জাকসু ভবন এখন প্রতিবন্ধী পাঠশালা

  জাবি প্রতিনিধি

২২ নভেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০১৭, ১৫:০৭ | প্রিন্ট সংস্করণ

একটা সময় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) ভবন ছিল ছাত্র রাজনীতিচর্চার প্রাণকেন্দ্র। সেখান থেকে উঠে এসেছেন অনেক জাতীয় নেতাও। কিন্তু জাকসু নির্বাচন বন্ধ রয়েছে প্রায় ২৫ বছর। ফলে কালের সে মুখরিত ভবন এখন ব্যবহার হয় প্রতিবন্ধী ছাত্রছাত্রীদের পাঠশালা হিসেবে। এ ছাড়া প্রতিবছর বিদায়ী শিক্ষার্থীদের র্যাগ উৎসবেও ব্যবহার হয় জৌলুশ হারানো ভবনটি।

জানা গেছে, ১৯৭১ সালের ১২ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়টির আনুষ্ঠানিক যাত্রার পরের বছরই প্রথম জাকসু নির্বাচন হয়। এতে সহসভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন গোলাম মোর্শেদ ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) রোকন উদ্দিন। পরবর্তীতে বিভিন্ন মেয়াদে আরও আট দফা নির্বাচন হয়। সর্বশেষ বিএনপি শাসনামলে ১৯৯২ সালে জাকসু নির্বাচন হয়। এতে ভিপি হন মাসুদ হাসান তালুকদার এবং শামসুল তাবরীজ জিএস। কিন্তু এর পরের বছর ১৯৯৩ সালের ২৯ জুলাই শিক্ষক ক্লাবে ছাত্রদের হামলার অভিযোগ উঠলে জাকসু ভেঙে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তার পর থেকে আর নির্বাচন হয়নি।

তবে এ দীর্ঘ সময় যারাই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব নিয়েছেন, তারা বিভিন্ন সময় জাকসু নির্বাচনের আশ্বাস দিলেও হালে পানি পায়নি। ২০১৩ সালে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়েও ব্যর্থ হন। এমফিল ও পিএইচডি ছাত্রদের প্রার্থিতার সুযোগ না রাখায় জাবি ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের বিরোধিতা এবং শিক্ষক রাজনীতির মারপ্যাঁচে সে উদ্যোগও ভেস্তে যায়। এর পর আরও চার বছর কেটে গেলেও আর দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম ২০১৪ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর জাকসু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু আজও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। আগামী বছরই শেষ হচ্ছে বর্তমান উপাচার্যের দায়িত্ব। তাই আদৌ তার সময়ে নির্বাচন হবে কিনা, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অবশ্য জাকসু নির্বাচন না হওয়ার পেছনে সরকারের সদিচ্ছার অভাব ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনিচ্ছাকেই দায়ী করছেন। প্রভাব খর্ব হতে পারেÑ এমন আশঙ্কায় সরকার সমর্থক প্রশাসন নির্বাচন দিচ্ছে না বলে মনে করেন তারা।

এদিকে নির্বাচন না হলেও ছাত্র সংসদের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফি নিয়মিতই আদায় করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রতিবছর ভর্তির সময় ‘জাকসু ফি’ নামে প্রত্যেকের কাছ থেকে নেওয়া হয় ১৫ টাকা করে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ^বিদ্যালয়ের নিবন্ধক আবু বকর সিদ্দিক বলেন, জাকসু না থাকায় আমরা ওই টাকা খেলাধুলার জন্য বরাদ্দ রাখি। কিন্তু খেলাধুলার জন্য আলাদা বাজেট থাকলেও কেন এখান থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছেÑ এমন প্রশ্নের জবাবে সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।

ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সভাপতি ইমরান নাদিম মনে করেন, সরকার তাদের দলীয় আকাক্সক্ষা পূরণের জন্যই এ নির্বাচন দিচ্ছে না। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এর পেছনে সরকারের যেমন সদিচ্ছার অভাব, তেমনি দলীয়ভাবে নিয়োগ পাওয়া উপাচার্যরাও দায়ী।

বিশ^বিদ্যালয় ছাত্রলীগের অবশ্য দাবি, তারা সবসময় জাকসু নির্বাচনের কথা বলে আসছে। সভাপতি মো. জুয়েল রানা জাকসু নির্বাচনের পক্ষে তাদের সংগঠনের অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেন, সাধারণ ছাত্রদের অধিকার আদায়ের একটা অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে জাকসু। সে কারণে বিশ্ববিদ্যায় প্রশাসন নির্বাচনের উদ্যোগ নিলে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।

জাকসুর অস্তিত্ব না থাকায় বিশ^বিদ্যালয়ের সিনেটে এ সংগঠন থেকে নির্বাচিত পাঁচ প্রতিনিধির অংশগ্রহণও থাকছে না। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের মতামত ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অংশগ্রহণমূলক অবস্থা তৈরি হয় না বলে মনে করেন জাবির সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক নাসিম আখতার হোসাইন। একই সঙ্গে সিনেটে জাকসু না থাকায় তা কতটুকু বৈধতা রাখে, সেটা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তবে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম জাকসু নির্বাচনের আগ্রহ জানিয়ে আমাদের সময়কে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ অনুকূলে না থাকায় নির্বাচন করা সম্ভব হয়নি। রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হলে প্রশাসন জাকসু নির্বাচনেরও উদ্যোগ নেবে বলে জানান উপাচার্য।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে