যুদ্ধে জড়াবে না বাংলাদেশ

  কূটনৈতিক প্রতিবেদক

১১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৪:৪১ | প্রিন্ট সংস্করণ

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশ্ব সম্প্রদায় বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেছে এবং সব ধরনের সহযোগিতা নিয়ে পাশে থাকার কথা জানিয়েছে। জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানকে প্রধান করে মিয়ানমার সরকারের গঠিত আনান কমিশনের প্রতিবেদনের বাস্তবায়নও চান তারা। অন্যদিকে বাংলাদেশ সমস্যার কূটনৈতিক সমাধান আশা করছে। মিয়ানমারের সঙ্গে কোনো ধরনের যুদ্ধে না জড়ানোর কথা বলা হয়েছে। এ ইস্যুতে বিশ্ব সম্প্রদায়কে সম্পৃক্ত করেই সমাধান করবে ঢাকা।

গতকাল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক ও সংস্থার প্রতিনিধিদের রোহিঙ্গা ইস্যুর সর্বশেষ অবস্থা এবং বাংলাদেশের অবস্থান ব্রিফ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, তুরস্ক, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনৈতিক এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ব্রিফিং শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াবে না বাংলাদেশ। সমস্যার সমাধানে মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা অব্যাহত আছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২৫ আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত তিন হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা করেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। সমস্যা যেহেতু মিয়ানমারের তৈরি, সুতরাং সমাধানও তাদেরই করতে হবে। বাংলাদেশ কেবল তাদের সমস্যা সমাধানে সাহায্য করতে পারে। কারা রোহিঙ্গা সেটি তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। চলমান রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর দেওয়া বিবৃতিও তুলে ধরেন। সবার দেওয়া বিবৃতিতেই মানবিক বিবেচনাবোধের জায়গা থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, প্রতিটি দেশের প্রতিনিধিই একবাক্যে রোহিঙ্গাদের নিয়ে বাংলাদেশের নেওয়া ভূমিকা সমর্থন করেন। এত বিরাট জনগোষ্ঠীকে আশ্রয়, চিকিৎসা ও খাদ্যের ব্যবস্থার জন্য নিখাঁদ প্রশংসা করেছেন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরা।

রোহিঙ্গা ইস্যুকে একটি ‘জাতীয় সমস্যা’ অভিহিত করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা আগে থেকেই আছে, এর পর সম্প্রতি ঘটনায় আরও তিন লাখ রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে। সে হিসাবে রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা এরই মধ্যে সাত লাখ ছাড়িয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য বনবিভাগের দুই হাজার একর জমি নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব জমিতে খুব দ্রুত কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা। একই সঙ্গে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সব রোহিঙ্গার বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ ও নিবন্ধন করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সেনাবাহিনীর বহুদিন ধরে চলমান সংঘর্ষ-সহিংসতা সংকট সমাধানে ২০১৬ সালের আগস্টে গঠিত হয় অ্যাডভাইজরি কমিশন অন রাখাইন স্টেট। জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে ওই কমিশন এক বছরের তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের প্রধান অং সান সু চির কাছে জমা দেয় চলতি বছরের ২৪ আগস্ট। ৬৩ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই ২৪ আগস্ট দিবাগত রাতে ৩০টি পুলিশ ও সেনাচৌকিতে রহস্যজনক হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় নিহত হয় নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ সদস্য। তার পরই হামলার জন্য রোহিঙ্গাদের দায়ী করে জবাব হিসেবে সেনাবাহিনী পুরো অঞ্চলে হত্যাযজ্ঞ শুরু করে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে