বন্যায় রংপুরে প্রাথমিক ক্ষতি ২০ কোটি টাকা

  নজরুল মৃধা, রংপুর

১৯ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দ্বিতীয় দফা বন্যায় রংপুর বিভাগে ১০০ কিলোমিটার রেলপথ তছনছ হয়ে গেছে। এসব রেলপথের কোথাও নদী বইছে। ১২৫টির বেশি স্থানে সিøপার ধসে গিয়ে ২০ থেকে ২৫ ফুট গভীর গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। আবার কোথাও ভেঙে গেছে রেল ব্রিজ। পানির তোড়ে ভেসে গেছে রেললাইনের পাথর। দুটি আন্তঃনগরসহ ১১ জোড়া ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এ বিভাগে রেললাইনের ক্ষতি ২০ কোটি টাকার উপরে বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ। কর্মকর্তারা বলছেন, দুই সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। রেললাইন মেরামত কাজ চললেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। ঈদের আগে আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। এসব তথ্য পাওয়া গেছে পশ্চিমাঞ্চলীয় রেলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে।

রাজশাহীতে পশ্চিমাঞ্চলীয় রেলওয়ের প্রধান অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবারের বন্যায় রেলপথের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দিনাজপুর, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও ও কুড়িগ্রাম জেলায়। প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ না হলেও প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শুধু রেললাইনের ক্ষতির পরিমাণ ২০ কোটি টাকার উপরে।

সূত্রমতে, লালমনিরহাটের হাতিবান্ধায় ১২০ ফুট রেললাইন নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। সেখানে এখন নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এই পথে রেললাইন পুনঃস্থাপন করা সম্ভব কিনা তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বলা যাচ্ছে না। কুড়িগ্রাম জেলায় রেলের দুটি ব্রিজ ভেঙে গেছে। এগুলো মেরামত করতে বেশ সময় লাগবে। ফলে কুড়িগ্রামের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। রংপুরের কাউনিয়া-তিস্তা-মহেন্দ্র নগর পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার রেলপথের ২০টি স্থানে সিøপার সরে গিয়ে ২০ থেকে ২৫ ফুট গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। কদিন আগেও যে এখানে রেললাইন ছিল সেটি এখন বোঝার উপায় নেই। দিনাজপুরের চিরিরবন্দর থেকে মনমথপুর পর্যন্ত ২২ কিলোমিটারের ৪৮টি স্থানে সিøপার সরে গিয়ে রেললাইনের নিচের ৫ ফুট করে মাটি সরে গেছে। পাথরের কোনো অস্তিত্ব নেই এই রেলপথের। দিনাজপুরের ১৩ এম ব্রিজের দুপাশের ৫০ ফুট জায়গায় ৫ ফুট গভীর গর্ত হয়ে গেছে। এগুলো ভরাটের পরই রেল চলাচল করবে। দিনাজপুরের কাঞ্চন থেকে বাজনাহার পর্যন্ত ৪ কিলোমিটারজুড়ে সিøপার সরে গিয়ে ৮ ফুট গভীর গর্ত হয়েছে। এই স্থান মাটি দিয়ে ভরাট করা অনেকটাই সময়সাপেক্ষ। কাঞ্চন থেকে বিরল পর্যন্ত ১ কিলোমিটার রেললাইনে ১২ ফুট গভীর গর্ত হয়েছে। দিনাজপুর সদরের কাউগাঁ এলাকার এক কিলোমিটার রেললাইনে হয়েছে ৮ ফুট গভীর গর্ত। রেল কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে ১০০ কিলোমিটার রেলপথের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে রেল মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। সেখান থেকে জরুরি ভিত্তিতে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ এলে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন মেরামতের কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

এ ছাড়া বন্যার কারণে পঞ্চগড়-দিনাজপুর থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর একতা ও দ্রুতযান ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এ ছাড়া পার্বতীপুর থেকে পঞ্চগড়গামী ৪ জোড়া, তিস্তা-কুড়িগ্রাম-রমানাবাজার ৩ জোড়া এবং লালমনিরহাটের ভোটমারী থেকে বুড়িমারী পর্যন্ত ৪ জোড়া ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এসব ট্রেন কবে নাগাদ চলাচল করবে তা সঠিকভাবে বলতে পারছেন না কর্মকর্তারা। কোরবানির ঈদের আগের রংপুর বিভাগের রেল চলাচল স্বাভাবিক না হলে চরম ভোগান্তিতে পড়বে ঈদে ঘরে ফেরা মানুষ।

পশ্চিমাঞ্চলীয় রেলের প্রধান প্রকৌশলী রমজান আলী জানান, ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিসংখ্যান এখন পর্যন্ত নিরূপণ করা হয়নি। দিনজপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, ঠাকুরগাঁওসহ রংপুর বিভাগে প্রায় ১০০ কিলোমিটারের বেশি রেলপথ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি ব্রিজও রয়েছে। এসব মেরামতের কাজ চলছে। তবে কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলা যাচ্ছে না। আমরা জরুরি ভিত্তিতে বরাদ্দ চেয়েছি মন্ত্রণালয়ে। প্রাথমিকভাবে ক্ষতিও ধরা হয়েছে ২০ কোটি টাকা। ঈদের আগেই যাতে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয় সেই লক্ষ্যে কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

পশ্চিমাঞ্চলীয় রেলওয়ের প্রধান পরিবহন কর্মকর্তা বেলাল উদ্দিন জানান, বন্যার কারণে দুটি আন্তঃনগরসহ প্রায় ১১ জোড়া ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তিনি ঈদের আগের রেল পরিবহন স্বাভাবিক হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে