রোহিঙ্গা এলাকা আলোকিত করতে বিদ্যুৎ দিচ্ছে বিআরইবি

  লুৎফর রহমান কাকন

১৫ নভেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০১৭, ০০:১৩ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রাণ বাঁচাতে প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ শুধু মানবিক আশ্রয়ই দেয়নি, ত্রাণ সরবরাহের পাশাপাশি আশ্রিত এলাকা আলোকিত করতে স্বল্পপরিসরে বিদ্যুতায়নও করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি এবং দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় রোহিঙ্গা এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ দিচ্ছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি)। যার পরিসর প্রতিনিয়তই বাড়ছে।

গত অক্টোবরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার সভাপতিত্বে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে বিভিন্ন ক্যাম্পে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুযায়ীই কাজ করছে বিআরইবি। মূলত রোহিঙ্গাদের রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

বিআরইবি সূত্র জানায়, উখিয়া উপজেলায় ছয়টি ও টেকনাফে দুটি নিবন্ধনকেন্দ্রে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রগুলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্ব¡াবধানে পরিচালিত হচ্ছে। এ ছাড়া নয়টি ত্রাণ বিতরণকেন্দ্র, তিনটি ত্রাণ বিতরণ ও গ্রহণের সমন্বয়কেন্দ্র, দুটি সেনাসদস্যদের আবাসিক স্থান, চারটি মোবাইল চার্জিং স্টেশন, ১৮০ ওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৫৭টি নিরাপত্তা বাতি, ৪০০ ওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১০টি ফ্লাডলাইট, চারটি মেডিক্যাল ক্যাম্প এবং ডব্লিউএফপির খাদ্যগুদামেও বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে আশ্রিতদের মধ্যে সোলার প্যানেল সরবরাহের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে অনেক রোহিঙ্গা শরণার্থীর ঘরে এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বিআরইবির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মঈনউদ্দিন আমাদের সময়কে বলেন, সরকারের নির্দেশনানুযায়ী সেখানে (রোহিঙ্গা আশ্রিত এলাকা) বিদ্যুতায়ন করা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি যতটা সম্ভব শরণার্থীদের বিদ্যুৎ সুবিধা দিতে। আপাতত বিভিন্ন ক্যাম্পে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। সরকারের পরবর্তী নির্দেশনানুযায়ী বিদ্যুৎ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

তবে রোহিঙ্গা এলাকায় ব্যবহৃত বিদ্যুতের বিল কে পরিশোধ করবে, এমন প্রশ্নে বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা আমাদের সময়কে বলেন, শরণার্থীদের ব্যবহৃত বিদ্যুৎ বিল সাধারণত ত্রাণ ব্যবস্থাপনা ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় থেকেই দেওয়া হয়।

এদিকে বিআরইবির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আমাদের সময়কে বলেন, উখিয়া ও টেকনাফে রোহিঙ্গাদের আশ্রিত এলাকায় ক্রমান্বয়ে আইনশৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় এসব এলাকায় আলো থাকা জরুরি। তাই ক্রমান্বয়ে রাস্তাঘাটে বিদ্যুতায়ন করা হবে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছেÑ বিদ্যুতায়নের জন্য ব্যবহৃত খুঁটি ব্যবহার করে সোলার প্যানেল বসাতে। সে উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

গত আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে মিয়ানমান সেনাবাহিনী রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর চরম নির্যাতন চালিয়ে আসছে। হত্যাও করা হয়েছে অনেককে। তাই প্রাণ বাঁচাতে তারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের হিসাবানুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রায় ছয় লাখ রোহিঙ্গা নাগরিক এ দেশে এসেছে। তবে আগে থেকেই প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা নাগরিক আশ্রিত।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে