পরিকল্পনাকারী কারা?

  হাবিব রহমান

১৮ এপ্রিল ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০১৭, ০০:২৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেটে জঙ্গিবিরোধী অভিযানের সময় আতিয়া মহলের কাছে জোড়া বিস্ফোরণে র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার প্রধান ও দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ নিহত হন সাতজন। আহত হন ৪০ জনের বেশি। কিন্তু ঘটনার প্রায় ২৩ দিন পার হলেও কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, এক প্রকার অন্ধকারেই চলছে মামলার তদন্তকাজ। তাই ওই ঘটনায় কারা জড়িত এবং কোন কোন ব্যক্তির পরিকল্পনায় হামলা হয়েছে জানতে চান নিহত পুলিশ কর্মকর্তাদের স্বজনরা।

নিহত পুলিশ পরিদর্শক চৌধুরী মো. আবু কাইছারের ছোট ভাই চৌধুরী মো. আবু উবায়েদ গতকাল আমাদের সময়কে বলেনÑ কারা এসব করছে, তাদের বিষয়ে শুধু আমরা নয় পুরো জাতিই জানতে চায়। আজকে আমার ভাই গেল অন্যদিন হয়তো আরেকজন যাবেন। কিন্তু এটা তো হতে পারে না।

গত ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় জঙ্গি আস্তানায় সেনা অভিযানের মধ্যে জোড়া বোমা বিস্ফোরণে সাতজন নিহত হওয়ার ঘটনায় সিলেটের মোগলাবাজার থানায় দুটি মামলা হয়। একটি হত্যা মামলা, অন্যটি বিস্ফোরক আইনে। থানাপুলিশের পাশাপাশি ঘটনার ছায়া তদন্তে নেমেছে র‌্যাব ও পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। এ ছাড়া একাধিক গোয়েন্দা সংস্থাও ঘটনা অনুসন্ধান করছে।

জানা গেছে, সিলেটের ওই ঘটনার পর মৌলভীবাজার জেলার দুটি জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালায় সিটিটিসি। অভিযান শেষে ব্রিফিংয়ে সিটিটিসির এক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, নিহত জঙ্গিদের অন্তত একজন সিলেটের শিববাড়ি এলাকার আতিয়া মহলে সেনা অভিযানের সময় জোড়া বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত। বড়হাটের আস্তানা থেকে ওই জঙ্গি সিলেট গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আবার ফিরে আসে। তার সঙ্গে আরও কেউ থাকতে পারে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আতিয়া মহলের কাছে একটি ব্যাগে বিস্ফোরক ছিল। সেটি বিস্ফোরিত হলে হতাহতের ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনার সময় জঙ্গিদের কেউ সেখানে উপস্থিত ছিল কিনা তা নিশ্চিত নন পুলিশ কর্মকর্তারা। অবশ্য শুরু থেকেই এটিকে ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবে অভিহিত করে আসছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। ওই ঘটনায় নিহত পুলিশ পরিদর্শক মনিরুল ইসলামের স্ত্রী পারভীন আক্তার বলেন, তাকে (নিহত মনির) আমরা গিয়ে মৃত পেয়েছি। তার মুখ থেকে কিছুই শুনতে পারিনি। তাই এটা হত্যা নাকি এক্সিডেন্ট (দুর্ঘটনা) তা ওপর আল্লাহই জানেন। বিচারের মালিক আল্লাহ। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর আশা রাখছি। তিনি বলেন, প্রিয়জন হারানোর বেদনা তো ভোলার নয়। তার হাতেই পরিবারের হালটা ছিল। আজকে আমরা সবাই অসহায়। একটি সন্তান আছে, তাকেই এখন মানুষ করতে চাই।

বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হয়েছিলেন র‌্যাবের গোয়েন্দাপ্রধান লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদ। তাৎক্ষণিক সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তার শরীরে কয়েক দফা অস্ত্রোপচার করেন চিকিৎসকরা। এরপর হেলিকপ্টারে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) আনা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আজাদকে পাঠানো হয় সিঙ্গাপুরে। তিনি মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তবে সেখানকার চিকিৎসকদের পরামর্শে তিনদিন পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে আবার সিএমএইচের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। গত ৩০ মার্চ রাতে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদের ছোট ভাই মো. ইউসুফ হাসান বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই। সব কিছু আমরা পরিষ্কারভাবে জানতে চাই। আমরা অপেক্ষায় আছি।

তবে গতকাল সিলেটের মোগলাবাজার থানার ওসি আমাদের সময়কে বলেন, আমরা বিভিন্ন জায়গা থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখছি। এখনো কাউকে গ্রেপ্তার বা শনাক্ত করা যায়নি।

এদিকে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনার বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। নব্য জেএমবির সদস্যরাই এই বিস্ফোরক রেখে যায় বলে নিশ্চিত হয়েছেন কর্মকর্তারা। মামলার ছায়া তদন্তে থাকা র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান আমাদের সময়কে বলেন, অন্যান্য ঘটনার মতো এ ক্ষেত্রেও আমরা ছায়া তদন্ত করছি। তবে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কিছু পাওয়া যায়নি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে