বারডেমে চালু হলো নূর আলী ওয়ার্ড

  নিজস্ব প্রতিবেদক

২১ এপ্রিল ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০১৭, ০৯:৫৭ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর বারডেম হাসপাতালের ইব্রাহিম কার্ডিয়াক অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটে চালু হয়েছে অত্যাধুনিক একটি ওয়ার্ড। এর নাম রাখা হয়েছে ‘নূর আলী ওয়ার্ড’। ইউনিক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহা. নূর আলীর অনুদানে আইসিইউর সমমানের এই ওয়ার্ডটি করা হয়েছে। এ জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে সম্মানিত করতে ওয়ার্ডের এমন নামকরণ করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন এই ওয়ার্ড উদ্বোধন করেন। মোহা. নূর আলীও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

নূর আলী ওয়ার্ডের শয্যা থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জামাদি ক্রয়ে সার্বিক অর্থসহায়তা দিয়েছেন মোহা. নূর আলী। সমাজসেবামূলক এ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এবং তার স্ত্রী সেলিনা আলীকে সম্মাননা প্রদান করেছে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি। ওয়ার্ড চালুর প্রাক্কালে আনুষ্ঠানিকভাবে এ দম্পতির হাতে সম্মাননা পদক তুলে দেন আসাদুজ্জামান নূর। সেলিনা আলী অসুস্থ থাকায় তার পক্ষে সম্মাননা ক্রেস্ট গ্রহণ করেন ইউনিক গ্রুপের উপদেষ্টা ও সাবেক সচিব মো. মোহসিন।

আসাদুজ্জামান নূর বলেন, আমাদের শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দেশে অসংখ্য মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল হলেও শিক্ষকের বড় অভাব। ভালো শিক্ষক না থাকলে শিক্ষার্থীরা ভালো মানের শিক্ষা পাবে কীভাবে? মেডিক্যাল কলেজগুলোতে কী লেখাপড়া হচ্ছে, তা নিয়ে চিকিৎসকদেরই প্রশ্ন রয়েছে। সেখান থেকে যারা পাস করছেন, তারা কী করবেন?

বারডেমে অত্যাধুনিক ওয়ার্ড চালুর ক্ষেত্রে অর্থসহায়তার জন্য মোহা. নূর আলীকে ধন্যবাদ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আশা করি তার এমন মহতী উদ্যোগ যেন অব্যাহত থাকে। সেটা শুধু ঢাকায় নয়, ঢাকার বাইরেও। দেশের অন্য ব্যবসায়ীরাও যদি তার মতো মমতার হাত বাড়িয়ে দেন, তা হলে দেশের মানুষ উন্নততর চিকিৎসাসেবা পাবে। আমরা যে কাজই করি, তা যেন মানুষের জন্য মঙ্গলজনক হয়। তবেই দেশের মানুষের মুখে হাসি থাকবে।

কমিউনিটি ক্লিনিক প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ত্রুটি থাকলেও গ্রামাঞ্চলের কমিউনিটি ক্লিনিক স্থানীয় মানুষের জন্য ভালো হয়েছে। বিশেষ করে সেখানে মা ও শিশু সহজেই প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা নিতে পারছে।

মোহা. নূর আলী বলেন, বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর ৪২ লাখ লোক ইউরোপ, আমেরিকা, সিঙ্গাপুর, থ্যাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে যান। এদের মধ্যে যারা চিকিৎসাসেবা নিতে যান, তারা মূলত দেশের চিকিৎসাসেবার ওপর সন্তুষ্ট নন। তাই চিকিৎসাসেবা খাতে এখনো অনেক কিছুই করার আছে; এর মান বৃদ্ধি করা দরকার। শুধু তা-ই নয়, আমাদের দেশের অনেক হাসপাতালে দামি দামি ইক্যুইপমেন্ট অযতেœ-অবহেলায় পড়ে আছে, নষ্ট হয়ে যাচ্ছে যথার্থ ব্যবহারের অভাবে।

তিনি বলেন, ইব্রাহিম কার্ডিয়াক মানবসেবার মহান উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছে। আমি তাদের অভিনন্দন জানাই।

নবাবগঞ্জে আমাদের কিছু জমি আছে। ইব্রাহিম কার্ডিয়াক যদি তাদের চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারনে সেখানে কিছু করতে চায়, তা হলে আমি এগিয়ে আসব, বলেন মুক্তিযোদ্ধা মোহা. নূর আলী।

বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডা. একে আজাদ খান বলেন, নূর আলী সাহেবকে অভিনন্দন। আজ আমাদের এই অনুষ্ঠান করার নেপথ্যে বড় একটি উদ্দেশ্য রয়েছে। এটা দেখে যেন অন্য ব্যবসায়ী ও ধনী ব্যক্তিত্বরা নূর আলী সাহেবের মতো এগিয়ে আসেন, আমরা সেই বার্তা পৌঁছে দিতে চাই। মানুষের বিত্তের সঙ্গে যেন চিত্তেরও সমন্বয় ঘটে। যে ব্যক্তি তার আয় ভালো কাজে ব্যয় করবেন, আল্লাহ তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেবেন। আমরাও চাই যিনি ভালো কাজে অর্থ ব্যয় করবেন, তার মর্যাদা বাড়ুক।

স্বাগত বক্তব্যে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক অ্যান্ড ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অধ্যাপক এমএ রশিদ বলেন, সম্পদ অর্জনের মধ্যে যেমন আনন্দ, তেমনি সেই সম্পদ ভালো কাজে ব্যয়ের মধ্যেও আনন্দ আছে। তেমনই একটি কাজ করেছেন ব্যবসায়ী মোহা. নূর আলী। আমরা মূলত তার কাছে বারডেম হাসপাতালে কিছু অনুদান দেওয়ার জন্য চিঠি দিয়েছিলাম। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আমাদের প্রত্যাশাকে ছাপিয়ে গেছেন। হৃদরোগীদের চিকিৎসায় ইব্রাহিম কার্ডিয়াক অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতিসমৃদ্ধ একটি ওয়ার্ড করে দিয়েছেন তিনি। এতে ব্যয় হওয়া যাবতীয় অর্থ বহন করেছেন।

বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সহ-সভাপতি মেজর জেনারেল (অব) অধ্যাপক ডা. এ আর খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনিক গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এম লিয়াকত আলী খান।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে