বঙ্গবন্ধুর দুই খুনির শেয়ার বাজেয়াপ্ত করা যাচ্ছে না

  শাহজাহান আকন্দ শুভ

১৪ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০১৭, ০০:১৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

সুনির্দিষ্ট আইন না থাকায় দেশের প্রাচীনতম জুবিলী ব্যাংকে থাকা বঙ্গবন্ধুর দুই আত্মস্বীকৃত খুনির শেয়ার রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করতে পারছে না সরকার। এখন এ ব্যাপারে নতুন আইন প্রণয়নের চিন্তাভাবনা চলছে। জুবিলী ব্যাংকে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি কর্নেল (অব) ফারুক রহমান ও কর্নেল (অব) আবদুর রশীদের নামে ৮৫ হাজার শেয়ার রয়েছে। এই শেয়ারগুলো হস্তান্তরে ইতোমধ্যে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আত্মস্বীকৃত এই দুই খুনির মধ্যে সৈয়দ ফারুক রহমানের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। আবদুর রশীদ বিদেশে পলাতক আছেন।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ও পরিচালক এবিএম মুন্সী ওই দুই খুনির আত্মীয় কিনা তার খোঁজখবর নিচ্ছে। এ ছাড়া জুবিলী ব্যাংকের টাকা জঙ্গি অর্থায়নে ব্যবহার করা হচ্ছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, আমরা এবিএম মুন্সীর বিদেশ ভ্রমণের বৃত্তান্ত এবং পাসপোর্টের বিষয়ে কিছু তথ্য চেয়ে স্পেশাল ব্রাঞ্চকে চিঠি দিয়েছি। ব্যাংকটির কোনো অর্থ জঙ্গিবাদে ব্যবহৃত হয়েছে কিনা তাও অনুসন্ধান করে দেখছি। এ ছাড়াও কিছু কার্যক্রম হাতে নিয়েছি।

জুবিলী ব্যাংকের মালিকানা তথা পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে সৃষ্ট দ্বন্দ্বে গত বছর জুনে ব্যাংকটির দুই শেয়ারহোল্ডার শহিদুল্লাহ ও বাবুল হোসেন অর্থমন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগে বলা হয়, জুবিলী ব্যাংকে খুনি কর্নেল (অব) ফারুক রহমান ও কর্নেল (অব) আবদুর রশীদের নামে ৮৫ হাজার শেয়ার রয়েছে। ব্যাংকটির চেয়ারম্যান এবিএম মুন্সী শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ না দিয়ে ব্যক্তিগত কাজে খরচ করছেন। এ ছাড়া গোপনে জঙ্গি অর্থায়নসহ বঙ্গবন্ধুর খুনির কাছে অত্যন্ত গোপনে অর্থ পাঠাচ্ছেন। এ অভিযোগ পেয়ে অর্থমন্ত্রী নড়েচড়ে বসেন। তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) চিঠি দেয়। এরপর বিএসইসি দুই খুনির শেয়ার বাজেয়াপ্ত করার বিষয়ে জানায়, জুবিলী ব্যাংক দেশের কোনো স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত না হওয়ায় সে সুযোগ নেই। পরে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংকিং বিভাগ যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মগুলোর নিবন্ধককে (আরজেএসসি) শেয়ার বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশনা দিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায়। জবাবে আরজেএসসি জানায়, কোম্পানি আইনে তারা শুধু আত্মস্বীকৃত দুই খুনির শেয়ার হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এর বাইরে বাজেয়াপ্ত করার আইনি সুযোগ নেই। ফলে দুই খুনির শেয়ার বাজেয়াপ্ত করতে নতুন আইন প্রণয়নের চিন্তাভাবনা চলছে বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান।

ওদিকে অর্থমন্ত্রীর কাছে করা দুটি অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ ব্যাংকটির সরেজমিনে একটি পরিদর্শন প্রতিবেদন তৈরি করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, জুবিলী ব্যাংক লিমিটেড ব্যাংকিং কোম্পানিজ অর্ডিন্যান্স ১৯৬২-এর ২৭ (২) ধারায় প্রতিষ্ঠিত একটি তফসিলি ব্যাংক। ফলে তফসিলি ব্যাংক হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রদত্ত অনুমতিপত্রে বর্ণিত অব্যাহতিসমূহ ব্যতিরেকে বিদ্যমান ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর সব ধারা তাদের জন্য প্রযোজ্য। ব্যাংকটিতে শেয়ার ধারণ সম্পর্কিত পূর্ণাঙ্গ তথ্যাদি সংরক্ষিত নেই। ব্যাংক পরিচালনার ক্ষেত্রে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক দ্বন্দ্ব বিরাজমান, যার প্রভাব ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থার ওপর প্রতিফলিত হয়েছে।

প্রতিবেদনের সুপারিশে বলা হয়, ব্যাংকটিতে আবদুর রশীদসহ চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার এমবিএম মুন্সীর শেয়ার ধারণ ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ১৪ক (৫) ধারায় উল্লিখিত সীমা শতাংশের বেশি। এক্ষেত্রে ব্যাংক ও কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ১৪ক (৫) ধারা মোতাবেক সরকারের পক্ষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ নিজে অথবা তাদের মনোনীত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অতিরিক্ত শেয়ার হস্তান্তরের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে