হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করবেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা

  গোলাম রাব্বানী

২১ এপ্রিল ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০১৭, ১১:৫৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় এক হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকে সই করেছেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। চারদিনের সরকারি সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদের নেতৃত্বে আড়াইশ জনের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল ছিল। নয়া দিল্লিতে ভারতীয় ১৫০ ব্যবসায়ীর এক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে অনুষ্ঠানে ১৩টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরিত হয়। এতে স্বাক্ষর করেন দুই দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা।

জানা গেছে, এ সময় জ্বালানি-বিদ্যুৎ ছাড়াও এ সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম, শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতে বিনিয়োগের চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়। এসবের মধ্যে রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র ও নেপাল থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহসহ পাঁচটি বিদ্যুৎ খাতের প্রকল্প রয়েছে। চারটি বিনিয়োগ প্রকল্প তেল, গ্যাস ও পেট্রোলিয়াম খাতে সহযোগিতার চুক্তি।

দুই দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের ১৩টি চুক্তির মধ্যে রামপালে ১৩২০ মেগাওয়াটের মাল্ট্রি পাওয়ার প্রকল্পে বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি (বিআইএফপিসিএল) এবং ভারতের এক্সিম ব্যাংক ঋণ প্রদানের চুক্তি করা হয়। এই চুক্তিতে প্রায় ১৬০ কোটি ডলারের বিনিয়োগের কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়া ভারতের রিলায়েন্স পাওয়ার ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মেঘনার ঘাটে তিন হাজার মেগাওয়াটের প্রথম ধাপে ৭১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ক্রয়ের চুক্তি করা হয়। পুরো প্রকল্পের বিনিয়োগ ৩০০ কোটি ডলার হলেও বর্তমানে ১০০ কোটি ডলারের চুক্তি হয়।

ভারতের এটিপিসি বিদ্যুৎ ভায়াপার নিগাম লিমিটেড এবং বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড নেপাল থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার জন্য ৩১৫ কোটি ডলারের সমঝোতা চুক্তি করে। এ ছাড়া এটিপিসি বিদ্যুৎ ভায়াপার নিগাম লিমিটেড এবং বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড ত্রিপুরা থেকে ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করার জন্য ১৪ কোটি ডলার বিনিয়োগের সমঝোতা চুক্তি করে।

ভারতের ঝাড়খ- আদানি পাওয়ার এবং বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের মধ্যে চুক্তির পাশাপাশি বিদ্যুৎ ক্রয়ের জন্য ঝাড়খ- আদানি পাওয়ার এবং পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ ভারতের ঝাড়খ- থেকে ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করার চুক্তি হয়। এ দুটি চুক্তি অনুযায়ী প্রায় ২০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ হবে।

এলএনজি টার্মিনাল ব্যবহারের জন্য ভারতের পেট্রোনেট এলএনজি লিমিটেড ও বাংলাদেশের পেট্রোবাংলার মধ্যে ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ চুক্তি হয়।

ভারতের রিলায়েন্স পাওয়ার ও পেট্রোবাংলায় প্রতিদিন ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট উৎপাদন সক্ষমতার এলএনজি প্লান্ট স্থাপন করার সমঝোতা চুক্তি হয়। কুতুবদিয়ার দ্বীপে এলএনজি প্লান্ট স্থাপনে প্রায় ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ হবে।

ইন্ডিয়া ওয়েল করপোরেশন লিমিটেড এবং পেট্রোবাংলার মধ্যে সমঝোতা চুক্তিসহ ভারতের নুমালিগর রিফাইনারি লিমিটেড এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন গ্যাসওয়েল আদান-প্রদানের জন্য ৫ কোটি ডলারের চুক্তি হয়েছে।

কনটেইনার করপোরেশন অব ইন্ডিয়া লিমিটেড এবং কনটেইনার করপোরেশন অব বাংলাদেশ লিমিটেড কনটেইনার পরিবহনের বিস্তৃতি ও উন্নয়নের জন্য পারস্পারিক সহযোগিতার লক্ষ্যে সমঝোতা চুক্তি করে। এ ছাড়া ভারতের টাটা মেডিক্যাল সেন্টার এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ডাইরেক্টর জেনারেল মেডিক্যাল সার্ভিসের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

আর শিক্ষা খাতে ভারতের তামিলনাড়– ভেটেরিনারি সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়, চেন্নাই এবং চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এ ছাড়া ভারতের বিশ্বভারতী শান্তি নিকেতন এবং খুলনায় নর্দান ব্যবসা ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমঝোতা সই হয়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে