ঘাঁটি বানাতে চায় আওয়ামী লীগ

প্রকাশ | ০৬ অক্টোবর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট: ০৬ অক্টোবর ২০১৭, ১১:০৯

আবু ইসহাক, সাঁথিয়া

একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের প্রচারণায় নির্বাচনী আমেজ শুরু হয়েছে পাবনা-১ (সাঁথিয়া-বেড়া) নির্বাচনী এলাকায়। আওয়ামী লীগ চায় আসনটিকে ঘাঁটি বানাতে, আর ২০ দলীয় জোটের মাধ্যমে জামায়াত চায় আসনটি পুনরুদ্ধার করতে।

এ অবস্থায় আওয়ামী লীগ থেকে সাবেক স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, নাকি সাবেক তথ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ড. আবু সাইয়্যিদ মনোনয়ন পাচ্ছেন তা নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। অন্যদিকে ২০ দলীয় জোট বিএনপি, নাকি জামায়াত থেকে প্রার্থী দেবে তা নিয়েও চলছে আলোচনা। কে কোন্্ দল ও জোট থেকে মনোনয়ন পাবেন, তা নিয়ে তুমুল আলোচনার মধ্যেই সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠ গরম করছেন নানা কর্মকা-ের মাধ্যমে। আর সমর্থকরা নিজেদের সম্ভাব্য প্রার্থীর মনোনয়ন প্রাপ্তির পক্ষে সরগরম করে তুলেছেন চায়ের আড্ডা।

নির্বাচনী এলাকার সাঁথিয়া উপজেলায় এক পৌরসভা ও ১০ ইউনিয়নে মোট ভোটার ২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৮২ জন। আর বেড়া উপজেলায় এক পৌরসভা ও চার ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৮ হাজার ৫৩৪।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ সময় সরকারি দলে থাকায় স্থানীয় এমপি অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, সাঁথিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ দেলোয়ার ও সাধারণ সম্পাদক তপন হায়দার সানের সঙ্গে তৃণমূল (ওয়ার্ডপর্যায়) আওয়ামী লীগের দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। একই অবস্থা বেড়া উপজেলায়ও। তবে নির্বাচনের দিন যতই এগিয়ে আসছে, ততই সব কোন্দল মিটিয়ে নির্বাচনমুখী হওয়ার চেষ্টা করছেন শামসুল হক টুকু।

এ আসন থেকে এবার দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু। তিনি ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে পরাজিত করে এমপি হন। পরে সরকারের বিদ্যুৎ-জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ও পরে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হন। ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনেও তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান। তার বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী নেতা অধ্যাপক ড. আবু সাইয়্যিদ। নির্বাচনে আবু সাইয়্যিদকে পরাজিত করে বিজয়ী হন টুকু। এর আগে ১৯৭০ ও ১৯৯৬ সালে এ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন অধ্যাপক ড. আবু সাইয়্যিদ। একাদশ সংসদ নির্বাচনেও এই দুই নেতা আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে আলোচনায় আছে মুক্তিযুদ্ধকালীন কমান্ডার, সাঁথিয়া উপজেলা পরিষদের তিনবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ দেলোয়ার।

এ আসন থেকে জামায়াতের সাবেক আমির ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদ-প্রাপ্ত মতিউর রহমান নিজামী ১৯৯১ ও ২০০১ সালে বিজয়ী হয়েছিলেন। সাঁথিয়ায় জামায়াতের বেশ কিছু ভোট থাকায় আসনটি পুনরুদ্ধারের কৌশল আঁটছে দলটি। ২০ দলীয় জোটের শরিক হিসেবে বেড়া উপজেলা জামায়াতের আমির ডা. আব্দুল বাসেত খানকে আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান নেতাকর্মীরা। এখানে বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীÑ কেন্দ্রীয় তাঁতি দলের সহসভাপতি ব্যবসায়ী ইউনুস আলী, কর্মজীবী দলের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহসভাপতি ধোপাদহ ইউপি চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দীন খান পিপিএম।

এ ছাড়া জাতীয় পার্টি থেকে কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি সরদার শাহজাহান নানা তৎপরতার মাধ্যমে নিজের প্রার্থীতা জানান দিচ্ছেন।

উল্লেখ্য, ভোটের দিক থেকে বেড়া উপজেলা সাঁথিয়ার এক-তৃতীয়াংশের সমান হলেও এলাকার উন্নয়নসহ নানা বৈষ্যম্যের কারণে দীর্ঘদিন ধরে সাঁথিয়া উপজেলাকে একক নির্বাচনী এলাকা করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে সাঁথিয়াবাসী।