প্রজনন স্বাস্থ্যবিষয়ক পাইলট প্রোগ্রাম চালু হচ্ছে মাধ্যমিকে

  দুলাল হোসেন

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কৈশোরকালীন প্রজনন স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি প্রোগ্রামসহ পাঁচটি পাইলট প্রোগ্রাম চালুর পরিকল্পনা করেছে সরকার। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ এসব প্রোগ্রাম চালুর বিষয়ে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

গত ৩১ আগস্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (জনসংখ্যা, পরিবার কল্যাণ ও আইন) কাজী আ খ ম মহিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, নবসৃষ্ট স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে সম্প্রতি ইনোভেশন টিম গঠন এবং টিমের প্রথম সভা গত ১৮ জুলাই সচিবালয়ের স্বাস্থ্য মন্ত্রণলায়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সেবাবিষয়ক মাঠপর্যায়ের (উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা) কর্মকর্তারা তাদের উদ্ভাবিত ছয়টি পাইলট প্রস্তাব পাওয়ার পয়েন্ট আকারে উপস্থাপন করেছেন।

এসব পাইলট প্রস্তাবগুলো হচ্ছেÑ (১) মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কৈশোরকালীন প্রজনন স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রচারসংক্রান্ত পাইলট প্রস্তাব, (২) নববিবাহিত দম্পতিদের (বাল্যবিয়ের শিকার) গর্ভধারণরোধকল্পে সেবা নিশ্চিতকরণ, (৩) অংশগ্রহণকারী দম্পতিদের পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতির আওতায় আনা, (৪) ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র পরিচালনা কমিটি সক্রিয়করণের মাধ্যমে সেবার গুণগতমান উন্নয়ন, (৫) প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারি বৃদ্ধিকরণ ও (৬) নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিতকল্পে ৪টি এএনসি সেবা প্রদানে এসএমএস ও ফোনকল পদ্ধতির ব্যবহার। সভায় পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কর্তৃক উপস্থাপিত ছয়টি উদ্ভাবনী পাইলট প্রস্তাব কিছু পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা প্রদানসাপেক্ষে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে মর্মে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে চিঠিতে জানানো হয়।

সভায় এসব পাইলট প্রস্তাব পেশ করেন পঞ্চগড় সদর পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সাবিহা কবির, মুন্সীগঞ্জ সদর পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আবদুল মান্নান, ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেন, ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নাহিদা সুলতানা, ময়মনসিংহ সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কাজী মাহফুজুল করিম, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আলী আমজাদ দপ্তরী।

প্রতিটি উদ্ভাবনী পাইলট প্রস্তাব উপস্থাপনের পর স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের ইনোভেশন টিমের সদস্য, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের ইনোভেশন টিমের প্রতিনিধি ও এটুআই প্রোগ্রামের প্রতিনিধিরা পাইলট প্রস্তাব পর্যালোচনাপূর্বক অধিক সমৃদ্ধ সাধনে কিছু পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কৈশোরকালীন প্রজনন স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রচারসংক্রান্ত পাইলট প্রস্তাব সম্পর্কিত পরামর্শ ও দিকনির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রচারের উদ্দেশ্যে মাল্টিমিডিয়া অডিও-ভিডিও ডকুমেন্টরি প্রদর্র্শনের ব্যবস্থা রাখতে হবে; পাইলট প্রস্তাব বাস্তবায়নে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করতে হবে; প্রস্তাবটির বিষয়ে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সচেতন করার ব্যবস্থা নিতে হবে।

নববিবাহিত দম্পতিদের (বাল্যবিয়ের শিকার) গর্ভধারণরোধকল্পে সেবা নিশ্চিতকরণ পাইলট প্রস্তাব সম্পর্কিত পরামর্শ ও দিকনির্দেশনায় বলা হয়, বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বাল্যবিয়ের ছবিসহ বাল্যবিয়ের কুফল সম্পর্কিত ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে এবং পাইলট প্রোগ্রামের আওতায় বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে নিবিড় পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষণ ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা রাখতে হবে।

ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র পরিচালনা কমিটি সক্রিয়করণের মাধ্যমে সেবার গুণগতমান উন্নয়ন পাইলট প্রস্তাব সম্পর্কিত পরামর্শ ও দিকনির্দেশনায় বলা হয়েছে, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের ইনোভেশন টিমের সঙ্গে আলোচনা করে প্রস্তাবটি সমৃদ্ধ করতে হবে; বিদ্যমান কমিটির সভা উপলক্ষে সদস্যদের প্রণোদনা প্রদানের ব্যবস্থা রাখতে হবে; সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা মেম্বারকে এই প্রোগ্রামের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখতে হবে; পাইলট প্রোগ্রামের আওতায় বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে নিবিড় পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষণ ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা রাখতে হবে।

প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারি বৃদ্ধিকরণ পাইলট প্রস্তাব সম্পর্কিত পরামর্শ ও দিকনির্দেশনায় বলা হয়েছে, গর্ভবতীর বাড়ি চিহ্নিতকরণে লাল পতাকার পরিবর্তে সবুজ বা অন্য কোনো রঙের পতাকা উত্তোলন বা অন্য কোনো প্রতীক ব্যবহার করতে হবে; পাইলট প্রোগ্রামের আওতায় বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে নিবিড় পর্যবেক্ষণ, মনিটরিং ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা রাখতে হবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের গত ২ জুলাইয়ের চিঠি অনুযায়ী স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অধীন দপ্তরগুলোকে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ইনোভেশনসংক্রান্ত কর্মপরিকল্পনা অতি দ্রুত প্রণয়ন করতে হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব পাইলট প্রোগ্রাম প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. কাজী মোস্তফা সারোয়ার বলেন, আমরা এ জাতীয় কাজগুলো প্রোগ্রাম করছি। পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে এসব ইনোভেটিভ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকেও ইনোভেটিভ কার্যক্রম চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমাদের কর্মকর্তারা ছয়টি প্রস্তাব দিয়েছেন। আমাদের কর্মকর্তাদের দেওয়া প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ইনোভেশন টিম কিছু পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা মন্ত্রণালয়ের থেকে দেওয়া প্রস্তাবগুলো যুক্ত করে পাইলটিং করব। এসব কার্যক্রম মানুষের কাছে আরও বেশি গ্রহণযোগ্য হবে। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে আমাদের কাজগুলো আরও গতিশীল হবে এবং আরও বেশি সফলতা পাওয়া যাবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে