উপস্থাপিকা ধর্ষণকা-ে সমঝোতার প্রস্তাব পলাতক মডেল নান্টুর

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর কদমতলীতে উপস্থাপিকা ও মডেলকে ধর্ষণে অভিযুক্ত অভিনেতা ও মডেল সরিফুল ইসলাম নান্টুকে দুদিনেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। উল্টো ভুক্তভোগীর স্বজনদের টাকার বিনিময়ে সমঝোতার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে নান্টুর পক্ষ থেকে। তবে এতে ব্যর্থ হয়ে ধর্ষিতা ও তার পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।

২৩ বছর বয়সী ভুক্তভোগী বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রী আমাদের সময়কে বলেন, বড় বোনের বাসায় থেকে আমি পড়াশোনা করি। অভিনয় এবং ফ্যাশন শোর কাজে নান্টুসহ আমরা কয়েকজন শিল্পী সম্প্রতি ভারতে যাই। কাজ শেষে নান্টুর সঙ্গে আজমীর শরিফে যাই আমি। ওই মাজার ছুঁয়ে নান্টু ওয়াদা করে, সে অবিবাহিত। এমনকি জীবনে আমার সঙ্গে কখনো মিথ্যা কথা বলবে না এবং প্রতারণাও করবে না বলেও জানায়। পাশাপাশি এও বলে, দেশে ফিরেই সে আমাকে বিয়ে করবে। তবে দেশে ফিরে সে অবশ্য আমাকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। তখন তার পরিবারের মাধ্যমে আমার অভিভাবকদের কাছে প্রস্তাব দেওয়ার অনুরোধ করলে সে বেঁকে বসে।

নির্যাতনের শিকার ওই মডেল বলেন, জরুরি কাজের কথা বলে গত ২ আগস্ট দুপুরে নান্টু আমার বাসায় আসে। এ সময় আমার দুলাভাই ব্যবসায়িক কাজে এবং বাচ্চাদের নিয়ে বোন বাসার বাইরে ছিলেন। নান্টু আমার বাসায় আসার পর তাকে ড্রয়িংরুমে বসতে দিয়ে চা বানাতে রান্নাঘরে যাই। চা নিয়ে ড্রয়িংরুমে ঢোকার পরপরই সে আমাকে জড়িয়ে ধরে। পরে জোর করে বিছানায় নিয়ে ধর্ষণ করে। আমি চিৎকার করতে চাইলে জানায়, দুদিন পরে তো আমাকেই বিয়ে করবে।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার পর অমি নান্টুর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে সে আমাকে বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে নানা ধরনের হুমকি দেয়। জানায়, ঘটনার দিন আমি যখন চা বানাতে রান্নাঘরে গিয়েছিলাম, তখন সে ওই ঘরে গোপন ভিডিও সেট করে রেখেছিল। তার সঙ্গে যোগাযোগ না রাখলে সে ধর্ষণের ওই ভিডিও এবং স্থিরচিত্র ফেসবুক এবং ইমুর মাধ্যমে প্রকাশ করে দেবে। এরই মধ্যে আমি জানতে পারি নান্টু বিবাহিত ও দুই সন্তানের বাবা। একপর্যায়ে ভিডিওটি প্রকাশ না করতে তাকে বারবার অনুরোধ করি। আমার বোনও তার কাছে অনুরোধ করেন। তারপরও নান্টু গত ৮ আগস্ট আমার ফেসবুক ইনবক্সে ওইদিনের আপত্তিকর ভিডিও পোস্ট করে দেয়। এ ছাড়া একটি ইমু অ্যাকাউন্ট খুলে ওইসব ছবি ও ভিডিও আমার বোনসহ আত্মীয়স্বজনের কাছে পাঠায়। পাশাপাশি আরও আপত্তিকর ছবি এবং ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় সে। এরপর গত বুধবার রাতে কদমতলী থানায় নারী নির্যাতন ও তথ্যপ্রযুক্তি আইনে একটি মামলা করি আমি। এখনো নান্টুকে পুলিশ খুঁজে পায়নি। তাকে গ্রেপ্তারে গণমাধ্যম ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সবার সহযোগিতা প্রার্থনা করেন তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তরুণীর কাছের একাধিক স্বজন জানান, থানায় মামলা হওয়ার পর আসামির স্বজন পরিচয়ে দুজন নারী-পুরুষ প্রথমে তাদের অর্থের বিনিময়ে বিষয়টির সমঝোতার প্রস্তার দেয়। এতে রাজি না হওয়ায় তারা দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে যায়। তাই অতিদ্রুত আসামি নান্টুকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান তারা।

এদিকে গতরাতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কদমতলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইদুল ইসলাম আমাদের সময়কে জানান, প্রযুক্তির সহযোগিতা নিয়ে অভিযুক্ত মডেলকে গ্রেপ্তারের সাধ্যমতো চেষ্টা চলছে। এমনকি থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা সদস্যদের পক্ষ থেকেও ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে জোরালো অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শিগগিরই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে দাবি করেন তিনি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে