বৈপ্লবিক উন্নয়নের বছর ২০১৮

  শাহিদ বাপ্পি

১২ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৬:৪০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রযুক্তির কল্যাণে এখন পুরো বিশ্ব একটি গ্রাম। উন্নত বিশ্বের তথ্যপ্রযুক্তিসমৃদ্ধ দেশগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যেতে বর্তমান সরকারও তাই এ খাতের উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগিয়ে গেলে ২০১৮ সাল হবে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশের জন্য এক যুগান্তকারী বছর। আগামী বছরের প্রথমার্ধে উৎক্ষেপণ করা হবে দেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। এর ফলে আকাশ দখলের প্রতিযোগিতায় পরনির্ভরশীলতা থেকে উত্তরণ ঘটবে বাংলাদেশের। আত্মনির্ভরশীলতার পাশাপাশি এ খাত থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রাও আয় হবে। একই বছর চালু হবে বহুল আলোচিত চতুর্থ প্রজন্মের এলটিই বা ফোরজি প্রযুক্তি সেবা। শুধু তা-ই নয়, গ্রাহকদের জন্য নম্বর বদল না করেই মোবাইল ফোন অপারেটর পরিবর্তনের সুবিধাও (এমএনপি) যুক্ত হবে আসছে বছরে। এ ছাড়া মোবাইল অপাটেররদের টাওয়ার পরিচালনায় চারটি নতুন কোম্পানিকে নতুন করে দেওয়া হবে লাইসেন্স। সব মিলিয়ে দেশের মানুষ আরও সুলভে, সহজে ও মসৃণভাবে তথ্যপ্রযুক্তি সেবা পাবেন। ইতোমধ্যেই সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও তথ্যপ্রযুক্তি সেবা পৌঁছে দেওয়ার। সব মিলিয়ে ২০১৮ সাল হবে বাংলাদেশের জন্য তথ্যপ্রযুক্তিতে বৈপ্লবিক উন্নয়নের একটি বছর।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম আমাদের সময়কে বলেন, ফোরজি সেবা চালুর জন্য টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং বিটিআরসি সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। পেছনে যত সমস্যাই থাকুক, সব কিছু পেরিয়ে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে চতুর্থ প্রজন্মের প্রযুক্তি সুবিধা পাবেন গ্রাহকরা।

তিনি জানান, প্রথম প্রকাশিত ফোরজি গাইডলাইনের বিষয়ে অপারেটররা যে ২৩টি আপত্তি জানিয়েছিল, তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে অপারেটরদের বৈঠক হয়েছে। ইতোমধ্যে তাদের উত্থাপিত দাবি-দাওয়ার সমাধানও হয়েছে। সে অনুযায়ী সর্বশেষ প্রকাশিত ফোরজির গাইডলাইনে সংশোধন আনা হয়েছে। কিন্তু এর পরও কোনো অপারেটর আপত্তি তুললে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।

প্রতিমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, যদি কেউ (কোনো অপারেটর) সরকারকে জিম্মি করে ফোরজি সেবা চালুর ক্ষেত্রে টালবাহানা করে, তবে তা মানা হবে না। আসছে ফেব্রুয়ারিতেই ফোরজির তরঙ্গ নিলাম ও সেবা চালু হবে।

তিনি অপারেটরদের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, সরকারকে জিম্মি করে দাবি আদায়ের কৌশল মেনে নেওয়া হবে না। সরকারের সদিচ্ছাকে দুর্বলতা ভাবলে ভুল হবে। যারা আসবে, তাদের নিয়েই এ সেবা দেওয়া হবে। বাজারে রাষ্টায়ত্ত কোম্পানি টেলিটক আছে, তা ভুলে গেলে চলবে না।

তিনি আরও বলেন, ২০১৮ সালে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহজ, মানসম্পন্ন সেবা নিশ্চিত করা হবে। নতুন বছরে ফোরজি সেবা চালুর পাশাপাশি এপ্রিলের মধ্যে মোবাইল নম্বর অপরিবর্তিত রেখে অপারেটর বদলের সুযোগ (এমএনপি) সেবাও চালু এবং বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, আসছে বছরে টাওয়ার পরিচালনায় ৪টি নতুন কোম্পনিকে লাইসেন্স দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের জন্য বিটিআরসিকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে