প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর রোহিঙ্গাদের ঢল

  হামিদ উল্লাহ ও আবদুল্লাহ মনির, টেকনাফ থেকে

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১২:১৩ | প্রিন্ট সংস্করণ

আমরা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাশে রয়েছি এবং তাদের সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাবÑ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন ঘোষণার পর গতকাল ভোর থেকে রোহিঙ্গা আসার ঢল শুরু হয়েছে নতুন করে। স্থলপথের পরিবর্তে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়েই বেশিরভাগ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকে পড়ছে। এভাবে নৌকায় করে নাফ নদী পার হওয়ার সময় মঙ্গলবার রাতে ও গতকাল সকালে দুটি নৌকা ডুবে যায়। এ ঘটনায় নারী ও শিশুসহ আটজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজ রয়েছে আরও অন্তত ২০ জনের বেশি।

শাহপরীর দ্বীপের ভাঙ্গা এলাকায় গিয়ে দেখা যায় শরণার্থীদের নতুন ঢল। তাদের সঙ্গে আসছিলেন মংডু পেরামপ্রুর মোহাম্মদ ওমর। তিনি জানান, গত মঙ্গলবার রাতে মংডু মংনিপাড়া ঘাটে বাংলাদেশ থেকে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা গিয়ে ভেড়ে। ওই নৌকায় অন্তত ৪০ নারী, শিশু ও পুরুষ ওঠেন। এতে আমার দুই ভাগিনা ছিল। তাদের বাড়ি মংডুর হারিপাড়া। স্থানীয়দের কাছ থেকে শুনেছি, রাতে একটি নৌকা জলদস্যুদের কবলে পড়ে ডুবে যায়। এতে অনেক রোহিঙ্গা নিখোঁজ হয়। আজ (বুধবার) সকাল থেকে আমার ভাগিনাদের খোঁজে উপবূলীয় এলাকায় ঘুরেছি; কিন্তু তাদের পাইনি।

গতকাল ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত অন্তত আট হাজার রোহিঙ্গা শাহপরীর দ্বীপ দিয়ে বাংলাদেশে এসেছেÑ এমন তথ্য দিয়েছেন মংডুর খুনিয়াপাড়া থেকে আসা মোহাম্মদ ইউনুস। তিনি বলেন, গত মঙ্গলবার বিকাল থেকে রাখাইন উপকূলে আরও রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসার জন্য জড়ো হয়। তাদের মধ্যে আট হাজারের মতো চলে এসেছে। আরও পাঁচ হাজার জড়ো হয়েছে। মংডুর মেরংলোয়া বাহারছড়া থেকে আসা তৈয়ব খানের কাছেও এমন তথ্য পাওয়া গেল। তিনি বলেন, অনেক লোক চলে আসছে। আমরা শুনেছি আগামী দুদিনের মধ্যে সব লোক বাংলাদেশে চলে আসতে হবে। তাই দেরি না করে বউ-বাচ্চা নিয়ে চলে এসেছি। আমাদের মতো আরও অনেকেই আসবেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাশিবিরে আসার খবর রাখাইনে চাউর হয়ে যাওয়ার কথা জানান মংডুর রাচিত চাঙ্গানা এলাকা থেকে আসা মাদ্রাসাশিক্ষক নুর মোহাম্মদ (৪৫)। তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজা শেখ হাসিনার ভাষণ রাখাইনের রোহিঙ্গারা শুনেছে। তারা এ খবর শুনে চলে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমরা সপরিবারে আগেভাগে চলে এসেছি। নুর মোহাম্মদের ছোটভাই ছাবের আহমদ ছয় মাস আগে কৌশলে বাংলাদেশে চলে এসেছিলেন। এখন তিনি থাকেন কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার খুটাখালিতে। ভাই এবং পরিবারের অন্য সদস্যদেরও তিনি সেখানে নিতে চান। তবে এখনো নিজের স্ত্রীকে রাখাইন থেকে নিয়ে আসতে পারেননি ছাবের।

কথা বলে জানা যায়, তাড়াহুড়া করে আসতে গিয়ে অনেকেই পরিবারের সব সদস্যকে একসঙ্গে আনতে পারছেন না। যারা থেকে যায়, তাদের পরে আনা হয়। সেই পর্যন্ত পরিবারের লোকজন শাহপরীর দ্বীপ কিংবা টেকনাফ শহরে অবস্থান করে।

রোহিঙ্গারা তাদের সহায়-সম্বল ফেলে এলেও বেশিরভাগের হাতেই রয়েছে মোবাইল ফোন। ফলে রাখাইনে থেকে যাওয়া আত্মীয়দের সঙ্গে তারা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতে পারেন।

বিজিবি ২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল এসএম আরিফুল ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গারা আসার পর টেকনাফ শহর থেকে বিভিন্ন যানবাহনে করে তাদের শরণার্থীশিবিরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তাদের বেশিরভাগকেই বালুখালিতে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আসার পথে আমরা তাদের কোনো ধরনের বাধা দিচ্ছি না।

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে