পদ্মা সেতু ঘিরে চরাঞ্চলে সোনালি দিনের হাতছানি

  সম্পা রায়, শিবচর

২১ এপ্রিল ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০১৭, ০০:৩৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

যে চরাঞ্চলের সঙ্গে এখনো স্থাপিত হয়নি সরাসরি সড়ক যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহসহ আধুনিক যুগের সুযোগ-সুবিধা, সেই জনবিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলসহ পদ্মা তীরবর্তী এলাকা ঘিরেই চলছে দেশের সব মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা। এতে অবহেলিত চরাঞ্চলসহ দক্ষিণাঞ্চলজুড়েই এখন সোনালি দিনের হাতছানি। ইতোমধ্যেই পদ্মার পারে ৭০ একর জায়গায় দেশের প্রথম ইনফরমেশন টেকনোলজি ইনস্টিটিউট ও হাইটেক পার্ক এবং বেনারসিপল্লী নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলে অলিম্পিক ভিলেজ, বিমানবন্দরসহ মেগা সব প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে।

একাধিক সূত্রে জানা যায়, পদ্মা সেতুর সংযোগ সড়ক, সার্ভিস এরিয়া ও পুনর্বাসন প্রকল্প নির্মাণ শেষে মূল সেতুর কাজ চলছে দ্রুতগতিতে। নির্ধারিত সময়েই সেতুর কাজ সম্পন্ন হওয়া নিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ প্রহর গুনছে। এরই মাঝে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পদ্মা নদীর চরাঞ্চল ও তীরবর্তী এলাকাসহ সংলগ্ন এলাকায় মেগা প্রকল্পের সম্ভাব্য স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। গত ১১ মার্চ কুতুবপুরে ৭০ একর জায়গায় দেশের প্রথম ইনফরমেশন টেকনোলজি ইনস্টিটিউট ও হাইটেক পার্ক নির্মাণের ঘোষণা দেন তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক। এর পর পরই জমি অধিগ্রহণে চিঠি দিয়েছে মন্ত্রণালয়। একই ইউনিয়ন ও পার্শ্ববর্তী জাজিরার নাওডোবা অংশের ১০৮ একর জমিতে বেনারসিপল্লী প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ নির্মাণের জন্য ৭ একর জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আর নদীর জনবিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল চরজানাজাতে এক হাজার একর জমি ভরাট করা হচ্ছে অলিম্পিক ভিলেজ নির্মাণের পরিকল্পনা মাথায় রেখে, যেখানে ৭টি স্টেডিয়াম থাকবে বলে জানা গেছে। পাশেই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট সিটি নির্মাণের জন্য গৃহায়ণ মন্ত্রণালয় ১২শ একর জমি শনাক্ত করেছে। চরাঞ্চল বন্দরখোলায় ৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে ও ৫ কিলোমিটার প্রস্তের বিমানবন্দর নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে।

চরজানাজাতের বাসিন্দা সিরাজ মাদবর বলেন, ‘পদ্মা সেতু হওয়ার কারণে এই চরে সরকার অনেক বড় বড় প্রকল্প করার চিন্তা করছে, এইডা আমাগো জন্য উপকার হইব। তয় নদী ভাঙন আগে ঠেকাইতে হইব। আর পদ্মা সেতুর কাজ তাড়াতাড়ি যেন শেষ হয় এইডাই আমাগো চাওয়া।’

আরেক ক্ষতিগ্রস্ত মালেক তালুকদার বলেন, ‘পদ্মা সেতুর জন্য জমি দিছি। এখন এই চরে বিমানবন্দর, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট শহর, অলিম্পিক ভিলেজ, হাইটেক পার্কসহ বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ শুরু করবে সরকার। আমরা এ সকল প্রতিষ্ঠানের জন্যও জমি দেব। তবে সরকারের কাছে আমাদের দাবি, আমরা যেন জমির ন্যায্যমূল্য পাই।’

স্থানীয় ইমরান হোসেন বলেন, ‘আমাদের এই অবহেলিত চরে সরকার যে সকল প্রতিষ্ঠান করার চিন্তা করছে, এটা আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। তবে এসব প্রতিষ্ঠানে আমাদের এলাকার লোকদের যেন কাজ করার সযোগ দেওয়া হয়, এই দাবি জানাই সরকারের কাছে।’

গৃহায়ণ মন্ত্রণালয় যশোর জোনের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী দীপক সরকার জানান, এই বিশাল চরে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট শহর নির্মাণের প্রাথমিক সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে। এখানে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসমৃদ্ধ বিমানবন্দর ও অলিম্পিক ভিলেজসহ বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান আহমেদ জানান, এই চরাঞ্চল হচ্ছে পদ্মা সেতুর একটি প্রান্ত। এখানে হাইটেক পার্ক, বেনারসিপল্লী, অলিম্পিক ভিলেজসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সরকারের বিভিন্ন সংস্থা পরিদর্শন করে স্থান পছন্দ করেছে। এক সময়ের অবহেলিত এই জনপদ শিক্ষা, যোগাযোগ ও শিল্পায়নসহ বিভিন্ন দিক দিয়ে জেগে উঠছে। এটা শুধু সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তের কারণেই।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে