কাঁচামরিচের কেজি ৩০০ টাকা, শিম ২০০

প্রকাশ | ০৭ অক্টোবর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট: ০৭ অক্টোবর ২০১৭, ০০:২১

হায়াতুজ্জামান মিরাজ, আমতলী

বরগুনার আমতলী ও তালতলী উপজেলায় সবজির দাম তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অতিবৃষ্টিতে ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় সবজির গাছ পচে গেছে। চাহিদার তুলনায় জোগান কম হওয়ায় বাজারে সবজির প্রচুর সংকট দেখা দিয়েছে। এ সুবাদে ব্যবসায়ীরা তিনগুণ দামে সবজি বিক্রি করছেন; আর ক্রেতারা কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন। এদিকে সবজি চাষিদের সর্বনাশ। আমতলী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, আমতলী ও তালতলী উপজেলায় এ বছরে সবজির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৭০০ হেক্টর। বছরের শুরুতে সবজির ভালো ফলন হয়েছিল। দামও ছিল ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে অতিবর্ষণে জলাবদ্ধতার কারণে সবজির ক্ষেত পচে তেমন ফসল পাওয়া যাচ্ছে না। বাজারে সবজির সংকট ও উত্তরাঞ্চল থেকে তেমন সবজি না আসায় দাম কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। জলাবদ্ধতায় সবজি ক্ষেত তলিয়ে গাছ পচে যাওয়ায় চাষিদের ব্যপক সর্বনাশ হয়েছে।

কাউনিয়া গ্রামের কৃষক জামাল হোসেন জানান, ৩০ হাজার টাকা খরচ করে ৬৪ শতাংশ জমিতে সবজি চাষ করেছিলাম। কিন্তু বৃষ্টিতে ক্ষেতের সব গাছ পচে গেছে। তিনি আরও জানান, এ বছর ৩০ হাজার টাকাই লোকসান।

শাহজাহান শিকদার জানান, ৪০ হাজার টাকা খরচ করে এক একর জমিতে সবজি চাষ করেছিলাম। অতিবৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতায় সবজির ক্ষেত তলিয়ে গেছে। সবজি গাছ পচে যাওয়ায় কোনো ফসল হয়নি।

গতকার শুক্রবার আমতলী বাঁধঘাট ও তালুকদার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কাঁচামরিচ ৩০০ টাকা, শিম ২০০, লালশাক ৭০-৮০, করলা ৬০-৭০, ঢেঁড়স ৬০-৭০, মিনা ৫০-৬০, বরবটি ৫০-৬০, মিষ্টিকুমড়া ৩৫-৪০, পটোল ৫০-৬০, রেহা ৪০-৫০ ও মুলা ৫০-৫৫ টাকা কেজিতে এবং এক কেজি ওজনের ছোট লাউ ৬০-৭০, দেড় কেজি ওজনের বড় লাউ ৯০-১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব সবজি পনেরো দিন আগেও তিন ভাগের এক ভাগ দামে বিক্রি হয়েছে। ক্রেতা সিদ্দিকুর রহমান স্বপন বলেন, বাজারে তেমন ভালো কোনো সবজি পাইনি। যা পেয়েছি তার দাম অনেক বেশি।

শিক্ষক ফখরুল শাহ আলামিন বলেন, বাজারে সবজির সংকট থাকায় দাম কয়েকগুণ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারে দেশি জাতের কাঁচামরিচ ৩০০ টাকা, শিম ২০০, করলা ৬০, ঝিঙা ৫৫ টাকা কেজি দরে কিনতে হয়েছে। তিনি আরও জানান, পনেরো দিন আগে এ সবজি তিন ভাগের এক ভাগ দামে কিনেছি।

আমতলী কাঁচাবাজারের ক্ষুদ্র সবজি ব্যবসায়ী সেলিম খান ও সোহেল মিয়া জানান, গ্রামাঞ্চল থেকে কৃষক সবজি নিয়ে আসছেন না। যা নিয়ে আসছেন তা দিয়ে চাহিদা পূরণ হয় না। তাই সবজির দাম কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।

কাঁচামাল আড়ত সমিতির সভাপতি মো. সাইরাজ মৃধা বলেন, উত্তরাঞ্চলে সবজির উৎপাদন কম থাকায় আমতলীতে ওই অঞ্চল থেকে সবজি আসছে না। ফলে বাজারে সবজির সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদার তুলনায় জোগান কম থাকায় বাজারে সবজির দাম বেড়ে গেছে।

আমতলী কৃষি অফিসার এসএম বদরুল আলম জানান, সম্প্রতি বৃষ্টির পানিতে সবজির ক্ষেত তলিয়ে গাছ পচে গেছে। এতে সবজির উৎপাদন খুবই কম। ফলে সবজির সংকট দেখা দিয়েছে।