ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম হত্যা মামলা

সুমীর বান্ধবীকে খুঁজছে পুলিশ

  ইউসুফ সোহেল

২১ এপ্রিল ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০১৭, ০০:২২ | প্রিন্ট সংস্করণ

ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম হত্যা মামলায় সাবেক কাস্টমস কমিশনার শাহাবুদ্দিন নাগরী এবং তার বান্ধবী নুরানী আক্তার সুমীর গাড়িচালক সেলিমকে জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। পুলিশের ধারণা, অনৈতিক সম্পর্কের জেরে পরিকল্পিত খুনের শিকার হন ওই ব্যবসায়ী। পাঁচ দিনের রিমান্ডে থাকা শাহাবুদ্দিন নাগরী, সুমী ও সেলিমকে দফায় দফায় মুখোমুখি করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা। গতকাল ছিল রিমান্ডের ৩য় দিন। গতকালও ঘটনাটি হত্যাকা- বলে স্বীকার করেননি তারা।

এদিকে সুমীর এক বান্ধবীকে খুঁজছে পুলিশ। তার মাধ্যমেই নাগরীর সঙ্গে পরিচয় হয় সুমীর। তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ওই তরুণীকে পেলে ঘটনার রহস্য অনেকটাই খোলসা হয়ে যাবে।

সূত্রে জানা গেছে, সুমীর ওই বান্ধবীর সঙ্গে লিভ টুগেদারের সূত্র ধরেই প্রথমে শাহাবুদ্দিন নাগরীর পরিচয় হয় নুরুল দম্পতির। বান্ধবীর অনুরোধে সুমী প্রথমে একদিন বান্ধবী ও নাগরীকে তাদের বাসায় একান্তে সময় কাটাতে দিয়েছিলেন। একপর্যায়ে নাগরীর চোখ পড়ে সুমীর ওপর। সুমীও টাকার লোভে শাহাবুদ্দিন নাগরীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। কিন্তু গোল বাধে ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম বিষয়টি জানার পর। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রথম দিকে ঝগড়াও হয়। কিন্তু সমস্যার সমাধান ঘটে মোটা অঙ্কের টাকায়। প্রলোভনে জড়িয়ে অপকর্মে সায় দেয় নুরুল ইসলাম। কিন্তু পকেটে অর্থ এলেও ক্রমশই দূরে যেতে থাকে স্ত্রী সুমী। আচার-আচরণ থেকে শুরু করে শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন ঘটতে থাকে তাদের মধ্যে।

সূত্র জানায়, দামি-দামি উপহার দিয়ে পরিচয়ের খুব অল্প দিনেই সুমীকে কাছে টেনে নেয় নাগরী। পরে স্বামীর উপস্থিতিতে সময় কাটাতে থাকেন সুমী। একপর্যায়ে শাহাবুদ্দিন নাগরী ও সুমী ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখতে থাকেন। কিন্তু সোনার ডিম হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কায় তাদের মধ্যে বাধা হয়ে দাঁড়ায় নুরুল ইসলাম। স্ত্রীকে বশে রাখতে নাগরীর সঙ্গে মনমালিন্যে জড়িয়ে পড়েন তিনি।

এলিফ্যান্ট রোডের ডোম-ইনো অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের সিসি টিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে এবং ভবনের একাধিক বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। সর্বশেষ ১২ এপ্রিল রাত ১২টার দিকে নুরুল ইসলাম ফ্ল্যাটে ঢোকেন। পর দিন বিকাল ৩টা ১৩ মিনিটে ওই অ্যাপার্টমেন্টে যান শাহাবুদ্দিন নাগরীও। এ সময় অত্যন্ত স্বাভাবিক ছিলেন তিনি। ভবন থেকে বেরিয়ে যান সন্ধ্যা ৭টা ১৭ মিনিটে। এ সময় বেশ উ™£ান্ত দেখা যায় শাহাবুদ্দিন নাগরীকে। এর পর ওই ফ্ল্যাট থেকে কাউকে বের হতে দেখেননি কেউ। রাত ১০টার দিকে সুমীর গাড়িচালক সেলিম এসে নিরাপত্তারক্ষীদের জানান ম্যাডাম (সুমী) অসুস্থ। ফ্ল্যাটে গিয়ে ১৫ মিনিটের মধ্যেই ফিরে এসে সেলিম জানান, স্যার (নূরুল ইসলাম) অসুস্থ, ফ্লোরে পড়ে আছেন। খবর পেয়ে ভবনে থাকা চিকিৎসক রবিউল হালিম মুন্না সুমীর ফ্ল্যাটে গিয়ে নুরুল ইসলামকে পরীক্ষা করে জানান, অনেক আগেই মারা গেছেন। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে রাত ১টার দিকে পুলিশ আসে। পুলিশ নুরুল ইসলামের মরদেহ তার বেডরুমের খাটের নিচে অর্ধেক বাকিটা মেঝের ওপর থেকে উদ্ধার করে। এ সময় নিহতের মুখে রক্ত জমাটবাঁধা ছিল। লাশের পাশেই অত্যন্ত বিচলিত ছিলেন সুমী। প্রথম থেকেই বিষয়টি রহস্যজনক মনে হওয়ায় পরে সুমী ও তার গাড়িচালক সেলিমকে আটক করে পুলিশ। এর পর বেরিয়ে আসতে থাকে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।

ব্যবসায়ী নুরুল হত্যা মামলার বাদী তার বোন কাজল জানান, সুমীর সঙ্গে বিয়ের পর থেকে ভাইয়ের যোগাযোগ কম ছিল। সুমী তার ভাইকে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথাবার্তা বলতে দিতেন না। উগ্রভাবে চলাফেরা করতেন। ভাই নিহত হওয়ার খবর পেয়ে ঢাকায় আসেন তারা। ওই অ্যাপার্টমেন্টে বসবাসকারীদের সঙ্গে কথা বলে তারা জানতে পারেন, নাগরী নামে একজন মানুষ এই বাসায় নিয়মিত আসতেন। তার সঙ্গে সুমীর গভীর সম্পর্ক রয়েছে। পরে তারা জানতে পারেন এই হত্যাকা-ে সুমীও জড়িত। তারা পরিকল্পিতভাবে হত্যাকা-কে স্বাভাবিক মৃত্যু বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে মামলার সিদ্ধান্ত নেন কাজল।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিউমার্কেট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাতলুবুর রহমান জানান, জিজ্ঞাসাবাদে শাহাবুদ্দিন নাগরী ও সুমী অত্যন্ত কৌশলী উত্তর দিচ্ছেন। তারা একেক সময় একেক ধরনের তথ্য দিচ্ছেন। তবে হত্যাকা-ের বিষয়ে মুখ না খুললেও অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার কথা অস্বীকার করেননি। গ্রেপ্তার দুজনের অনৈতিক সম্পর্ক ছাড়াও পারিবারিক ও আর্থিক কয়েকটি বিষয়কে সামনে রেখে সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে