মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেন সীমিত করার নির্দেশ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১২ জানুয়ারি ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০১৭, ০০:২৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

সন্ত্রাস-জঙ্গি কার্যক্রমে অর্থায়ন, হুন্ডিতে রেমিট্যান্স পাঠানোসহ নানা জালিয়াতি প্রতিরোধে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একটি জাতীয় পরিচয়পত্রে একটি মাত্র অ্যাকাউন্ট চালু রাখা যাবে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৫ হাজার এবং মাসে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা জমা (ক্যাশ ইন) করা যাবে। এ ছাড়া প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা এবং মাসে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন (ক্যাশ আউট) করা যাবে। আগে প্রতিদিন ২৫ হাজার এবং মাসে দেড় লাখ টাকা ক্যাশ ইন ও ক্যাশ আউট করা যেত। গতকাল এ-সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগ।

মোবাইল সেবাদানকারী ব্যাংক ও তাদের সাবসিডিয়ারি কোম্পানির প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠানো ওই সার্কুলারে বলা হয়, এক ব্যক্তি কোনো মোবাইল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের (এমএফএস প্রোভাইডার) সঙ্গে একাধিক মোবাইল হিসাব চালু রাখতে পারবেন না। কোনো গ্রাহকের একই জাতীয় পরিচয়পত্র বা স্মার্টকার্ড বা অন্য কোনো পরিচয়পত্রের বিপরীতে একাধিক মোবাইল হিসাব থাকলে ওই গ্রাহকের সঙ্গে আলোচনা করে তার বেছে নেওয়া যে কোনো একটি মোবাইল হিসাব চালু রেখে অন্য হিসাবগুলো বন্ধ করতে হবে। কোনো ক্ষেত্রে গ্রাহকের সঙ্গে আলোচনা করে বন্ধ করা সম্ভব না হলে সর্বশেষ ব্যবহৃত অ্যাকাউন্টটি রেখে বাকিগুলো বন্ধ করে দিতে হবে। বন্ধ করা অ্যাকাউন্টগুলোর সমুদয় অর্থ গ্রাহককে ফেরত দিতে হবে। এই নির্দেশ কার্যকর করে প্রতি মাসে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হবে। এবং মাসিক মোট লেনদেনের পরিমাণও জানাতে হবে।

ওই সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, দিনে সর্বোচ্চ ২ বার ক্যাশ ইন করা যাবে, আগে ক্যাশ ইন করা যেত ৫ বার। তবে মাসিক ক্যাশ ইন সংখ্যা ২০ বার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ক্যাশ আউটের সংখ্যা ৩ বার থেকে কমিয়ে দিনে ২ বার এবং মাসে ১০ বার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া টাকা ক্যাশ ইন করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৫ হাজার টাকার বেশি ক্যাশ আউট করা যাবে না।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, কোনো মোবাইল হিসাবে ৫ হাজার টাকার বেশি ক্যাশ ইন ও ক্যাশ আউট করতে হলে গ্রাহককে জাতীয় পরিচয়পত্র দেখাতে হবে এবং এজেন্ট ওই পরিচয়পত্রের নম্বর রেজিস্টার খাতায় লিখে রাখবেন। ক্যাশ ইন ও ক্যাশ আউটের আলাদা রেজিস্টার খাতায় গ্রাহকের স্বাক্ষর বা টিপসই রাখতে হবে। এই নির্দেশগুলো পরিপালন না করলেও এজেন্টশিপ বাতিল করতে হবে। এজন্য এজেন্টদের প্রতি নজরদারি বাড়াতে হবে। সব মোবাইল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও তফসিলি ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীকে এসব নির্দেশনা কার্যকরে নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস একটি দ্রুত বিকাশমান সেবা যা অতি অল্প সময়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশেষ করে নি¤œ আয়ের জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি এ সেবাটির অপব্যবহার করছে মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে যা দেশ ও জাতির জন্য ক্ষতিকর। এ পরিপ্রেক্ষিতে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের অপব্যবহার রোধকল্পে এবং এর সুশৃঙ্খল ও যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতকল্পে নির্দেশনাগুলো পরিপালনের পরামর্শ দেওয়া হলো।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সন্ত্রাসে ও জঙ্গি কার্যক্রমে অর্থায়ন, মানবপাচার ও মাদক ব্যবসায়ীদের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে এসবের প্রমাণও পাওয়া গেছে। সম্প্রতি ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমার অন্যতম কারণ হিসেবে ব্যাংক কর্মকর্তারা মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ব্যবহারে হুন্ডি হওয়ার অভিযোগ করেন। এতে মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় লেনদেনের পরিমাণ কমিয়ে দিয়ে হুন্ডি হ্রাসের চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ২০১০ সালে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে ১৯টি ব্যাংকের অনুমোদন রয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি ব্যাংক তা চালু করেছে। নভেম্বর পর্যন্ত মোবাইল ব্যাংকিংয়ের এজেন্ট সংখ্যা ৬ লাখ ৯৪ হাজার ৬২৯ জন। নিবন্ধনকৃত ৩ কোটি ৯৬ লাখ অ্যাকাউন্টের মধ্যে দেড় কোটি অ্যাকাউন্ট সচল রয়েছে। নভেম্বরে দৈনিক গড়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ৭৩১ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে।

 

 

"

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে