কাউন্সিলর নিয়েই ব্যস্ত আ.লীগ কর্মীরা মেয়র পদে মনোযোগ জাপা-বিএনপির

  নজরুল মৃধা, রংপুর

১৩ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭, ০১:০৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের (রসিক) বাকি আর মাত্র ৮ দিন। কিন্তু নৌকার প্রার্থী ঝন্টুর পক্ষে তৃণমূল আওয়ামী লীগের কর্মীদের গা-ছাড়া ভাব দেখা যাচ্ছে। তারা বরং ৩৩টি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থক কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করছেন। অন্যদিকে জাতীয় পার্টির (জাপা) নেতাকর্মীরা কাউন্সিলর নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে মেয়র প্রার্থীকে নিয়েই প্রচার চালাচ্ছেন। কীভাবে লাঙলের প্রার্থীকে জেতানো যায়, তা নিয়ে সময় পার করছেন জাপা নেতাকর্মীরা। এ ছাড়া ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করা বিএনপির মেয়র প্রার্থীকে জেতানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা। বিএনপি নেতাকর্মীরা তাদের কাউন্সিলর প্রার্থীদের দিকে তেমন নজর দিচ্ছেন না।

এদিকে প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন এবং তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক আফজাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি টিম আজ বুধবার রংপুরে আসছে। এ ছাড়া যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাংঠনিক সম্পাদক ইমরান হোসেনের নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল রংপুরে অবস্থান করছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, প্রতিটি ওয়ার্ডেই আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী রয়েছেন। বেশ কটি ওয়ার্ডে বিএনপির একাধিক প্রার্থী থাকলেও অনেক ওয়ার্ডেই জাপার কোনো কাউন্সিলর প্রার্থী নেই। আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের কীভাবে জয়ী করা যায়, তা নিয়ে ব্যস্ত দলের কর্মীরা। মেয়র পদে কে জয়লাভ করবেন, এ নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই।

২১১ কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের শতাধিক প্রার্থী রয়েছেন। এই হিসেবে প্রতিটি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের ২ থেকে ৬ জন পর্যন্ত প্রার্থী রয়েছেন। তারা মাঠপর্যায়ে নিজেদের নিয়ে মাতামাতি করছেন। কীভাবে নিজে বিজয়ী হবেনÑ এ চিন্তায় মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। মেয়র কে হবেন, এ নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। এ কারণে একটু বেকায়দায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী শরফউদ্দিন আহমেদ ঝন্টু।

অন্যদিকে ৩৩ ওয়ার্ডের মধ্যে ১২ ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী এবং জাতীয় পার্টি ৭টি ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

নগরীর ১নং ওয়ার্ডে প্রার্থী ৬ জন। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থক ৪ জন। ২নং ওয়ার্ডে ৪ প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনই আওয়ামী লীগের। ৩ নং ওয়ার্ডে ১১ জনের মধ্যে ৪ জন আওয়ামী লীগের। ৪নং ওয়ার্ডে ৬ জনের মধ্যে ৩ জনই আওয়ামী সমর্থিত। ৫নং ওয়ার্ডে ৮ প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী সমর্থিত ৩ জন প্রার্থী রয়েছেন। ৬নং ওয়ার্ডে ৬ প্রার্থীর মধ্যে ৩ জন আওয়ামী লীগ ও ২ জন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী রয়েছেন।

জানা গেছে, ওয়ার্ড পর্যায়ে আওয়ামী সমর্থিত কাউন্সিল প্রার্থীরা নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত থাকায় মেয়র পদে প্রচারে তারা অংশ নিতে পারছেন না। ফলে মাঠপর্যায়ে নৌকার প্রচারে ভাটা পড়েছে। অন্যদিকে জাতীয় পার্টি হাতে গোনা কয়েকটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী দিলেও তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীরা কাজ করছেন লাঙলের পক্ষে। এ ছাড়া বিএনপিও কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করছে। সব মিলিয়ে দেখা গেছে, তৃণমূলের প্রচারে জাপা ও বিএনপির চেয়ে আওয়ামী লীগ কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে।

নৌকার প্রার্থীর পক্ষে কর্মীদের প্রচার কমÑ এমন অভিযোগ অস্বীকার করে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি ম-ল বলেন, কাউন্সিলর প্রার্থীদের ব্যস্ততায় নৌকা প্রতীকে কোনো প্রভাব পড়বে না। কারণ প্রতিটি ওয়ার্ডে নির্বাচন পরিচালনার জন্য ৭১ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করছেন।

এদিকে আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসের ওয়েবসাইট ঘেটে দেখা গেছে, সেখানকার তথ্যভান্ডার ফাঁকা। তথ্য না থাকায় নির্বাচন অফিসের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ভোটার, প্রার্থী ও গণমাধ্যমকর্মীরা। তাদের ওয়েবসাইটে সাবেক আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার নাম ও ছবি এখনো আপলোড করা আছে। অথচ আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা বদলি হয়েছেন ৬ মাস আগে। ওয়েবসাইটে অন্য কর্মকর্তাদের নামের তালিকাটিও পুরনো। প্রদেয় সেবা সমূহের তালিকা ফাঁকা, সিটিজেন চার্টার, আইন সার্কুলার ও ডাউনলোডের ঘরটি ফাঁকা। সেখানে কোনো কিছু আপলোড করা হয়নি। ফলে আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসের ওয়েবসাইট থেকে কোনো ধরনের তথ্য মিলছে না।

এ বিষয়ে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সরকার জানান, ওয়েবসাইটে খুব দ্রুত সব কিছু আপলোড করা হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে