দুর্ভোগ পিছু ছাড়ছে না রোহিঙ্গাদের

  আবদুল্লাহ মনির, টেকনাফ

০৭ অক্টোবর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দুর্ভোগ পিছু ছাড়ছে না মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ায় পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের। গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে নতুন আশ্রিত রোহিঙ্গাদের। এই বৃষ্টির কারণে পাহাড় থেকে নেমে আসা পানি ত্রিপলের নিচে ঢুকে তাদের সব কিছু ভিজিয়ে নষ্ট করে দিয়েছে। কয়েক রোহিঙ্গা জানিয়েছেন, মিয়ানমার সেনা ও মগ সম্প্রদায়ের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে রোহিঙ্গারা নানা ভোগান্তির মধ্য পালিয়ে এলেও প্রাকৃতিক ভোগান্তি তাদের পিছু ছাড়ছে না।

শুক্রবার বিকালে টেকনাফের লেদা আন রেজিস্টার্ড ক্যাম্পে গিয়ে দেখা যায়, ক্যাম্পের পাশে ওপরে ত্রিপল দিয়ে তৈরি করা নতুন রোহিঙ্গাদের বসতঘরে বৃষ্টির পানিতে সব কিছু ভিজে একাকার। কথা হয় মংডুর নয়াপাড়া এলাকা থেকে এক মাস আগে আসা রোহিঙ্গা নারী আনোয়ারার সঙ্গে। তিনি জানান, মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও মগ সম্প্রদায়ের লোকজনের অমানবিক অত্যাচার, নিপীড়ন-নির্যাতন থেকে জীবন বাঁচাতে পরিবারের ১০ সদস্য নিয়ে শাহপরীর দ্বীপ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে আসেন। এরপর ঠাঁই হয় লেদা ক্যাম্পে। সেখানে কয়েকদিন থাকার পর পাশের একটি ছড়া পাড় হয়ে পাহাড়ের নিচে ১০-১৫ ফুটের একটি জমি মাসিক ৫০০ টাকায় ভাড়া নিয়ে ত্রিপলের ছাউনি দিয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কোনোমতে দিনযাপন করছেন। বৃষ্টি এলেই শুরু হয় নতুন করে ভোগান্তি। এই বৃষ্টির পানি ত্রিপলের বসতঘরে ঢুকে সব ভিজিয়ে দিয়ে যায়। রাতে ঘুমানো তাদের জন্য খুবই কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। আনোয়ারার পরিবারের মতো আরও অনেক রোহিঙ্গা পরিবারেরই এমন অবস্থা।

টেকনাফে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাতায়াতের রাস্তায় এখনো কাদামাটি। ইতোমধ্যে এসব রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় কাদামাটি পার হয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে রোহিঙ্গাদের। তারা আহার জোগাড় ও চিকিৎসার জন্য ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে ছুটে চলছে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে। তবে স্থানীয় প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ক্যাম্পে মেডিক্যাল টিম চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে। এতে নানা বয়সী রোহিঙ্গাদের চিকিৎসা নিতে দেখা যায়।

গত ২৫ আগস্ট রাখাইন রাজ্যে সহিংসতায় লাখ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এ পর্যন্ত পাঁচ লাখের অধিক রোহিঙ্গা এসেছে বলে জানায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা। তাদের জন্য টেকনাফ, উখিয়া ও নাইক্ষংছড়ি পাহাড়ি এলাকায় আশ্রয় শিবির খোলা হয়েছে। বন বিভাগের পাহাড় ও সমতলে নানা কষ্টের মাঝে ঠাঁই মিলছে রোহিঙ্গাদের।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাতেও শাহপরীর দ্বীপ সীমান্ত দিয়ে প্রায় ৫০০ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু ঢুকেছে। তবে আগের তুলনায় সে সংখ্যা কম বলে জানায় স্থানীয়রা। বৃষ্টির কারণে রোহিঙ্গারা কম আসে বলেও জানান তারা। ঢুকেপড়া রোহিঙ্গাদের সকালে শাহপরীর দ্বীপ থেকে সাবরাং হারিয়াখালী সেনাক্যাম্পে নিয়ে এসে ত্রাণ বিতরণের পর গাড়িতে উঠিয়ে পাশের ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে জানান স্থানীয় ইউপি সদস্য জাফর আলম।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে