বর্ষভিত্তিক গবেষণার স্বীকৃতি ফোকলোর বিভাগের

  জি.এ. মিল্টন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

০৭ অক্টোবর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

১৯৯৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘ফোকলোর’ বিভাগ। প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিবছর বিভাগের উদ্যোগে সম্পন্ন করা হয় ফিল্ডওয়ার্ক বা ক্ষেত্রসমীক্ষা। প্রতি ক্ষেত্রসমীক্ষায় শিক্ষার্থীরা পেয়ে থাকেন অনেক আনন্দ। পেয়ে থাকেন ঐতিহ্যবাহী স্থান দেখা ও মানুষের সঙ্গে মেশার সুযোগ। সেই গবেষণার অভিজ্ঞতা পরবর্তী জীবনে কর্মক্ষেত্রে কাজে লাগে। এভাবে প্রতিবছর গবেষণার কাজ করে আসছে বিভাগটি। তবে কোনো বছরই দেওয়া হয়নি এই ক্ষেত্রসমীক্ষার জন্য সনদপত্র। প্রথমবারের মতো এবারই বর্ষভিত্তিক গবেষণার স্বীকৃতি পেলেন বিভাগটির শিক্ষার্থীরা। বিভাগের ১৭তম ব্যাচের মাধমে ক্ষেত্রসমীক্ষার জন্য সনদপত্র প্রদান শুরু হয়।

গত বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিভাগের ১২০ নম্বর কক্ষে এ সনদপত্র প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রতিবছর ক্ষেত্রসমীক্ষার সনদপত্র প্রদান অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। সভাপতি তা অব্যাহত রাখাতে সম্মতিও জানিয়েছেন।

ওইদিন বিভাগে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সনদপত্র প্রদান করা হয়। বিভাগের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী বেঞ্জিরা খাতুন বর্ষার সঞ্চালনায় সনদপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মো. আক্তার হোসেন, অধ্যাপক ড. মো. আবুল হাসান চৌধুরী, অধ্যাপক ড. মোবাররা সিদ্দিকা, সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, সহকারী অধ্যাপক মো. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, ড. মো. হাবিবুর রহমান, ফারজানা রহমান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আমরা অনেক আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত যে, আমাদের বিভাগ প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে এভাবে ক্ষেত্রসমীক্ষার জন্য কখনো সনদপত্র প্রদান করেনি। এটাই বিভাগের প্রথম উদ্যোগ যে, ক্ষেত্রসমীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের সনদপত্র দেওয়া হচ্ছে। আমরা আশা করি এ সনদপত্র আমাদের শিক্ষার্থীদের চাকরি বা কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করবে। এটি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় ধরনের পাওয়া বলেও মনে করেন বক্তারা।

এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে বিভাগের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাশদুল ইসলাম রাসেল বলেন, ‘আমরা এ সনদপত্র পেয়ে অনেক আনন্দিত। আমাদের বিভাগ প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে প্রথমবারের মতো আমাদের ক্ষেত্রসমীক্ষার জন্য সনদপত্র প্রদান করেছে। আমি মনে করি, এ সনদপত্র আমাদের বিভিন্ন জায়গায় কাজে লাগবে। আমরা চাই এ ধরনের সনদপত্র যেন প্রতিবছর ফোকলোর বিভাগের শিক্ষার্থীদের দেয়া হয়।’

১৭তম ব্যাচের ক্ষেত্রসমীক্ষার তত্ত্বাবধায়ক ও বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারজানা রহমান বলেন, ‘প্রতিবছর তো আমরা সার্টিফিকেট দেই। তবে যদি তাদের ফিল্ডওয়ার্কের জন্য চার বছর চারটা সার্টিফিকেট দেয়া হয়, তা হলে তারা আরও বেশি লাভবান হবে। সেগুলো তাদের চাকরির ক্ষেত্রে কাজে লাগবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘গবেষণা ছাড়া আমাদের কিছুই কাজে দেয় না। যদি গবেষণার প্রমাণস্বরূপ আমরা শিক্ষার্থীদের চারটি সনদপত্র দিতে পারি, তা হলে সেটা আমার মনে হয় আরও বেশি ফলপ্রসূ হবে। প্রতিবছর যেন এ ধরনের সনদপত্র অব্যাহত রাখা হয়, সে বিষয়ে বিভাগের সভাপতির সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং তিনি প্রতিবছর দেওয়া হবে বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।’

এ বিষয়ে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মো. আক্তার হোসেন বলেন, ‘গবেষণাধর্মী কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ আমরা শিক্ষার্থীদের সনদপত্র দিয়েছি। আমরা আশা করি এ ধরনের সনদপত্র আমাদের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কাজে সহায়তা করবে।’

প্রতিবছর দেওয়া হবে কিনা সে ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের শিক্ষকরা যদি সহায়তা করেন, তা হলে আমরা প্রতিবছরই এ ধরনের গবেষণামূলক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে শিক্ষার্থীদের একটি করে সনদপত্র দেব।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে