয়ারে উঁকি দিচ্ছে। এই মোবারক মাসে একটি রাত আছে (শবেকদর) যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। আল্লাহতায়ালা এই মাসে রোজা রাখাকে ফরজ করেছেন আর রাতের বেলা তার দরবারে হাজিরা দেওয়াকে সওয়াবের কাজ সাব্যস্ত করেছেন। যে ব্যক্তি আল্লাহপাকের সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে এই মাসে কোনো নফল ইবাদত করবে সে অন্য মাসে একটি ফরজ ইবাদত পালনের সওয়াব পাবে। আর এ মাসে একটি ফরজ আমল করলে অন্য মাসে সত্তরটা ফরজ আমল করার সওয়াব পাওয়া যাবে। এটা হচ্ছে ধৈর্যের মাস। আর ধৈর্যের বিনিময় হলো জান্নাত। এটা সহমর্মিতা ও সহানুভূতির মাস। এ মাসে মুমিন বান্দার রিজিক বাড়িয়ে দেওয়া হয়।’ এ হাদিসের শেষ অংশে রসুল (স) বলেন, ‘যে ব্যক্তি এ মাসে গৃহকর্মীদের কাজে একটু শিথিলতা করবে এবং ছাড় দেবে আল্লাহতায়ালা তাকে ক্ষমা করে দেবেন এবং দোজখের আগুন থেকে তাকে মুক্তি দেবেন।’

এই খুতবায় রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজান মাসকে ধৈর্য ও সহানুভূতির মাস বলে আখ্যায়িত করেছেন। দ্বীনি পরিভাষায় ধৈর্য বলতে বোঝায়, আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টির স্বার্থে মনের অসৎ চাওয়াগুলোকে অবদমিত রাখা এবং যে কোনো ত্যাগ ও কষ্টকে বরদাশ্ত করে নেওয়া। বলাবাহুল্য, রোজার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই মানসিকতারই বহির্প্রকাশ ঘটতে থাকে। পাশাপাশি রোজা রেখে যে কোনো ব্যক্তিই নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে অনুধাবন করতে পারে ক্ষুধার জ¦ালা কতটা কষ্টের। সমাজের নিরন্ন, নিঃস্ব মানুষগুলো প্রতিনিয়ত কতটা কষ্টে জীবন কাটিয়ে থাকে। এ অনুভূতির ফলে তার মাঝে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের প্রতি এক ধরনের সহমর্মিতা ও সহানুভূতি জাগ্রত হয়।

রোজা আসে আমাদের ত্যাগের শিক্ষা দিতে। আমরা যেন এটাকে ভোগের উৎসব না বানিয়ে ফেলি। অভাবী, হতদরিদ্র মানুষকে একটু সহায়তা করতে পারার যে মানসিক প্রশান্তি বিপুল বিত্ত-বৈভবে নিমজ্জিত থেকে তা কল্পনাও করা যায় না। অর্থের মধ্যে সুখ নেই। অর্থ অনেক সময়ই অনর্থের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই অর্থের সঠিক ব্যবহার করতে হবে। অর্থকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলেই সুখের সন্ধান পাওয়া যায়। দয়াময় প্রভুর দেওয়া বিপুল সম্পদ থেকে নিঃস্বার্থভাবে কিছু সম্পদ বিলিয়ে দেওয়া অর্থের সঠিক ব্যবহারের অন্যতম একটি নমুনা। দানের হাত প্রসারিত করে অর্থের সঠিক ব্যবহারে উদ্যোগী হতে হবে। রমজান আমাদের এই আহ্বানই জানায়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে