সংসদে প্রতিদিনই থাকে কোরাম সংকট, তবু চলে অধিবেশন

  আসাদুর রহমান

১৯ জুন ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১৯ জুন ২০১৭, ০০:৪৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফাইল ফটো
কোরাম সংকটের কারণে প্রায় প্রতিদিনই জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হতে বিলম্ব হয়। শুধু তাই নয়, কোরাম সংকটেও চলে অধিবেশন কার্যক্রম! আগে এ নিয়ে মাঝেমধ্যে স্বতন্ত্র সাংসদদের কেউ কেউ স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেন। সম্প্রতি তা-ও বলতে দেখা যাচ্ছে না কাউকে।

প্রসঙ্গত, সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, অধিবেশন শুরু করতে হলে ন্যূনতম ৬০ জন সংসদ সদস্যের উপস্থিত থাকতে হয়, যেটাকে কোরাম বলা হয়।

গতকাল সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে পূর্বনির্ধারিত সময় সকাল সাড়ে ১০টায় অধিবেশন কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কোরাম সংকটের কারণে শুরু করা যায়নি। আধা ঘণ্টা পরে কার্যক্রম শুরু হয়। অধিবেশনের শেষভাগে কোরাম সংকটেই চলে অধিবেশন কার্যক্রম। ৩টা ২০ মিনিটে ২০১৭-১৮ সালের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা করছিলেন জাসদের সাংসদ লুৎফা তাহের। এ সময় অধিবেশন কক্ষে উপস্থিত ছিলেন ৪৯ জন সাংসদ। অথচ ৬০ জন না হলে কোরাম পূর্ণ হয় না। এরপরে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের জাতীয় পার্টির সাংসদ মোহাম্মদ নোমান আলোচনা শুর করেন। তাকে ১৫ মিনিট সময় দেওয়া হয়। এ সময় মোহাম্মদ নোমান বলেন, মাননীয় স্পিকার আমাকে রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায়ও সময় কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল, আজও কমিয়ে দেওয়া হলো। তখন সভাপতির আসেন ছিলেন ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া। তিনি বলেন, আপনার চিফ হুইপ আপনাকে ২০ মিনিট সময় দিয়েছেন। সেখান থেকে আমি ১৫ মিনিট করেছি। আপনি হাউসের অবস্থা দেখেছেন। ভালো বক্তব্য রাখলে সময় বাড়িয়ে দেওয়া হবে। এ সময় অধিবেশন কক্ষে উপস্থিত ছিলেন ৫১ জন সাংসদ। এরপরে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ-১ আসনের সাংসদ জুয়েল আরেং। সে সময় অধিবেশন কক্ষে উপস্থিত ছিলেন ৫২ জন সাংসদ।

গত ১৫ জুন ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া অধিবেশন কক্ষে সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন। ওইদিন বাজেট আলোচনায় কয়েকজন সংসদ সদস্য সময় বেশি চাইলে ডেপুটি স্পিকার বলেন, আপনারা সবাই পরে বক্তব্য দিতে চান। শনিবার সংসদে আসতে চান না। সংসদে ঠিকমতো উপস্থিতও থাকেন না।

এরআগে গত ১১ জুন কোরাম সংকটে সংসদ অদিবেশন কার্যক্রম চলে। সেদিন দুপুর ২টা ২০ মিনিটে অধিবেশন কক্ষে মোট ৪৮ জন সাংসদ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় দেখা যায় জাতীয় সংসদের হুইপ শহিদুজ্জামান সরকার দ্রুত অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। তিনি বাইরে যাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই কয়েকজন সাংসদ অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন। ২টা ২৭ মিনিটে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করে ওনার নির্ধারিত আসনে না বসে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকুর পাশের চেয়ারে গিয়ে বসেন। এ সময় বাজেটের ওপর আলোচনা করছিলেন সাংসদ এম এ মালেক। ২টা ৩৬ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী নির্ধারিত আসনে বসেন। পরে ফিরোজ বেগম চিনুর আলোচনা শেষে দিনের কার্যক্রম শেষ হয়। তখনো উপস্থিতি ছিলেন ৬০ জনের কম।

সম্প্রতি দেখা গেছে, কোনো দিনই সংসদ কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ে শুরু হয় না। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদ ভবনে পৌঁছে সরাসরি অধিবেশন কক্ষে যান। তখন অধিবেশন কক্ষে ১৬ জন সাংসদ উপস্থিত। প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্যের অনুপস্থিতির কারণে অধিবেশন আধাঘণ্টা দেরিতে শুরু হয়েছে। রমজান মাস হওয়ায় চলমান বাজেট অধিবেশন প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হয়। তবে প্রায়ই দিনই সংসদের বৈঠক শুরু হতে ১৫-২০ মিনিট দেরি হচ্ছে।

উল্লেখ্য, দেশের জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনের সদস্যসহ মোট ৩৫০ জন সাংসদ রয়েছেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে