আজ রাজশাহী যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

উদ্বোধন করবেন ২২ প্রকল্প

  আলী আসিফ শাওন ও আমজাদ হোসেন শিমুল, রাজশাহী থেকে

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণে উন্নয়নের বার্তা নিয়ে তার সরকারের মেয়াদকালে চতুর্থবারের মতো আজ রাজশাহীতে আসছেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সফরের অংশ হিসেবে আজ দুপুরে তিনি জেলার পবা উপজেলার হরিয়ান চিনিকল মাঠে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন। এর আগে সকালে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি সারদায় শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

একদিনের এ সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীতে ১৬টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এ ছাড়া বাস্তবায়িত আরও ৬টি প্রকল্প উদ্বোধন করবেন। রাজশাহীর নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) শরীফ আসিফ রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফর কেন্দ্র করে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও প্রশাসন। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে রাজশাহীর আনাচে-কানাচে ব্যানার-ফেস্টুন-প্ল্যাকার্ড আর তোরণে ভরে গেছে।

আজকের জনসভা থেকে আগামী সিটি করপোরেশন ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে নির্বাচনের দিকনির্দেশনা দিতে পারেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী আজকের সফরে এসে প্রায় ৭০০ কোটি টাকার মোট ২২টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এগুলোর মধ্যে যে ১৬টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রকল্প হলো বঙ্গবন্ধু হাই-টেক পার্ক নির্মাণ। রাজশাহী মহানগরীর নবীনগর এলাকায় ৩১ দশমিক ৬৩ একর জমিতে ২৩৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে পার্কটির নির্মাণকাজ এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। ডিজিটাল ইকোনমিক হাব হিসেবে নির্মিতব্য এই পার্কে প্রায় ১৪ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এখানেই তৈরি হবে বিশ্বমানের সফটঅয়্যার।

প্রধানমন্ত্রী এই হাই-টেক পার্ক ছাড়াও ‘তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে নির্বাচিত বেসরকারি কলেজ (আইসিটি) সমূহের উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় গোদাগাড়ী উপজেলার গুলগোফুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের চারতলা একাডেমিক ভবন এবং মোহনপুর উপজেলার পাকুড়িয়া কলেজ ও বাগমারার মাড়িয়া কলেজের চারতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এ ছাড়া চারঘাট টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের উন্নয়ন কাজের এবং তানোরের চান্দুড়িয়া এলাকার ডা. আবু বকর হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাডেমিক ভবন নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন তিনি।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের তালিকায় আরও রয়েছে জেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসের ভবন নির্মাণ, মহানগরীর সোনাইকান্দি থেকে বুলনপুর পর্যন্ত শহররক্ষা বাঁধ নির্মাণ, গোদাগাড়ী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ, মহানগরীর তালাইমারী চত্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্কয়ার নির্মাণ, কোর্ট স্টেশন থেকে বাইপাস এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) থেকে নাটোর বাইপাস পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ, রাজশাহী সরকারি শিশু হাসপাতাল, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) বারনই আবাসিক এলাকা উন্নয়ন ও প্রান্তিক আবাসিক এলাকা উন্নয়ন এবং রাজশাহী মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান দুর্যোগ ঝুঁকি সংবেদনশীলকরণ প্রকল্প।

প্রধানমন্ত্রী তার সফরে আরডিএর বনলতা বাণিজ্যিক এলাকার সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করবেন। আরও উদ্বোধন করবেন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের জেলা অফিস ভবন, তানোর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সম্প্রসারিত ভবন।

উদ্বোধনের তালিকায় আরও রয়েছে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত পবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মহানগরীর টিকাপাড়া এলাকার আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সেন্টারের ছয়তলা ভবন এবং সম্প্রসারণ করা বাগমারা উপজেলা পরিষদের হলরুম।

রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন জানান, হরিয়ানের জনসভায় প্রায় পাঁচ লাখ নেতাকর্মী ও সমর্থক সমাগমের টার্গেট নেওয়া হয়েছে। বেশ কয়েকদিন আগে থেকে বর্ধিত সভা-সমাবেশ, মিছিল ও প্রচার চালানো হয়েছে। এ জনসভা থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জন্য নির্বাচনের দিকনির্দেশনা আসতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, নগর সভাপতি ও সাবেক সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, আগামী বছর শুরুর দিকে সিটি করপোরেশন এবং শেষের দিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে পারে। ইতোমধ্যে দলের হাইকমান্ড থেকে বেশ কিছু নির্দেশনা নেতাকর্মীদের কাছে এসেছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে রাজশাহীজুড়ে নেওয়া হয়েছে নিñিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা। জনসভাস্থলে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) নিরাপত্তার প্রধান দায়িত্বে থাকবে। চারপাশে প্রচুর পুলিশ, গোয়েন্দা ও র‌্যাবের সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। যানজট নিরসনে মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতে খায়ের আলম জানান, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে ইতোমধ্যে এসএসএফ থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।

ট্রাফিক ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী ও নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়ক দিয়ে জনসভা অভিমুখী গাড়ি মাহেন্দ্রা বাইপাসসংলগ্ন এলাকায় পার্কিং করতে হবে। নাটোর-রাজশাহী মহাসড়ক দিয়ে জনসভা অভিমুখী গাড়ি কাটাখালী জুট মিল মাঠে ও সংলগ্ন নর্দার্ন পাওয়ার প্ল্যান্ট এলাকায় পার্কিং করতে হবে। তবে ভিআইপি ও স্টিকারযুক্ত গুরুত্বপূর্ণ জিপ ও মাইক্রোবাস জাতীয় গাড়ি জনসভাসংলগ্ন মাঠ ও মাঠের আশপাশে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজশাহীতে এটি চতুর্থ সফর। এর আগে ২০১১, ২০১৩ ও ২০১৪ সালে রাজশাহী সফর করেন তিনি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে