মাসের শেষে ফের শৈত্যপ্রবাহ

ফেব্রুয়ারিতে বৃষ্টি

  মো. মাহফুজুর রহমান

১৪ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:২৭ | প্রিন্ট সংস্করণ

চলতি মাসের শেষদিকে আরও একটি শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ ছাড়া ফেব্রুয়ারিতে বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। বৃষ্টির কারণে মাসটির প্রথমদিকে আসছে আরেকটি শৈত্যপ্রবাহ। তবে ওই মাসের শেষদিকে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করবে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, শৈত্যপ্রবাহ কমে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। তবে শিগগিরই এ শীত যাচ্ছে না। থাকবে শীতের প্রকোপ। আকাশে মেঘ না থাকায় বিকালের পরই দ্রুত উষ্ণতা কমে যাচ্ছে। হাওয়ায় কনকনে ভাব বেশি থাকায় এ বছর তাপমাত্রা নেমে যাওয়ার গতি বেশি। তবে গত বুধবার থেকে সারা দেশে তাপমাত্রার উন্নতি হয়েছে। প্রতিদিনই বাড়ছে ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা। এভাবে দিন যত যাবে, তাপমাত্রা তত বাড়বে।

আবহাওয়া অফিস থেকে জানানো হয়, শৈত্যপ্রবাহ পরিস্থিতির উন্নতি হলেও পুরো জানুয়ারিজুড়েই শীতের প্রকোপ থাকবে। ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করবে। ওই মাসের শেষদিকে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে। আবহাওয়াবিদ আবদুর রহমান খান আমাদের সময়কে বলেন, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, রংপুর বিভাগের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তীব্র থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। প্রতিদিনই উন্নতি হচ্ছে তাপমাত্রার।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। যেসব এলাকার ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে তা অব্যাহত থাকতে পারে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং তা উত্তর-পশ্চিমাংশে দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

শৈত্যপ্রবাহের কারণে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাই কৃষকদের বিভিন্ন পর্যায়ে একটু বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। বোরো মৌসুমে চারা অবস্থায় শৈত্যপ্রবাহ হলে চারা মারা যায়। কুশি অবস্থায় শৈত্যপ্রবাহ হলে কুশির বাড়ন্ত গতি কমে ও গাছ হলুদ হয়ে যায়। আবার থোড় বা শিষ পুরোপুরি বের হতে দেয় না, শিষের অগ্রভাগের ধান মরে যায় এবং শিষে চিটার পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এ ছাড়াও ঠা-ার প্রকোপে ধসে পড়া রোগের জন্য চারা মারা যায়।

ফসল রক্ষায় করণীয় : শৈত্যপ্রবাহ থেকে বোরো বীজতলা ও ধান ফসল রক্ষায় কিছু করণীয় নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। তাদের পরামর্শ, শৈত্যপ্রবাহের সময় স্বচ্ছ পলিথিনের ছাউনি দিয়ে বীজতলা সকাল ১০-১১টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢেকে রাখতে হবে। বীজতলার পানি সকালে বের করে দিয়ে সন্ধ্যায় নতুন করে ৩-৫ সেন্টিমিটার পানি দিয়ে তা ধরে রাখতে হবে। প্রতিদিন সকালে রশি টানা দিয়ে চারার গায়ে জমে থাকা শিশির ঝরিয়ে দিতে হবে। ঠা-ার কারণে ধসে পড়া রোগ দেখা দিলে বীজতলা থেকে পানি সরিয়ে দিতে হবে। চারা রোপণকালে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হলে কয়েক দিন দেরি করে চারা রোপণ করতে হবে, যাতে শীতে চারা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়। রোপণের পর শৈত্যপ্রবাহ হলে এবং কুশি অবস্থায় শৈত্যপ্রবাহ শুরু হলে জমিতে ৫-৭ সেন্টিমিটার পানি ধরে রাখতে হবে। রোপণের জন্য কমপক্ষে ৩৫-৪৫ দিনের চারা ব্যবহার করতে হবে। এ বয়সের চারা রোপণ করলে শীতে চারা মৃত্যুর হার কমে, চারা সতেজ থাকে এবং ফলন বেশি হয়। থোড় ও ফুল ফোটার সময় অতিরিক্ত ঠা-া আবহাওয়া বিরাজ করলে ক্ষেতে ৫-৭ সেন্টিমিটার দাঁড়ানো পানি রাখলে থোড় সহজে বের হয় এবং চিটার পরিমাণ কমে।

বোরো বীজতলা রক্ষা ও চিটা এড়ানোর উপায় : বোরো ধানের চারায় শীতজনিত সমস্যাসহ রোগবালাই ও পোকামাকড় আক্রমণ পরিলক্ষিত হয়। এ সময় সাধারণত কচি পাতাগুলো হলুদ বা ক্লোরোসিস হয়ে যাওয়াসহ চারার বৃদ্ধি হ্রাস পায়। এ অবস্থায় শীতে আক্রান্ত চারা রোগবালাইসহ পোকামাকড়ের আক্রমণে সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। শীতে চারা যেসব রোগে আক্রান্ত হয় এর মধ্যে অন্যতম হলোÑ ড্যাম্পিং অব এবং সিডলিং সøাইড।

ড্যাম্পিং অব হলে করণীয় : সমতলভাবে বীজতলা তৈরি করতে হবে। আদর্শ বীজতলায় বীজ ফেললে ড্যাম্পিং অব রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। পানি নামিয়ে ২-৪ দিন শুকনা অবস্থায় রাখতে হবে এবং কপার-জাতীয় বা বেনজিমিডাজল গ্রুপের যে কোনো ছত্রাকনাশক যেমন কার্বেনডাজিম ব্যাভিস্টিন, বেনোজিয়াম স্প্রে করলে চারা রোগমুক্ত হয়।

সিডলিং সøাইড হলে করণীয় : আদর্শ বীজতলায় চারা উৎপাদন করার ব্যবস্থাসহ পানি ব্যবস্থাপনা খুবই জরুরি। মাঝেমধ্যে পানি দিতে হবে। ধানের বীজতলায় না ফেলাই উত্তম। বীজের অঙ্কুরোদগম ভালোভাবে হলে সেই অঙ্কুরিত বীজ ব্যবহার করতে হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে