‘হে কল্যাণপ্রত্যাশী অগ্রসর হও’

  মুফতী হাসান মুহাম্মাদ শরীফ

১৯ জুন ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১৯ জুন ২০১৭, ০০:০৭ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রাত্যাহিক জীবনে আমরা যেসব ভালো কাজ করে থাকি, আল্লাহ তায়ালার নামে সেসব কাজ শুরু করলে এবং কাজ শেষ করে তার শুকরিয়া আদায় করলে তিনি খুশি হন। এ জন্য রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রত্যেক কাজের শুরুতে ও শেষে দোয়া পড়তেন। তিনি যে কাজের শুরুতে ও শেষে যে দোয়া পড়তেন ওই ধরনের কাজের শুরুতে ও শেষে তা পড়া সুন্নত। পাশাপাশি সাহাবিদের পাঠকরা দোয়াও অনুসরণযোগ্য।

রমজানের দিন-রাত মূলত দোয়া ও মোনাজাতেরই দিন-রাত। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস উল্লেখ করে আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রা) বলেন, রমজানের প্রতি রাতে আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন ঘোষক ডেকে ডেকে বলেনÑ ‘হে কল্যাণপ্রত্যাশী! অগ্রসর হও। হে পাপাচারী নিবৃত্ত হও।’ এরপর ঘোষক বলেনÑ ‘আছো কি কেউ ক্ষমাপ্রত্যাশী? আজ তোমাকে ক্ষমা করা হবে। আছো কি কেউ তাওবাকারী? আজ তোমার তাওবা কবুল করা হবে। আছো কি কেউ সাহায্য প্রার্থনাকারী? আজ তোমার চাওয়া পূরণ করা হবে। এ ঘোষণা রাতভর চলতে থাকে।

সারাদিনের পানাহার বিরত থেকে ইফতার গ্রহণের পর দেহ-মন যখন চাঙ্গা ও সতেজ হতো, তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই দোয়া পড়তেনÑ ‘জাহাবাজ্জামাউ ওয়াবতাল্লাতিল উরুকু ওয়া সাবাতাল আজরু ইনশাআল্লাহু।’ অন্য কারো বাড়িতে ইফতার করলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার জন্য এভাবে দোয়া করতেনÑ ‘আফতারা ইনদাকুমুস সায়িমুন, ওয়া আকালা ত্বআমুকুমুল আবরারু, ওয়া সল্লাত আলাইকুমুল মালাইকাতু।’

হাদিসে এসেছে, ইফতারের সময় বান্দার দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। এ জন্য ইফতারের আগমুহূর্তে অন্যান্য দোয়ার সঙ্গে বেশি বেশি করে ইস্তেগফার পড়া উচিত।

‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা বিরাহমাতিকাল্লাতি ওয়াসিআত কুল্লা শাইয়িন আন তাগফিরা লি।’Ñ ইফতারি সামনে এলে সাহাবি আমর ইবনুল আস (রা) এ দোয়া পড়তেন। ইফতার করার সময় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পড়তেনÑ “আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া’আলা রিজকিকা আফতারতু”।

শবেকদরে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই দোয়া পাঠ করতে সাহাবিদের উৎসাহিত করেছেনÑ ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি।’ এ ছাড়া রমজান মাসে বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াত করা, কালিমায়ে তাইয়্যিবা, কালিমায়ে শাহাদাত ও দরুদ শরিফ পাঠ করা, সারা জীবনের গোনাহ মাফের জন্য কায়মনোবাক্যে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া; বিশেষ করে তার কাছে বেহেশত চাওয়া এবং দোজখের আজাব থেকে পানাহ চাওয়া দরকার।

রমজানের দিন-রাত মূলত দোয়া ও মোনাজাতেরই দিন-রাত। তাই এ মাসের জন্য নির্ধারিত ইবাদত ছাড়াও যখন সুযোগ পাওয়া যায়, আল্লাহর দরবারে দোয়া- মোনাজাতে বিশেষভাবে মনোনিবেশ করা উচিত। বান্দার কোন দোয়া কখন কবুল হয়ে যাবে, তা তো বলা যায় না। এ কাজ করলে মানুষের আকাক্সক্ষাগুলো তো পূরণ হবেই, পাশাপাশি এই সুফলও হবে যে, আল্লাহর সঙ্গে তার একটি গভীর সম্পর্কের গোড়াপত্তন হবে। আর এ সম্পর্ক ধীরে ধীরে তাকে সৎকাজে উদ্যমী এবং অসৎ কাজে নিরুৎসাহিত করে তুলবে। আর এটাই রমজানের রোজা ফরজ করার অন্যতম একটি উদ্দেশ্য।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে