মিয়ানমারে ইঞ্জেকশন দিয়ে রোহিঙ্গা শিশুদের হত্যা

  শাহজাহান আকন্দ শুভ

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রোহিঙ্গাদের জাতিগতভাবে নিধন করার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে গত বছরের শুরুতেই মাঠে নামে মিয়ানমার সরকার তথা সেনাবাহিনী। এরই অংশ হিসেবে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের জাতিসত্তাবিরোধী এনভিসি কার্ড (ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড) নিতে বাধ্য করে। যে কার্ড রোহিঙ্গাদের কাছে ‘বাঙালি অভিবাসী’ কার্ড হিসেবে চিহ্নিত। কার্ডে রোহিঙ্গাদের জাতীয়তা ‘বাঙালি’ এবং গোত্র ‘বাংলাদেশি’ লেখা ছিল। কিন্তু সব রোহিঙ্গা এই কার্ড গ্রহণে রাজি না হওয়ায় এই কৌশল থেকে কিছুটা পিছু হটে তারা। এরপরই তারা নিষ্পাপ রোহিঙ্গা শিশুদের নীরব হত্যাযজ্ঞ শুরু করে।

জানা গেছে, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ পোলিও টিকা দেওয়ার নামে জোর করে রোহিঙ্গা শিশুদের দেহে এক ধরনের ইঞ্জেকশন প্রয়োগ শুরু করে। যার প্রভাবে শিশুরা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং এক সময় মারা যায়। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী রাখাইন রাজ্যের মংডুর গ্রামগুলোয় বসবাসরত রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর শিশুদের ওপর এ ধরনের হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। এ ব্যাপারে গত বছর ২৭ ডিসেম্বর একটি গোয়েন্দা সংস্থা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গোপন প্রতিবেদন দাখিল করে। ওই ইঞ্জেকশনের বায়োলজিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্টের সঠিকতা ও কার্যকারিতা নিরূপণ করতে বিষয়টি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে জানাতে সুপারিশ করা হয় ওই গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে। এ ছাড়া সীমান্তে কর্মরত বিজিবিসহ অন্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সংস্পর্শে যাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রোহিঙ্গাদের ওপর এ ধরনের ইঞ্জেকশন প্রয়োগ উভয় দেশের সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত জনগোষ্ঠীর মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। যেসব রোহিঙ্গার দেহে এ ধরনের ইঞ্জেকশন প্রয়োগ করা হয়েছে, তাদের মাধ্যমে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসরত জনগোষ্ঠীর মধ্যেও সংক্রমণ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয় গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে।

গত বছর ৯ অক্টোবর থেকে মধ্য ডিসেম্বর পর্যন্ত রাখাইনের মংডু জেলার ৯টি গ্রামে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড পুলিশের সদস্যরা ধর্ষণ, গণধর্ষণ, আগ্রাসীভাবে দেহতল্লাশি ও যৌন হামলা চালায়। বন্দুকের নলের মুখেও রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণ করে।

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা অনেক রোহিঙ্গা বলেছেন, জাতিগতভাবে তাদের নিধন করতেই গত বছর এনভিসি কার্ড প্রদান শুরু করে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। যেসব রোহিঙ্গা এনভিসি কার্ড গ্রহণ করেনি তাদের গত বছর ১৯ মার্চ থেকে মংডু-কাওয়ারবিল ও মংডু-হাইচ্ছুরাতা সড়ক দুটি দিয়ে যাতায়াত বন্ধ করে দেয় মিয়ানমার সেনাবাহিনী। এনভিসি কার্ড ছাড়া কোনো রোহিঙ্গা যাতে ওই দুটি সড়কে উঠতে না পারে সেজন্য সেনাবাহিনীর টহলও শুরু করা হয়। যেসব রোহিঙ্গার কাছে এনভিসি কার্ড পাওয়া যায়নি তাদের মিয়ানমার সেনাবাহিনী নৃশংস নির্যাতন করে। অনেককে মেরেও ফেলে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে