পরকীয়া দেখে ফেলায় মেয়ে ও স্বামীকে হত্যা

  সজল ছত্রী, সিলেট

২১ এপ্রিল ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০১৭, ০০:২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

পরকীয়া দেখে ফেলায় সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পুটামারা এলাকার আব্দুস সালামের (৪৫) স্ত্রী রুশনা বেগম তার মেয়ে রুলি বেগম ও স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে চাঞ্চল্যকর এই জোড়া খুনের রহস্য উদ্ঘাটিত হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সিলেট পিবিআই কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল করিম মল্লিক জানান, পরকীয়ায় আক্রান্ত আব্দুস সালামের স্ত্রী রুশনা বেগমই ওই হত্যার পরিকল্পনা সাজায়। পরকীয়া দেখে ফেলায় প্রেমিকের সহযোগিতায় নিজের মেয়ে ও স্বামীকে হত্যা করে রুশনা বেগম।

গত বছরের ১৩ আগস্ট আব্দুস সালাম (৪৫) স্ত্রী রুশনা বেগম (৪০) ও মেয়ে রুলি বেগমকে (১৭) নিয়ে বাজার করতে যান কোম্পানীগঞ্জ বাজারে। রুশনার অভিযোগ ছিল, নির্জন হাওরে নৌকাযোগে ফেরার পথে ভাসুর আব্দুর নূর তার দলবল নিয়ে হামলা চালিয়ে আব্দুস সালাম ও রুলি বেগমকে হত্যা করে। নিজে আহত হয়ে আশ্রয় নেয় এক বাড়িতে। পরদিন রুলি ও সালামের লাশ হাওরে ভেসে ওঠে।

মরদেহ উদ্ধারের পর রুশনা বেগম দাবি করেছিল, সম্পত্তির লোভে স্বামীর ভাইয়েরা তার মেয়ে ও স্বামীকে হত্যা করেছে। এ অভিযোগে সে থানায় মামলাও করে। আসামিদের মধ্যে নেহারুন বেগম ও ফাহিমা বেগমকে আটকও করে পুলিশ। তবে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের তদন্তে পাল্টে যায় মামলার মোড়।

পুলিশ কর্মকর্তা রেজাউল করিম মল্লিক জানান, এ মামলার রহস্য উদ্ঘাটনে অনেক দিন ধরে কাজ করে পিবিআই। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুলিশ জানতে পারে মামলার বাদী নিহত রুলির মা রুশনা বেগমের সঙ্গে একই এলাকার মখন মিয়ার পরকীয়া ছিল। মেয়ে রুলি তা দেখে ফেলায় মেয়েকে হত্যার পরিকল্পনা করে মা। গত বছরের ৮ আগস্ট রুলি ও স্বামী আব্দুস সালাম নৌকযোগে বাজার থেকে ফেরার পথে মখন ও তার সহযোগীরা টাইয়া পাগলা বড় হাওরের মধ্যে তাদের হত্যা করে।

এ ঘটনায় পিবিআই ১০ এপ্রিল রুশনা ও মখনকে আটক করে। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে খুনের কথা স্বীকার করেছে। শিগগির এ মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে