বগুড়ায় বিদ্যুৎ মিলছে ৮ ঘণ্টা

  নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া

০৭ অক্টোবর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বগুড়ায় বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে নাকাল হয়ে পড়েছে মানুষ। শহর ও গ্রামে সমানতালে চলছে লোডশেডিং। দিনে গড়ে ছয় থেকে সাত ঘণ্টা লোডশেডিং চলছে। এমনকি প্রচ- গরমে মধ্যরাতেও চলে লোডশেডিং। ঘনঘন লোডশেডিংয়ে জনদুর্ভোগের পাশাপাশি কলকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিদ্যুৎ মিলছে গড়ে ৮ ঘণ্টা। বগুড়া বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ (১) সূত্রে জানা যায়, বগুড়ায় পিডিপি ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মোট চাহিদা প্রায় ৯০ মেগাওয়াট। কিন্তু চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ মিলছে মাত্র ৭০ থেকে ৭৫ মেগাওয়াট। কখনো কখনো ৬০ থেকে ৬৫ মেগাওয়াটও।

বগুড়া বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ ১ ও ২-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, বগুড়া বিদ্যুৎ বিভাগের তিনটি ডিভিশন। এর মধ্যে ডিভিশন ১-এর বিদ্যুৎ চাহিদা ২৪ মেগাওয়াট। পাওয়া যাচ্ছে ১৬ থেকে ১৮ মেগাওয়াট। ডিভিশন ২-এর বিদ্যুৎ চাহিদা রয়েছে ২৬ মেগাওয়াট। পাওয়া যাচ্ছে ১৯ মেগাওয়াট।

পিডিবির বগুড়া অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবদুর রশিদ বলেন, বগুড়া সঞ্চালন কেন্দ্রের আওতাধীন বগুড়া, জয়পুরহাট ও নওগাঁ জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ১৯০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে বগুড়ায় ১৪৫, জয়পুরহাটে ১৫ এবং নওগাঁ জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ৩০ মেগাওয়াট। অথচ বর্তমানে সঞ্চালন লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ মিলছে গড়ে চাহিদার ৫০ শতাংশ। বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ, বেড়ার বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন ৫০ শতাংশসহ আরও কয়েকটি উৎপাদন কেন্দ্রে বিপর্যয়ের কারণে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সংকটে পড়েছে।

এদিকে প্রচ- গরম ও বিদ্যুতের বিরামহীন লোডশেডিংয়ে কলকারখানায় উৎপাদনে বিপর্যয় নেমে এসেছে। হিমাগারে রাখা কয়েক লাখ টন আলুর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন চাষিরা। সামনে বোরো মৌসুম। বগুড়া থেকে সারা দেশে কয়েক হাজার কোটি টাকার কৃষি যন্ত্রাংশ বেচাকেনা কর্মযজ্ঞ চলে এই সময়েই। বিদ্যুতের অব্যাহত লোডশেডিংয়ের কারণে এসব ক্ষুদ্র মিলকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। বিসিক শিল্পনগরীতে গড়ে ওঠা শিল্পকারখানায় বিদ্যুতের অভাবে উৎপাদন কমে গেছে। বেড়ে গেছে উৎপাদন ব্যয়।

বগুড়ার যন্ত্র প্রকৌশলী আমির হোসেন বলেন, এবারে ভয়াবহ বন্যায় বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতি পুষিয়ে ওঠার পথ হলো বোরো মৌসুমে দ্বিগুণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করা। কিন্তু বিদ্যুতের কারণে সেটি সম্ভব হচ্ছে না।

শহরের নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী আবদুল হাই বলেন, দিনে-রাতে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং চলছে। দিনের বেলা বিরামহীন লোডশেডিং। সন্ধ্যাতেও বিদ্যুৎ মিলছে না। বিদ্যুতের এ পরিস্থিতির কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে এসেছে।

জলেশ্বরীতলা আবাসিক এলাকার গ্রাহক কবির উদ্দিন শেখ বলেন, সন্ধ্যায় ও রাতে আবাসিক এলাকায় ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে প্রাণ ওষ্ঠাগত।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে