বন্যার পর রংপুরের কৃষকদের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা

  নজরুল মৃধা, রংপুর

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০০:১৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার কাবিলপুর ইউনিয়নের মৃত আমিন নুরুল ইসলামের স্ত্রী রোদেলা বেগমের সমস্ত ধানক্ষেত এবারের বন্যায় তলিয়ে যায়। তিনি সরকারিভাবে আমন ধানের চারা পেয়ে বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। রোদেলা বেগমের মতো মিঠাপুরের রাসেল মিয়া, তসলিম মিয়াসহ অনেকেই আমন ধানের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারিভাবে চারা পেয়ে জমিতে রোপণ করেছেন। পীরগাছার কল্যাণীর বুলবুল মিয়া বাজার থেকে বীজ সংগ্রহ করে জমিতে লাগিয়েছেন। কাউনিয়ার আফজাল মিয়াসহ অনেকেই বন্যার ধকল কাটিয়ে আগাম রবিশস্য বপন করেছেন। বন্যার পর রংপুরের কৃষকরা এভাবেই ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন।

কৃষি অফিসের তথ্য মতে, বন্যায় রংপুর জেলায় ১ হাজার ৩২০ হেক্টর ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে শাকসবজির। এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য সরকারি ও বেসরকারিভাবে বীজতলা ও চারা সংগ্রহ করছেন কৃষকরা। এ ছাড়া আমন ধান বাদে কৃষকরা আগাম রবি ফসল শাকসবজি চাষাবাদে মনোযোগ দিয়েছেন।

গত মঙ্গলবার ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট আঞ্চলিক কার্যালয় প্রাঙ্গণে রংপুর অঞ্চলের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে রোপা আমন ধানের চারা বিতরণ করা হয়। ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয় প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রধান ড. মো. আবু বক্কর সিদ্দিক সরকারের সভাপতিত্বে ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রংপুর জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. জিয়াউল হক।

রংপুর জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, এ বছর বন্যায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। এজন্য বর্তমান সরকার সর্বতোভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। আগে কৃষকরা এক জমিতে বছরে একবার ফসল ফলাতেন কিন্তু এখন আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে একই জমিতে তিন থেকে চারটি ফসল উৎপাদন করছেন।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের আঞ্চলিক কার্যালয় প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আবু বকর সিদ্দিক সরকার বলেন, এবারের বন্যায় রংপুর এবং দিনাজপুর অঞ্চলে রোপা আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, যা উত্তরণের জন্য ব্রি ইতোমধ্যে ১১০০ কেজি ব্রি ধান ৩৪-এর বীজ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর দিনাজপুরের মাধ্যমে কৃষকদের মধ্যে চারা তৈরির জন্য বিতরণ করেছে। ব্রি রংপুর কার্যালয় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য প্রায় ২৫০ কেজি নাবি জাতের বিআর ২২, ব্রিধান ৩৪, ব্রিধান ৪৬সহ অন্যান্য স্বল্প জীবনকালের জাতের চারা ইতোমধ্যে উৎপাদন করে বিতরণ করা হচ্ছে। চারা দিয়ে প্রায় ১০০ বিঘা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে ধান রোপণ করা যাবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে