ডিপথেরিয়ায় আক্রান্ত ৪শর বেশি রোহিঙ্গা ৮ জনের মৃত্যু

  পলাশ বড়–য়া, উখিয়া

১১ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মাঝে এইচআইভির পর নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ডিপথেরিয়া রোগ। এ পর্যন্ত ডিপথেরিয়া রোগে আক্রান্ত হয়েছে ৪শর অধিক রোহিঙ্গা শিশু। ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাদের মধ্যে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। সংক্রামক এই ব্যাধি থেকে রক্ষা করতে রোহিঙ্গাসহ স্থানীয়দের মাঝে প্রতিষেধক টিকা দেওয়া হবে বলে গতকাল রবিবার জানিয়েছেন কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. আবদুস সালাম।

সিভিল সার্জন আরও জানান, ৪০৮ রোহিঙ্গা ডিপথেরিয়া রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের এমএসএফ হাসপাতালসহ কয়েকটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সংক্রামক ব্যাধি ডিপথেরিয়া আক্রান্তের হাঁচি ও কাশির মাধ্যমে খুব দ্রুত অন্যের শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির গলার পেছন দিকে সরু পর্দা তৈরি হয়। এতে শ্বাসকষ্ট, হৃদযন্ত্রের সমস্যা, পক্ষাঘাতসহ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজবাহ উদ্দিন বলেন, ডিপথেরিয়া সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া যে বিষাক্ত পদার্থ উৎপন্ন করে তা শ্বাসযন্ত্রের, বিশেষ করে নাক ও গলার টিস্যুকে নষ্ট করে দেয়। ডিপথেরিয়ার লক্ষণগুলো দেখা যায় ইনফেকশন হওয়ার দুই থেকে সাত দিন পর। ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ১০০.৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রার জ্বর থাকে। ক্লান্তি ও শরীর ঠা-া হয়ে যায়। গলাব্যথা হয়। গলার গ্রন্থি ফুলে যায়। ঢোক গিলতে সমস্যা ও ব্যথা হয়। অনেক বেশি কাশি হয়। শিশুরাই মূলত এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে।

এ রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রথমে অ্যান্টিটক্সিন ইনজেকশন দিয়ে ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করতে হয়। এ ছাড়া ইরাথ্রোমাইসিন ও পেনিসিলিনের মতো এন্টিবায়োটিক দেওয়া হয় ইনফেকশন দূর করতে। যেহেতু এটি একটি ছোঁয়াচে রোগ, তাই ডিপথেরিয়া আক্রান্ত রোগীদের আলাদা রাখা হয়।

সিভিল সার্জন আরও জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে উখিয়ার ৪৮টি ও টেকনাফের ১২টি ভ্রাম্যমাণ ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গাদের মাঝে ডিপথেরিয়া রোগের প্রতিষেধক টিকা দেওয়া হবে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা. শাহীন আবদুর রহমান চৌধুরী বলেন, ১০৭ জনের এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। আশার আলোর তত্ত্বাবধানে তাদের চিকিৎসাসেবা চলছে। এ পর্যন্ত এইচআইভি আক্রান্ত একজনের মৃত্যু হয়েছে বলেও তিনি জানান।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী রবিন বলেন, এ পর্যন্ত ডিপথেরিয়া রোগে ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ রোগে আক্রান্ত সব রোগীর বালুখালী-১ ক্যাম্পে এমএসএফ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে রোগটি যাতে কোনোভাবে আমাদের দেশের মানুষের মাঝে ছড়িয়ে না পড়ে, সে ব্যাপারে ক্যাম্পে কর্মরত সবার সচেতনতাসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে