বিত্তশালীরাও রাখাইন ছাড়ছেন

  সরওয়ার আজম মানিক ও পলাশ বড়–য়া, মিয়ানমার সীমান্ত থেকে

২০ অক্টোবর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০১৭, ১০:১৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

নিজ দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর নির্র্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে এবার দেশ ছাড়ছেন মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু ও আকিয়াব টাউনশিপে বসবাসকারী সম্পদশালী রোহিঙ্গারা। তাদের সিংহভাগই ব্যবসায়ী। গতকাল বৃহস্পতিবার কয়েকটি সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশকারীরা সম্পদশালী রোহিঙ্গারা এ তথ্য জানিয়েছেন। দেশ ছাড়ার কারণ হিসেবে তারা বলছেন, মিয়ানমার সেনাদের নির্যাতন আর গণহত্যা তো চলছেই, পাশাপাশি মগদের দাবিকৃত অর্থ দেওয়ার পরও রেহাই পাচ্ছে না তাদের বাড়িঘর। ফলে বাধ্য হয়েই প্রাণ বাঁচাতে তারা ছুটে আসছেন বাংলাদেশে। এক প্রকার শূন্য হাতেই তারা আসছেন। কেননা, রাখাইনে এখন চলছে তীব্র খাবার সংকট।

জানা গেছে, গত ২৪ আগস্ট থেকে রাখাইনে শুরু হওয়া সে দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ ও গণহত্যা এতদিন গ্রাম এলাকায় চলছিল। গত এক সপ্তাহ ধরে শহরেও শুরু হয়েছে গণহত্যা ও নির্যাতন। মংডু, বুচিডং ও রাচিড়ংয়ের পর এবার মংডু ওআকিয়াব টাউনশিপে শুরু হয়েছে নির্যাতন। গত এক সপ্তাহ ধরে এ দুই টাউনশিপে মুসলমানদের বাসাবাড়ি আর ব্যবস্যা প্রতিষ্ঠানে আগুন দেওয়া হচ্ছে, লুট করা হচ্ছে সম্পদ।

উখিয়ার আঞ্জুমানপাড়া সীমান্তে কথা হয় আকিয়াব টাউনশিপের ব্যবসায়ী আবদুর রহমান ও ফরিদুল আলমের সঙ্গে। তারা জানান, এতদিন মংডু, বুচিডং আর রাচিডংয়ের বাসিন্দারা সেনা ও মগদের বহুমুখী নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এলেও মংডু এবং আকিয়াব শহরের আশপাশের গ্রামে অবস্থানকারী রোহিঙ্গারা নানা কৌশলে মাতৃভূমিতে থেকে গিয়েছিলেন। তাদের বেশিরভাগই অবস্থাসম্পন্ন পরিবার এবং ব্যবসায়ী। শখের বসতবাড়ি রক্ষা করতে তারা লাখ লাখ কিয়াট ঘুষ দিয়েছেন। তাতেও মন ভরছে না মগ ও সেনাদের। এখন তারা সব পুড়িয়ে দিচ্ছে। সম্পদশালী রোহিঙ্গাদের টাকা ও শেষ সম্পদ লুটে নিচ্ছে বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন আকিয়াবের আরেক ব্যবসায়ী মনজুর আলম।

ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশকারী আবুল হোসেন বলেন, তিনি মংডু টাউনশিপে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করতেন, তার বাসাও আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরে অন্য এক সহকর্মীর কাছ থেকে সামান্য টাকা নিয়ে এখানে এসেছেন তিনি। তিনি বলেন, মংডু আর আকিয়াব টাউনশিপে আর কোনো মুসলমান বসবাসকারী নেই। সবাই এদিকে আসছে।

পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা জানান, কষ্ট হলেও আমরা স্বদেশে থাকতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। কিন্ত মগ ও সেনাদের নিত্যনতুন চাহিদা, আবদার, তাড়ানোর কৌশল ও নির্যাতন বাড়ছে। তাদের মনোভাব বুঝাও মুশকিল। একবার বলে থাকতে, আবার বলে চলে যেতে। পুরনো পরিচয়পত্র কেড়ে নিচ্ছে। হাটবাজারেও মুসলমানদের ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ। অবরুদ্ধ অবস্থা। সেখানে তীব্র খাবার সংকট চলছে বলেও জানান অনুপ্রবেশকারীরা।

মংডুর কাজিরবিল এলাকার মফিজুল আলমের স্ত্রী খোরশিদা (২২) বলেন, ‘মংডু থেকে শাহপরীর দ্বীপ, সাবরাং ও টেকনাফ কাছে হলেও যাওয়ার সুযোগ নেই। সেখানে খুব কড়াকড়ি চলছে বলে শুনেছি। কোনো নৌকার মাঝি সেদিকে যেতে রাজি হয় না। তাই ভাড়া বেশি দিয়ে হলেও আঞ্জুমানপাড়ার দিকে চলে এসেছি। তা ছাড়া এখান থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প খুবই কাছে। শাহ পরীর দ্বীপ, সাবরাং ও টেকনাফ হয়ে এলে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পর্যন্ত পৌঁছতে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়। মিয়ানমারের মংডু এবং মংডুর দক্ষিণে আরও কয়েক হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন বলেও জানান এই নারী।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে