এনআরবিসি ব্যাংকে সুশাসনের ঘাটতি ছিল -এসএম পারভেজ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১২ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

এনআরবি কমার্শিয়াল (এনআরবিসি) ব্যাংকে সুশাসনের ঘাটতি ছিল বলে মন্তব্য করেন ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান তমাল এসএম পারভেজ। তিনি বলেন, ব্যাংকের করপোরেট গভর্ন্যান্সে সমস্যা ছিল বলে কিছু অনিয়ম হয়েছে। এ ছাড়া এনআরবি ব্যাংকগুলোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় কিছু অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩ ডেপুটি গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নতুন চেয়ারম্যান। এ সময় তার সঙ্গে নতুন ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শহীদ ইসলাম, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আদনান ইমাম ও ভারপ্রাপ্ত এমডি কাজী মো. তালহা উপস্থিত ছিলেন।

নতুন চেয়ারম্যান বলেন, ব্যাংকের পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে। নতুন যারা ব্যাংকটির নেতৃত্ব নিয়েছেন, তারা সবাই বিদেশে প্রতিষ্ঠিত। আমাদের কাছে এখনো ব্যাংকের পুরো আর্থিক বিবরণী আসেনি। আমরা সবকিছু জেনে ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে জানাব। ব্যাংক কাজ করে জনস্বার্থকে নিয়ে। জনগণের আমানত এখানে আছে। আমরা মনে করি, জনগণের আমানতে একটা ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। আমাদের ব্যাংকের কিছু করপোরেট গভর্ন্যান্সে সমস্যা ছিল। কিছু কমপ্লায়েন্স নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তিনি বলেন, ব্যাংকের অনিয়ম দূর করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক আমাদের সঙ্গে আছে। এনআরবি ব্যাংক যে জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, সে লক্ষ্যে কাজ করব। প্রবাসীদের জন্য আমরা আলাদা পণ্য আনব। আমরা চেষ্টা করব জনগণ (আমানতকারী) যাতে কোনো ঝুঁকিতে না পড়ে। একই সঙ্গে একটি বার্তা দিতে চাই, এ ব্যাংকে কোনো ঝুঁকি নেই।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তমাল পারভেজ বলেন, ব্যাংকে কী হচ্ছে তা সব সময় বোর্ডে আসত না; এটাই একমাত্র সমস্যা। বোর্ড ব্যাংকের সার্বিক চিত্র জানত না। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ব্যাংকের যে সমস্যা হচ্ছে, তা জানাত না। এসব সমস্যা এখন বোর্ডে আসবে, আলোচনা হবে।

পর্ষদের সদস্যরা ঐক্যবদ্ধ আছে বা সমস্যা নেইÑ উল্লেখ করে নতুন চেয়ারম্যান বলেন, গত রবিবার সবার উপস্থিতে নতুন পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। আমাদের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। এ ছাড়াও নতুন পর্ষদ নিয়ে অন্য কোনো স্বার্থও নেই। ব্যাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে ব্যাংকের সব ধরনের অনিয়ম ধরা পড়েছে। এসব অনিয়মে যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, তা নিজেরাই দূর করতে কাজ করছি। এখানে বেনামের কেউ শেয়ার পাবেন না।

এ সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালার সমালোচনা করে এনআরবিসির চেয়ারম্যান বলেন, এনআরবি ব্যাংকগুলো করার জন্য ব্যাংলাদেশ ব্যাংকের যে গাইডলাইন দিয়েছে, সেখানে ত্রুটি ছিল। সেখানে সমস্যা। আমি বিদেশে প্রতিষ্ঠিত। আমার অর্থ যদি সরকারি চ্যানেলে বিদেশ থেকে আসে, তা হলে বাংলাদেশ ব্যাংক কেন জানতে চায়। এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের গাইডলাইন্সের অভাব। বাংলাদেশ ব্যাংক যখন এনআরবি ব্যাংক করলÑ যার মূল উদ্দেশ্য ছিল এনআরবি বা প্রবাসীদের নিয়ে কাজ করবে; কিন্তু এখানে এনআরবিদের কোনো নীতিমালা নেই। সাধারণ ব্যাংক আর এনআরবি ব্যাংকগুলো একই নিয়মে চলছে। আর যেসব অনিয়ম হয়েছে, তা গাইডলাইন না থাকার কারণেই হয়েছে। গাইডলাইন সুযোগ থাকলে অনিয়ম হবেই বলে জানান তিনি।

ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সম্পের্কে চেয়ারম্যান বলেন, আমি কাল সবাইকে বার্তা দিয়েছি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে আমরা যুদ্ধ করব না। এমডি কোর্টে গেছেন, তার সব কাগজপত্র আমাদের কাছে নেই। এ মুহূর্তে আমরা মনে করছি ওনাকে ছুটি দেব।

আগের পদত্যাগ করা চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার ফরাসত আলীর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার ব্যর্থতার কারণে পদত্যাগ করেছেন। আমি দায়িত্ব নিয়েছি। ব্যর্থ হলে আমিও দায়িত্ব ছেড়ে দেব।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে