দুই দলে মনোনয়নপ্রত্যাশী ১১

  আশরাফুল আলম লিটন, মানিকগঞ্জ

২০ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০১৮, ০১:০৭ | প্রিন্ট সংস্করণ

শিবালয়, ঘিওর ও দৌলতপুর উপজেলা নিয়ে মানিকগঞ্জ-১ আসন। প্রথম থেকে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত এটি মানিকগঞ্জ-৪ আসন ছিল। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আসন পুনর্বিন্যাস করায় মানিকগঞ্জের আসন সংখ্যা চার থেকে কমে হয় তিনটি হয়। ফলে মানিকগঞ্জ-১ আসনে ঘিওর ও দৌলতপুর উপজেলার সঙ্গে শিবালয় উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান সাংসদসহ পাঁচজন ও বিএনপির ছয় নেতা মনোনয়নপ্রত্যাশী।

১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এ এম সায়েদুর রহমান। ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি হন বিএনপির সাবেক মহাসচিব প্রয়াত খন্দকার দেলোয়ার হোসেন। ১৯৮৬ সালে তৃতীয় সংসদ ও ১৯৮৮ সালে চতুর্থ সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির নেতা মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান। ১৯৯১ সালের পঞ্চম, ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ষষ্ঠ ও ১৯৯৬ সালের জুন মাসে সপ্তম ও ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় নির্বাচিত হন খন্দকার দেলোয়ার হোসেন।

খন্দকার দেলোয়ার ১৯৯১ ও ২০০১ সালে জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় এবং ১৯৯৬ সালে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ছিলেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে তাকে পরাজিত করে এ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী এবিএম আনোয়ারুল হক। ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনে তাকে বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া হয় জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয়কে। তিনি জাসদ প্রার্থী আফজাল হোসেন খান জকিকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একাদশ সংসদ নির্বাচনেও তার মনোনয় প্রায় নিশ্চিত বলে জানা যায়। দুর্জয় ছাড়াও এ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা হলেন সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম আনোয়ারুল হক, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম, যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম জাহিদ ও মানিকগঞ্জ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার সুভাষ চন্দ্র সরকার।

বর্তমান সাংসদ দুর্জয়ের সময়কালে বরঙ্গাইল থেকে দৌলতপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক, শিবালয়ের জাফরগঞ্জ-আরিচা পর্যন্ত যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ, দৌলতপুরের বাঁচামারা, চরকাটারী ও ঘিওরের কুস্তা এলাকায় নদীর তীর সংরক্ষণ, দুটি কলেজ সরকারিকরণ, যুব কমপ্লেক্স ভবন ও উপজেলা কমপ্লেক্স নির্মিত হয়েছে। এ ছাড়া পাটুরিয়ায় আন্তর্জাতিকমানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান যাচাইসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করায় এবারের নির্বাচনে তিনি দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে তিনি যথেষ্ট আশাবাদী।

আওয়ামী লীগের পাঁচ সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্যে মাঠে দৃশ্যমান কর্মকা-ে জড়িত রয়েছেন নাঈমুর রহমান দুর্জয়। এ ছাড়া মাঠে প্রচার চালাচ্ছেন এসএম জাহিদ। আর বাকি সম্ভাব্য প্রার্থীরা শুধু ব্যানার-ফেস্টুনের মাধ্যমেই প্রার্থিতা জানান দিচ্ছেন।

এ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ছয়জনের নাম আলোচনায় আছে। তারা হলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জেলা সভাপতি আফরোজা খান রিতা, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এসএ জিন্নাহ কবীর, বিএনপির সাবেক মহাসচিব অ্যাডভোকেট খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে অ্যাডভোকেট খন্দকার আবদুল হামিদ ডাবলু, আরেক ছেলে ড. খন্দকার আকবর হোসেন বাবলু ও দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান তোজাম্মেল হক তোজা।

মুন্নু গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফরোজা খান রিতা সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত হারুনার রশীদ খান মুন্নুর মেয়ে। ইতিপূর্বে হরিরামপুর ও শিবালয় উপজেলা নিয়ে একটি আসন ছিল। ওই আসনে সংসদ সদস্য ছিলেন হারুনার রশীদ খান মুন্নু। পরবর্তী সময়ে একটি আসন কমে যাওয়ায় শিবালয় উপজেলা বর্তমান মানিকগঞ্জ-১ আসনের সঙ্গে যোগ হওয়ায় রিতা এ আসনেও প্রার্থী হবেন বলে জানা গেছে। তিনি মানিকগঞ্জের তিনটি আসনেই দলীয় মনোনয়ন চাইবেন। বাবার জনপ্রিয়তার পাশাপাশি রিতাও স্থানীয়ভাবে ব্যাপক জনপ্রিয়। তার মতো দক্ষ ও জনপ্রিয় মানুষ প্রার্থী হলে বিএনপি তার হারানো আসন ফিরে পেতে পারে বলে মনে করছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

রিতা ছাড়াও দলটির অন্যান্য সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্যে মাঠে দৃশ্যমান কর্মকা-ে জড়িত রয়েছেন এস এ জিন্নাহ কবীর। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে গুঞ্জন রয়েছে বাবার আসনে মনোনয়ন পেতে পারেন খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে ডাবলু অথবা বাবলু।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে