যুগে যুগে রোজা

  মুফতী হাসান মুহাম্মাদ শরীফ

২০ জুন ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ২০ জুন ২০১৭, ০০:১১ | প্রিন্ট সংস্করণ

রোজা রাখার বিধান সব যুগেই ছিল। হজরত আদম (আ) থেকে শুরু করে আখেরি নবী হজরত মুহম্মাদ (স) পর্যন্ত সব নবী-রাসুলের যুগেই রোজার বিধান ছিল। কোরআনে ইরশাদ হয়েছেÑ হে ইমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে যেমন পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল, যাতে তোমরা মুত্তাকি হতে পারো। তবে হজরত আদম (আ)-এর সময় রোজার ধরন কেমন ছিল, তা সঠিকভাবে বলা যায় না। কোনো কোনো ঐতিহাসিকের মতে, হজরত নুহ (আ)-এর যুগ থেকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগ পর্যন্ত প্রতি মাসে তিনদিন করে রোজা রাখার বিধান ছিল। পরে রমজানের রোজা ফরজ হলে তা রহিত হয়।

ইহুদিরা তুর পাহাড়ে হজরত মুসা (আ)-এর অবস্থানের স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য চল্লিশ দিন রোজা রাখা সংগত মনে করত। তবে ফরজ রোজা রাখত এক দিন। খ্রিস্টানরাও ঈসা (আ)-এর অনুসরণে এমনটা করতে চাইত। কিন্তু সেন্ট পলের কারসাজির ফাঁদে পড়ে তা আর হয়ে ওঠেনি। ইহুদিদের মতো তারাও একদিন রোজা রাখত। পরবর্তী ইহুদি-খ্রিস্টানরা রোজার সংখ্যা বাড়াতে বাড়াতে পঞ্চাশের কোটায় পৌঁছে দেয়। গরমের দিনে রোজা তাদের জন্য কষ্টসাধ্য হওয়ায় সেটি পরিবর্তন করে শীতের মৌসুমে নিয়ে আসে।

মুগাফ্ ফাল ইবনে হানযালা (রাযি) থেকে বর্ণিত এক হাদিসের মাধ্যমে জানা যায়, খ্রিস্টানদের ওপর মূলত ত্রিশটি রোজাই ফরজ ছিল। পরবর্তীতে তাদের এক বাদশার রোগমুক্তির মানতস্বরূপ তারা আরও বিশটি রোজা বাড়িয়ে রাখে।

তবে সংখ্যা যা-ই হোক, মোদ্দা কথা হচ্ছে, হজরত আদম (আ)-এর যুগ থেকেই রোজা রাখার বিধান ছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে আদর্শচ্যুত হয়ে লোকেরা আল্লাহর বিভিন্ন বিধানকে যেভাবে পরিবর্তন ও বিকৃত করেছিল, রোজার ধর্মীয় তাৎপর্য ও বৈশিষ্ট্যও একইভাবে শেষ হয়ে তা একটি নিছক প্রথায় পরিণত হয়ে গিয়েছিল।

এমন অবস্থা থেকে রোজাকে রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের দিকে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এবং একে আত্মিক, নৈতিক ও চারিত্রিক কল্যাণের ধারক বানানোর নিমিত্তে মহান রাব্বুল আলামিন দ্বিতীয় হিজরিতে রমজান মাসের রোজাকে এ উম্মতের ওপর ফরজ করে দেন।

ইসলাম অন্যান্য ইবাদতের মতো রোজার মধ্যেও বেশ কিছু মৌলিক ও বৈপ্লবিক সংস্কার সাধন করেছে। সমাজের সর্বস্তরে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব সুস্পষ্ট।

ইসলামের সর্বপ্রধান সংস্কার হলো, রোজার ব্যাপারে ধারণাগত পরিবর্তন। অর্থাৎ ইহুদিদের দৃষ্টিতে রোজা ছিল নিছকই স্মৃতিধারণ। ইসলাম এই প্রাণশূন্য চেতনাকে স্বীকার করেনি। ইসলামের মতে, রোজা ব্যক্তি ও সমাজজীবন পরিবর্তনের অন্যতম একটি মাধ্যম। কোনো কোনো প্রাচীন ধর্মমতে, রোজা ছিল বিশেষ শ্রেণির জন্য পালনীয়। কিন্তু ইসলাম রোজাকে সব শ্রেণিবিভক্তি ও সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করে এক সর্বজনীন রূপ দান করেছে। ইসলামের বিধানে প্রত্যেক সক্ষম মুসলমানের জন্য রোজা রাখা ফরজ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে