‘২০-৩০ জন নিয়ে মরতে হবে’

র‍্যাবের সঙ্গে ২৪ বার কথা হয় জঙ্গি আব্দুল্লাহর # পরিকল্পনা ছিল দেড় হাজার বোমা তৈরির

  হাবিব রহমান

১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০০:২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

‘আমরা আজকে আছি, কালকে নাই। মরার আগে ২০-৩০টা নিয়েই মরতে হবে। একজন আমির তিন বছরের বেশি থাকছে। কিন্তু কোনো মারা বা মরা নাই! এই আমিরের কোনো দাম নাই। যত বেশি মারতে পারবে, আমিরের যোগ্যতা তত বেশি। আমিরের দলের যোগ্যতাও তত বেশি। মারো এবং মরো। মরার মধ্যেই সাফল্য।’ এটাই ছিল নিহত জঙ্গি আব্দুল্লাহর দর্শন। মিরপুরের দারুসসালামের জঙ্গি আস্তানা থেকে উদ্ধার হওয়া নথিপত্রের বরাত দিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। ওই আস্তানা থেকে বিস্ফোরক-বোমা উদ্ধারের পাশাপাশি বিপুল নথিপত্র পাওয়া গেছে। গুরুত্বপূর্ণ এসব নথি আরও পর্যালোচনা করছে র্যাব।

এদিকে নিরপরাধ নারী-শিশুদের বাঁচাতে জঙ্গি আব্দুল্লাহর সঙ্গে এক ঘণ্টা ৪০ মিনিট ২৭ সেকেন্ড কথা বলে র্যাব। ২৪ বার জঙ্গি আব্দুল্লাহকে আত্মসমর্পণের জন্য চেষ্টা (নেগোশিয়েট) করে। বারবার আত্মসমর্পণে রাজি হলেও, মূলত কালক্ষেপণই ছিল তার টার্গেট বলে ধারণা করছেন র্যাব কর্মকর্তারা।

অভিযানসংশ্লিষ্ট র্যাব সূত্র জানায়, জঙ্গি আস্তানার বোমা তৈরির ল্যাব থেকে অন্তত দেড় হাজার ইগনিশন কর্ড উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি বোমা তৈরিতে একটি করে ইগনিশন কর্ড প্রয়োজন হয়। র্যাবের ধারণা, এই বিপুল পরিমাণ ইগনিশন কর্ড দিয়ে অন্তত দেড় হাজার বোমা তৈরির পরিকল্পনা ছিল আব্দুল্লাহর। উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এসব বোমা হতে পারত মারাত্মক নিরাপত্তা হুমকির কারণ।

র্যাব জানায়, বেশ কয়েকটি কার্টন ভর্তি বোমা-বিস্ফোরক পাওয়া গেছে। কার্টনগুলো প্যাকেটিং করার ধরন দেখে র্যাব মনে করছে, এগুলো অন্য কোথাও পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল আব্দুল্লাহর।

এ বিষয়ে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান আমাদের সময়কে বলেন, প্যাকেটিংয়ের ধরন দেখে আমাদের সন্দেহ হয়েছে। অন্য কোথাও এসব পাঠানো হয়েছিল কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গত ৪ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা থেকে দারুসসালামের বর্ধনবাড়ির ২/৩-বি নম্বর ‘কমল প্রভা’ বাড়ির ৫ম তলার একটি ফ্ল্যাট ঘিরে রাখা হয়। রাতেই সেখান থেকে র্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ও বোমা নিক্ষেপ করেন আব্দুল্লাহ। অভিযানের প্রথম থেকেই র্যাবের পক্ষ থেকে আব্দুল্লাহকে আত্মসমর্পণের জন্য বলা হয়। এরই মধ্যে ওই ভবনের অন্য বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নেয় র্যাব। পরে আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে আব্দুল্লাহকে আত্মমর্পণের জন্য চেষ্টা করা হয়। সবাইকে নিয়ে আত্মসমর্পণে রাজিও হন তিনি। এক পর্যায়ে গত মঙ্গলবার রাত পৌনে ১০টার দিকে চার থেকে পাঁচটি শক্তিশালী রাসায়নিক বিস্ফোরণ ঘটান আব্দুল্লাহ। এতে ভবনে আগুন লেগে যায়। এ সময় মুহুর্মুহু গুলির শব্দও শোনা যায়। পরদিন ওই আস্তানা থেকে জঙ্গি আব্দুল্লাহসহ সাতজনের মাথার খুলি ও পুড়ে যাওয়া হাড়গোড় উদ্ধার করা হয়। এদের মধ্যে তার দুই শিশু সন্তান, দুই স্ত্রী ও দুজন কর্মচারী ছিলেন বলে ধারণা করছে র্যাব।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে