দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ

অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে ১৪৭ কোটি টাকার পাইপ

  এস এম কামাল, খুলনা

১৩ অক্টোবর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০১৭, ০১:৪০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ নেটওয়ার্ক স্থাপন প্রকল্প বন্ধ করে দিয়েছে এক বছর আগে। কিন্তু অযত্ন-অবহেলায় খোলা আকাশের নিচে চার বছর ধরে পড়ে রয়েছে গ্যাস বিতরণের ১৪৭ কোটি টাকার পাইপ। আর সেই পাইপ রাখার স্থানের ভাড়া বাবদ রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে প্রতিবছর গুনতে হচ্ছে ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৫ শহরে পাইপ লাইনে গ্যাস সরবরাহের জন্য ২০০৯ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন পায় প্রকল্পটি। প্রথম অবস্থায় প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫৩০ কোটি টাকা, যা পরবর্তী সময়ে বেড়ে দাঁড়ায় ৬শ কোটি টাকায়। এর পর থেকেই এ অঞ্চলে শিল্প স্থাপনে আগ্রহী হন বিনিয়োগকারীরা। ২০১৩ সালে গ্যাস বিতরণ নেটওয়ার্ক স্থাপনের জন্য কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, যশোর, খুলনা হয়ে বাগেরহাট পর্যন্ত সঞ্চালন লাইনের জন্য কেনা হয় ১৪৭ কোটি টাকার পাইপ। আর সেগুলো এনে খোলা আকাশের নিচে অযত্ন-অবহেলায় ফেলে রাখা হয় খুলনার আটরা এলাকায়। কিন্তু গত বছর ৩০ জুন প্রকল্পটি বন্ধ করে দেয় জ্বালানি মন্ত্রণালয়। এ সিদ্ধান্তে স্থবিরতা দেখা দেয় শিল্পভিত্তিক বিনিয়োগে। সময়ের ব্যবধানে ব্যবহার না হওয়ায় আর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে রোদ-বৃষ্টিতে মরিচা পড়ে নষ্ট হচ্ছে পাইপগুলো।

বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব শেখ আশরাফ-উজ জামান বলেন, জনগণের অর্থ অপচয় করার অধিকার কারো নেই। এই প্রকল্পটি যদি বাস্তবায়ন করা সম্ভব না হবে তা হলে কেন ৫শ কোটি টাকার বেশি অর্থ অপচয় করা হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদনের ৮ বছর পরে যদি প্রকল্প বাতিল করা হয় তা হলে বুঝতে হবে প্রকল্প প্রণয়নের সময়ই গলদ ছিল এবং তা পরিকল্পিত। সময়, রাষ্ট্রীয় অর্থ অপব্যবহার ও অপচয়ের জন্য যারা দায়ী তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থেই রাষ্ট্রের সম্পদ রক্ষায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ প্রকল্পটি চালু করতে হবে। যে কারণে প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়েছে, তা খুঁজে সমাধানের চেষ্টা করতে হবে।

খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম বলেন, কোনো অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হলো যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জ্বালানি নিরাপত্তা। পদ্মা সেতু, মোংলা বন্দরের সঙ্গে রোল যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে যখন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হচ্ছে, তখন গ্যাস সরবরাহ প্রকল্প স্থগিত করা নেতিবাচক। এই প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিনিয়োগকারীরা শিল্পস্থাপনসহ অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকা-ে গত ৮ বছর ধরে প্রচুর বিনিয়োগ হয়েছে। কিন্তু গ্যাস সরবরাহ প্রকল্প বাতিল করায় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। ভবিষ্যৎ ক্ষতি এড়াতে এখন তারা নতুন করে আর কোনো বিনিয়োগ করছেন না। ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার জন্য দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যে সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছিল, তা স্থবির হয়ে পড়েছে। এটি কেবল আঞ্চলিক অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকারক নয়, জাতীয় অর্থনীতির জন্যও অশুভ।

খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিজান বলেন, এই প্রকল্পটি বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। তাই নির্বাচনের আগে এর কাজ শেষ না হলে এবং জনগণ এর সুফল না পেলে তা ভবিষ্যৎ নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে। গ্যাস সরবরাহ প্রকল্পের অব্যবহৃত পাইপগুলো পেট্রোবাংলার অধীন অন্য কোম্পানিগুলোর কাছে বিক্রির সিদ্ধান্ত রয়েছে। পাশাপাশি প্রকল্পটি পুনরায় চালু করে শিল্প-কারখানায় গ্যাস সরবরাহের চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যেই এ বিষয়ে জ্বালানিমন্ত্রী, সচিব ও অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। প্রকল্পটি চালু ও যাতে রাষ্ট্রীয় অর্থ ও সম্পদ নষ্ট না হয় এ জন্য বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করা হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে