ক্যাসিনির মহামরণ

  জাহাঙ্গীর সুর

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

২০ বছরের সফল অভিযাত্রা শেষে আন্তর্জাতিক মহাকাশযান ক্যাসিনির মৃত্যু ঘটছে আগামীকাল শুক্রবার। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে সৌরজগতের বলয়গ্রহ শনির গায়ে আছড়ে পড়ে ‘স্বেচ্ছা মরণবরণ’ করবে স্কুলবাস আকারের এ মহাকাশযান। এ নিয়ে এ প্রতিবেদকের কাছে মিশনের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী তাদের ‘মন খারাপের কথা’ বলেছেন।

ক্যাসিনি মহাকাশযান ১৯৯৭ সালের ১৫ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ ক্যানেভেরাল থেকে উড়ে গিয়েছিল। ২০০৪ সালে এটি শনিগ্রহের কক্ষপথে প্রবেশ করে। এর পর সফলভাবে ১৩ বছর শনি ও এর প্রাকৃতিক উপগ্রহ তথা চাঁদগুলোকে পর্যবেক্ষণ করেছে ক্যাসিনি।

ক্যাসিনির সঙ্গে একমাত্র যাত্রী হিসেবে ছিল হাইগেনস ল্যান্ডার, যা শনির বড় চাঁদ টাইটানে অবতরণ করে ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে। অভিযাত্রায় শনির অন্তত ছটি চাঁদ আবিষ্কার করে ক্যাসিনি। এবং হাইগেনস মিলে টাইটান ও এনসেলাডাস চাঁদে খুঁজে পেয়েছে বরফজলের সাগর ও মিথেন লেক।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাকাশ সংস্থা নাসা, ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা ইসা এবং ইতালির মহাকাশ সংস্থা আসিÑ এই তিন সংস্থার বিজ্ঞানীরা একযোগে শনিগ্রহের রহস্য উন্মোচন করার জন্য ক্যাসিনি মিশন পরিচালনা করছেন।

১৫ সেপ্টেম্বর যখন ক্যাসিনি আছড়ে পড়বে শনির গায়ে, তখন কেমন অনুভূতি ছুঁয়ে যাবে সেই বিজ্ঞানীদের, যারা ২০ বছরের বেশি সময় ধরে এই মিশনের সঙ্গে রয়েছেন?

ক্যাসিনি অভিযানের আসি দলের প্রধান, প্রজেক্ট ম্যানেজার এনরিকো ফ্লামিনি। তিনি ইমেইল সাক্ষাৎকারে এই প্রতিবেদককে বলেছেন, ‘১৫ সেপ্টেম্বর সকালে আমার মনের কী অবস্থা হবে, তা আমি বোঝাতেই পারব না। কিন্তু আমি জানি, পর দিন আমি একা বসে রইব প্রশান্ত মহাসাগরের সামনে। এবং সম্ভবত আমার চোখে শুধু সকালের কুয়াশাই থাকবে এমন নয় মোটেও।’ ভেতর থেকে জলে যে চোখ ভিজে উঠবে, সেই কথা বলেছেন ড. ফ্লামিনি।

নাসার বিজ্ঞানী জোশুয়া কলওয়েল কথা বলেছেন এই প্রতিবেদকের সঙ্গে। ইমেইল আলাপচারিতায় ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার পদার্থবিজ্ঞানের এই অধ্যাপক বলেছেন, ‘জানি না, তখন ঠিক কেমন লাগবে আমার। এখানে সময়টা হবে খুব সকালের দিকে। সম্ভবত আমি খুব ক্লান্ত থাকব।’ বিজ্ঞানীরা ক্যাসিনির আত্মঘাতী মহাক্ষণকে উদযাপন করার জন্য মাসখানেক থেকেই মহাব্যস্ততায় সময় পার করছেন।

নাসার আরেক বিজ্ঞানী ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লসঅ্যাঞ্জেলেসের গবেষক কৃষান খুরানা এই প্রতিবেদককে দেওয়া দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘মুহূর্তটা হবে আমার জন্য একটা কষ্টকর অভিজ্ঞতা। আমি ২০ বছর ধরে প্রজেক্টে আছি। ম্যাগনেটোমিটার ব্যবহার করে শনি ও এর চাঁদগুলোকে জানার চেষ্টায় নিমগ্ন ছিলাম আমি।’

ইসার প্রজেক্ট সায়েন্টিস্ট নিকোলাস আলতোবেলি এই প্রতিবেদককে ইমেইলে বলেছেন, ‘আমি ২০০১ সাল থেকে মিশনে আছি। আমার জন্য ক্যাসিনির মহামরণের মুহূর্তটা খুব আবেগঘন লাগবে। কারণ আমি যখন মিশনে যোগ দিই তখন আমি পিএইচডির শিক্ষার্থী। ক্যাসিনি আর আকাশে উড়ছে না, এটি জানার পর থেকে মনে হবেÑ আমার সব শেষ হয়ে গেল।’

শনি সৌরজগতের ষষ্ঠ গ্রহ, পৃথিবী থেকে যার গড় দূরত্ব ১২০ কোটি কিলোমিটার। শনিতে অভিযান চালানো মহাকাশযানের মধ্যে ক্যাসিনি চতুর্থ। তবে বলয়গ্রহটির কক্ষপথে ঢুকে পড়ার দিক থেকে এটিই প্রথম অরবিটার।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে