তৎপর দুই দলের ১৫ নেতা

  মো. আব্দুর রহিম, ভাঙ্গুড়া

০৭ অক্টোবর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০১৭, ০০:২৩ | প্রিন্ট সংস্করণ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে পাবনা-৩ (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর) আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা ভোটের মাঠে গণসংযোগের মাধ্যমে নিজেদের নানাভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে চলছে লবিং। ভোটারদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সাঁটানো হয়েছে পোস্টার-ব্যানার। এ পর্যন্ত মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপিসহ ৯ এবং বিএনপির সাবেক এক এমপিসহ ৬ নেতা।

মনোনয়ন প্রশ্নে দুই দলেই রয়েছে কমবেশি গ্রুপিং। তবে শেষ পর্যন্ত দল দুটি যাকেই মনোনয়ন দেবে, তাকে নিয়েই ভোটের মাঠের লড়াইয়ে নেতাকর্মীরা একাট্টা হয়ে নামবেন বলে জানিয়েছেন উভয় দলের একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী। পাবনা-৩ আসনে পর পর দুবার নির্বাচিত সাংসদ আলহাজ মো. মকবুল হোসেন বর্তমানে কৃষি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি। তিনি পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। এর আগে দুবার উপজেলা নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছিলেন। সে কারণে অনেক আগে থেকেই দলের তৃণমূল নেতাকর্মী সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার সম্পর্কের ভিত্তি দৃঢ়। আগামী নির্বাচনেও তিনি দল থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী। সেই লক্ষে তিন উপজেলায় সমানভাবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে জনসংযোগ করে যাচ্ছেন। এ ছাড়া মাঠে সক্রিয় আছেন চাটমোহর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা অ্যাডভোকেট সাখোয়াত হোসেন সাখো, রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল আলীম, পাবনা সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুর রহিম পাকন, পাবনা জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. আব্দুল হামিদ মাস্টার, জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও বিজ্ঞানবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বাকী বিল্লাহ, ফরিদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. খলিলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আলী আশরাফুল কবির, ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র কামরুজ্জামান মাজেদ।

বিএনপি দশম সংসদ নির্বাচনের মতো এবার আর আওয়ামী লীগকে ফাঁকা মাঠে গোল দেওয়ার সুযোগ দিতে চায় না। বিষয়টি দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের প্রচার-প্রচারণায় লক্ষ করা যাচ্ছে। বিএনপির নেতারা গণসংযোগকালে ক্ষামতাসীন দলের বিভিন্ন কাজের সমালোচনা করছেন এবং দলকে সংগঠিত করে আগামী নির্বাচনে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন।

বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতাদের মধ্যে রয়েছেনÑ সাবেক এমপি ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য কেএম আনোয়ারুল ইসলাম, পাবনা জেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার, চাটমোহর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসাদুল ইসলাম হীরা, সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান ফকরুল আযম, ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা শিল্পপতি মো. রাজিউল হাসান বাবু ও ফরিদপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. জহুরুল ইসলাম বকুল।

জাতীয় পার্টি ও জামায়াতের পক্ষ থেকে প্রচারমূলক ব্যানার কিংবা ফেস্টুন এখনো তেমন চোখে পড়েনি।

অষ্টম সংসদ নির্বাচনে কেএম আনোয়ারুল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৩১ হাজার ২৯৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আলহাজ মো. মকবুল হোসেন নৌকা প্রতীকে পেয়েছিলেন ১ লাখ ১৯ হাজার ৭৯৪ ভোট। নবম সংসদ নির্বাচনে আলহাজ মো. মকবুল হোসেন নৌকা প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৮০ হাজার ৬৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির কেএম আয়োরুল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছিলেন ১ লাখ ১৫ হাজার ৩৩০ ভোট। দশম সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে আলহাজ মকবুল হোসেন ১ লাখ ৪৯৬ ভোট পেয়ে পুনরায় নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ আনারস প্রতীকে পেয়েছিলেন ১২ হাজার ৬৭৩ ভোট।

এ আসনের মোট ভোটার ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৯৯৭ জন। এর মধ্যে মহিলা ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫০১ এবং পুরুষ ১ লাখ ৭৪ হাজার ৯৯৭ জন।

একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপি কী ভাবছে? জানতে চাইলে কেএম আনোয়ারুল ইসলাম একাদশ সংসদ নির্বাচন একতরফা হয় কিনা এমন সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, গণতন্ত্র রক্ষার জন্য কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড যাকে মনোনয়ন দেবে, তার পক্ষেই দলের সবাই কাজ করবে। তিনি বিশ্বাস করেন, আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে বিএনপিই এ আসনে বিজয়ী হবে।

এ আসনের সাংসদ আওয়ামী লীগ নেতা আলহাজ মো. মকবুল হোসেন বলেন, আমাদের পরিবার জনগণের জন্য কাজ করে, আমিও জনগণের জন্য কাজ করি, আগামীতেও কাজ করব। আশা করি, জনকল্যাণে আমার ভূমিকা বিবেচনা করেই দল আবার মনোনয়ন দেবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে