জনতার মুখোমুখি অনুষ্ঠানে যাননি ঝন্টু-আসিফ

সমর্থকদের মাঝে অসহিষ্ণুতা

  নজরুল মৃধা, রংপুর

১২ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে জাতীয় পার্টি ও বিএনপির একাধিক নেতা দলবল নিয়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করায় নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে। লাঙল ও নৌকা মার্কার সমর্থকরা অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছে। রবিবার একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের টক শোতে এ দুই দলের সমর্থদের মাঝে ধৈর্যহীনতা লক্ষ করা গেছে। তাদের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ হওয়ার জন্য সুজনের উদ্যোগে গতকাল সকালে টাউন হল মাঠে মেয়র প্রার্র্থীদের নিয়ে জনগণের মুখোমুখি অনুষ্ঠান হয়। এ অনুষ্ঠানে যোগ দেননি আওয়ামী লীগ প্রার্থী।

রবিবার রংপুর জিলা স্কুল মাঠে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল মেয়র প্রার্থীদের নিয়ে সরাসরি টক শোর আয়োজন করে। টক শো চলাকালীন দর্শক সারিতে বসে থাকা একজন বলেন, আমার ওয়ার্ডে লাঙল মার্কা বিজয়ী হয়ে বসে আছে। ওই দর্শকের এমন কথায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ করে। এ দিয়ে দুপক্ষের মাঝে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। তাদের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন বিপুলসংখ্যক পুলিশ। দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের উপক্রম হলে দুই মেয়র প্রার্থীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তবে তাদের মাঝে উত্তেজনা চলে কয়েক ঘণ্টা।

আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কার মেয়র প্রার্থী সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু বলেন, আচরণবিধি সবার জন্য। সবাইকে আচরণবিধি মেনে চলতে হবে এবং নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে হবে। সব পক্ষকেই সংযত হয়ে চলতে হবে।

মেয়র প্রার্থীদের নিয়ে জনগণের মখোমুখি অনুষ্ঠানে যাননি আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু। গতকাল রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এ অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির বিদ্রোহী প্রার্থী হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফও যাননি। অন্য ৫ মেয়র প্রার্থী জাতীয় পার্টির মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, বিএনপির কাওসার জামান বাবলা, বাসদের আবদুল কুদ্দুস, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের এটিএম গোলাম মোস্তফা ও এনপিপির সেলিম আক্তার যোগ দেন। ভোটাররা এ ৫ মেয়র প্রার্থীর কাছে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন।

জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা তার বক্তব্যে বলেন, আমি নির্বাচিত হলে প্রথম কাজ হবে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। এ ছাড়া শ্যামা সুন্দরী খালটি সংস্কার করে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করব।

বিএনপির কাওসার জামান বাবলা বলেন, আমি নির্বাচিত হলে দুর্নীতিমুক্ত পরিচ্ছন্ন সিটি করপোরেশন উপহার দেব। আমি দুর্নীতি করব না কাউকে দুর্নীতি করতে দেব না। মাদকমুক্ত এবং রাস্তাঘাটের উন্নয়ন অগ্রাধিকার পাবে। তিনি আরও বলে, সুষ্ঠু অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে শঙ্কিত রয়েছি।

বাসদের আবদুল কুদ্দুস বলেন, যানজট নিয়ন্ত্রণে অটোরিকশা চলাচলে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। দলীয় ও সন্ত্রাসমুক্ত সিটি করপোরেশন গড়ে তুলব। মেয়েদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব।

ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের এটিএম গোলাম মোস্তফা বলেন, সিটি নির্বাচনে টাকা দিয়ে যাতে ভোট কিনতে না পারে সে জন্য প্রশাসনের নজরদারি থাকতে হবে।

এনপিপির সেলিম আক্তার বলেন, নির্বাচিত হলে শিক্ষা ও চিকিৎসার সুব্যবস্থা করব সিটিবাসীর জন্য। রাস্তাঘাট সংস্কার ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন করব।

এদিকে বিএনপি ও জাপার বেশকিছু নেতাকর্মী আওয়ামী লীগ যোগদান করেন। রবিবার সন্ধ্যায় নগরীর শাপলা চত্বরে শ্রমিক লীগ আয়োজিত এক সমাবেশে বিএনপির মহানগর কমিটির সহসভাপতি সাবেক দর্শনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও জাতীয় পার্টির এরশাদ মুক্তি আন্দোলনের আহ্বায়ক আবদুল লতিফ খান ও মহানগর জাপার সাবেক সহসভাপতি নজরুল ইসলাম কালু নেতাকর্মীদের নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। তাদের সঙ্গে পাঁচশতাধিক নেতাকর্মী ছিলেন।

বিএনপি মহানগর শাখার সহসভাপতি ফতে আলী খোকন গত বৃহস্পতিবার রংপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি থেকে তার সম্পর্ক ছিন্ন করেন। পরে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন।

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে