আসন আয়ত্তে নিতে মরিয়া আওয়ামী লীগ-বিএনপি

  এম এ লতিফ ও মাহফুজ মল্লিক, চাঁদপুর

১১ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:৪১ | প্রিন্ট সংস্করণ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে চাঁদপুর-২ (মতলব দক্ষিণ-মতলব উত্তর) আসনে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল ও জোটের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও ভোটারদের মন জয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ আসনের এমপি আওয়ামী লীগের। আসন্ন নির্বাচনেও আসনটি ধরে রাখতে চায় দলটি। অন্যদিকে বিএনপি চায় পুনরুদ্ধার করতে। দুদলই বিজয়ী হতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। মনোনয়ন পেতে উভয় দলের প্রায় এক ডজন প্রার্থী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

২০০১ সাল পর্যন্ত চাঁদপুর-২ আসন মতলব উত্তর উপজেলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পূর্বে সীমানা পুনর্বিন্যাসে মতলব দক্ষিণ উপজেলা এ আসনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মতলব দক্ষিণ উপজেলার ছয় ইউনিয়ন ও এক পৌরসভা এবং মতলব উত্তর উপজেলায় ১৪ ইউনিয়ন ও এক পৌরসভা নিয়ে গঠিত আসনটি।

এ আসনে ১৯৯১ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী জয়লাভ করেন। আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয়লাভ করেন ১৯৯৬, ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে।

২০১৪ সালের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হন আওয়ামী লীগের মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম। মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ছাড়াও আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেনÑ সাবেক এমপি এয়ার ভাইস মার্শাল (অব) এম রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন রুহুল, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির মহিলাবিষয়ক সম্পাদক জাকিয়া সুলতানা শেফালী, কেন্দ্রিয় যুবলীগ নেতা ও ইসফাক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইসফাক আহসান। তাদের মধ্যে মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে আছেন মায়া। কোনো কারণে মায়া মনোনয়ন না পেলে সেক্ষেত্রে ইসফাককেই প্রার্থী করা হতে পারে জানা গেছে।

মায়া ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরবর্তী সময় নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১/১১ সরকার আমলে বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে পড়ায় ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হতে পারেননি। বর্তমানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।

এয়ার ভাইস মার্শাল (অব) এম রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম ২০০৮ সালে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল আমিন রুহুল গত চাঁদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। তবে সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেলে বিজয়ী হবেন বলে আশা করেন তিনি। একমাত্র নারী সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন জাকিয়া সুলতানা শেফালী। তিনিও লবিং করছেন। তিনি বলেন, দলীয় মনোনয়ন পেলে জয়লাভ করব ইনশাল্লাহ।

ইসফাক আহসান মতলব উত্তরের সন্তান। তিনি দীর্ঘদিন কেন্দ্রীয় যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আগামী নির্বাচনে তিনি দলীয় মনোনয়ন পেতে এলাকায় গণসংযোগ করছেন।

বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে আছেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. জালালউদ্দিন। দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে তার মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা। কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গেও রয়েছে তার সুসম্পর্ক। তিনি উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন কমিটিকে নিজের অনুসারীদের দিয়ে এরই মধ্যে সাজিয়ে ফেলেছেন।

এ প্রসঙ্গে ড. জালালউদ্দিন চৌধুরী আমাদের সময়কে বলেন, দলে কোনো বিভেদ নেই। যা ছিল তা মিটিয়ে দলকে সুসংগঠিত করেছি। নেতাকর্মীদের পাশে থেকে বিএনপিকে শক্তিশালী করে আগামী নির্বাচনে জয়ী হওয়ার চেষ্টা করছি। আশা করছি, আগামী নির্বাচনে দল নিশ্চয়ই আমাকে মূল্যায়ন করবে।

বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে আরও আছেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সহসভাপতি ব্যারিস্টার ওবায়েদুর রহমান টিপু, সাবেক প্রতিমন্ত্রী নুরুল হুদার ছেলে তানভীর হুদা, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এমএ শুক্কুর পাটওয়ারী ও সাবেক এমপি আলম খান।

এই আসনে জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী জেলা সভাপতি মিজানুর রহমান খান। তিনি মহাজোটের প্রার্থী হলে জয়ী হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে