এক ডজন নেতার দৌড়ঝাঁপ

  রুহুল হাসান শরীফ, হবিগঞ্জ ও মোতাব্বির হোসেন, বানিয়াচং

১৫ নভেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০১৭, ০০:২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-২ আসনে বড় দুই দলের মনোনয়ন নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করছেন একডজন নেতা। তবে আসন ভাগে পাওয়ার আশায় মাঠে সক্রিয় হচ্ছেন না জাতীয় পার্টির কোনো নেতা।

বিশ্বের বড় গ্রামখ্যাত বানিয়াচং ও আজমিরিগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে স্বাধীনতা উত্তর সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সাতবার, বিএনপি একবার ও জাতীয় পার্টি দুইবার বিজয়ী হয়। আওয়ামী লীগের সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, জাতীয় পার্টির সিরাজুল হোসেন খানের মতো হেভিওয়েট নেতারাও এ আসনে সাংসদ ছিলেন। এক সময় এ আসনের একজন হেভিওয়েট প্রার্থী ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর বহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা জাকারিয়া খান চৌধুরী। ২০০১ সালে বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত হওয়ায় এবার তিনি মাঠে অনেকটা নিষ্ক্রিয়।

একাদশ নির্বাচনের আরও বছরখানেক বাকি থাকলেও মনোনয়ন প্রত্যাশী আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীরা এখনই গ্রামে-গঞ্জে চষে বেড়াচ্ছেন। এ আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান সাংসদ অ্যাডভোকেট আবদুল মজিদ খান ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ডা. শাখাওয়াত হাসান জীবনকে নিয়েই আলোচনা বেশি ঘুরপাক খাচ্ছে। এ আসনে প্রধান দুই দলের মনোনয়ন লাভে কয়েকজন প্রবাসীর জোর লবিং নিয়েও ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। তাদের মধ্যে একজন প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের সাবেক পিএস লন্ডন প্রবাসী ব্যারিস্টার এনামুল হক, সৌদি আরব পশ্চিমাঞ্চল বিএনপি সভাপতি আহমেদ আলী মুকিব আবদুলাহ, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ড. শাহনেওয়াজ ও আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি শরীফ উদ্দিন আহমেদের বড় ছেলে নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজ উদ্দিন শরীফ রাসেল। এ আসনে আওয়ামী লীগের অর্ধডজন নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশী। অন্যদিকে বিএনপির এখন পর্যস্ত কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন ও প্রবাসী বিএনপি নেতা আবদুলাহ মুকিবের নামই শোনা যাচ্ছে।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হচ্ছেনÑ জেলা সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান এমপি অ্যাডভোকেট আবদুল মজিদ খান, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট চৌধুরী আবু বকর সিদ্দিকী, বানিয়াচং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন মাস্টার, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শিশু ও পরিবার কল্যাণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহফুজা বেগম সাঈদা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বানিয়াচং উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন খান, ছাত্রলীগের সাবকে আইনবষিয়ক সম্পাদক ময়েজ উদ্দনি শরীফ রুয়েল।

অন্যদিকে জেলা জাপার সদস্য সচিব শংকর পাল রয়েছেন দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশীদের তালিকায়। এ ছাড়া এ আসনে জাতীয় পার্টির নতুন মুখ ব্যবসায়ী জাকির হোসেন দিদারের নামও লোকমুখে শুনা যাচ্ছে। মহাজোট গঠনের পর থেকে জাতীয় পার্টি এ আসনটি তাদের বাগে নেওয়ার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এবারও সাংবাদিক আফসার আহমেদ রূপক এ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বিগত দুটি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ভোটারদের মধ্যে আলোচনায় আছেন। গত নির্বাচনে দু-একটি কেন্দ্রে তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থীর থেকে বেশি ভোট পান।

বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের মেজর জেনারেল (অব) এমএ রব বিজয়ী হন। ১৯৭৯ সালে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট জনাব আলী বিজয়ী হন। এর পর দুবার বিজয়ী হন জাতীয় পার্টি মনেনাীত প্রার্থী সিরাজুল হোসেন খান। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে বিজয়ী হন অ্যাডভোকেট শরীফ উদ্দনি আহমেদ। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগ প্রার্থী শিল্পপতি নাজমুল হাসান জাহেদ। এ আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান সাংসদ অ্যাডভোকেট আবদুল মজিদ খান ও বিএনপির ডা. সাখাওয়াত হোসেনের বিকল্প প্রার্থী হিসেবে ভোটাররা চিন্তা করতে পারছেন না। এ আসনের সর্বজন শ্রদ্ধেয় আওয়মী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট শরীফ উদ্দিন ১৯৯৬ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে এমপি হন। মেয়াদপূর্তির আগে তিনি মৃত্যুবরণ করলে আওয়ামী লীগে প্রার্র্থী সংকট দেখা দেয়। সে সময় সুনামগঞ্জ জেলার অধিবাসী প্রধানমন্ত্রীর সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন। পরবর্তীতে ২০০১ সালে আবারও আওয়ামী লীগ প্রার্থী সংকটে ভোগে। ওই নির্বাচনে রাজনীতিতে সম্পূর্ণ অপরিচিত দেশের বৃহৎ এনজিও ব্র্যাক পরিবারের সদস্য শিল্পপতি নাজমুল হাসান জাহেদকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া হয়। ওই নির্বাচনে জাহেদ অল্প ভোটের (৩৪৬) ব্যবধানে বিএনপি প্রার্থী নূরুল আমীন চৌধুরীকে পরাজিত করেন। ওই নির্বাচনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে জাকারিয়া খান চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় ফলাফল আওয়ামী লীগের পক্ষে যায় বলে ভোটারদের ধারণা।

২০০৮ সালে এ আসনটি বাগে নিতে জাপা দরকষাকষি শুরু করে। আওয়ামী লীগ অ্যাডভোকেট আবদুল মজিদ খানকে মনোনয়ন দিলেও জাপার চাপ অব্যাহত থাকে। জাপাও এ আসনে কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট আবিদুর রহমান চৌধুরীকে মনোনয়ন দেয়। তখন মহাজোটের প্রার্থী নিয়ে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। পরে এ আসনটি মহাজোটের উভয় প্রার্থীর মধ্যে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। ব্যক্তিগত ইমেজ ও কিবরিয়া হত্যামামলায় সাহসী ভূমিকা রাখায় বিপুল ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবদুল মজিদ খান বিজয়ী হন। বর্তমানে তিনি এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন বলে ভোটাররা মনে করেন। অন্যদিকে বিএনপি নেতা সাখাওয়াত হাসান জীবন এলাকায় সার্বক্ষণিক রাজনৈতিক কর্মকা- চালাচ্ছেন। এ ছাড়া তিনি গণসংযোগ করছেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে