বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে

  আবু আলী

১২ জানুয়ারি ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০১৭, ০০:২৪ | প্রিন্ট সংস্করণ

এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আর্থ-সামাজিক, রাজস্ব, আর্থিক এবং বহিঃখাতসহ সব খাতেই এগিয়ে যাচ্ছে রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এ দেশ। স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে দৃশ্যমান অগ্রগতি সাধিত হয়েছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। বিদ্যুতে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পথে। শুধু তাই নয়, মাথাপিছু আয়ের ভিত্তিতে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশের স্বীকৃতিও পেয়েছে। মূল্যস্ফীতির চাপ বলা যায় বর্তমানে পুরোপুরিই নিয়ন্ত্রণে। প্রবাসী আয়ও বাড়ছে। রপ্তানি আয়েও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি আর বিনিয়োগের খরা কাটেনি।

জনস্বাস্থ্য ও স্যানিটেশনে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছে। পুষ্টি এবং খাদ্য নিরাপত্তায়ও সমানতালে এগিয়ে চলছে। চালও রপ্তানি শুরু করেছে। বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসু সম্প্রতি ঢাকা সফরে এসে বাংলাদেশের উন্নয়নে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ হচ্ছে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে উন্নয়নের রোল মডেল। দারিদ্র্য বিমোচনে বিশ্বের জন্য অনুসরণীয় এবং অনুকরণীয়।

জানা গেছে, দেশ এগিয়ে যাওয়ার খবর সব মানুষকে জানাতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আয়োজন করেছে উন্নয়নমেলা ২০১৭। ৯ থেকে ১১ জানুয়ারি তিন দিনব্যাপী এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। মেলায় অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকে সরকারের উন্নয়ন কর্মকা- তুলে ধরা হয়েছে। অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়, ১৯৭২-৭৩ সালে দেশে বাজেটের আকার ছিল ১৭৫ কোটি টাকা। সেখান থেকে চলতি অর্থবছরের বাজেটের আকার দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৪ কোটি টাকায়।

আর্থ-সামাজিক খাতের চিত্র তুলে ধরে বলা হয়েছে, ২০০৬ সালে দেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ৩৮ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০১৬ সালে ২৩ শতাংশে নেমেছে। অতিদরিদ্রের হার ২৪ শতাংশ থেকে ১২ শতাংশে নেমেছে। সাক্ষরতার হার ৫২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। প্রত্যাশিত গড় আয়ু ৬৫ বছর থেকে বেড়ে ৭১ বছরে উন্নীত হয়েছে। শিশু মৃত্যু হাজারে ৪৮ জন থেকে কমে ২৯ জনে দাঁড়িয়েছে। মোবাইলফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১ দশমকি ৯ কোটি থেকে বেড়ে ১১ দশমিক ৯ কোটিতে দাঁড়িয়েছে।

উন্নয়নমেলায় প্রকৃত খাতের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, জিপিডির হার ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৭ দশমিক ১১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে মাথাপছিু জাতীয় আয় ৫৪৩ মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ৪৬৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। মোট বিনিয়োগ ১ লাখ ২৬ হাজার ১০৩ কোটি থেকে বেড়ে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৫ লাখ ১৩ হাজার ৮৩৯ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ ছিল ৭৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে শেষে তা ২০০৩ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। মূল্যস্ফীতির হার ২০০৬-০৭ অর্থবছরে ৯ দশমিক ৪ শতাংশ ছিল। বর্তমানে ৫ দশমিক ৬ শতাংশে নেমেছে।

রাজস্ব খাতের বিষয়ে বলা হয়েছে, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল ৬৪ হাজার ৩৮২ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকায় উন্নীত হয়। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আকার ২৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা থেকে ১ লাখ ১০ হাজার ৭০০ কোটিতে দাঁড়িয়েছে। মোট রাজস্ব আয়ের পরিমাণ ৪২ হাজার ৫৬৬ কোটি থেকে বেড়ে ২ লাখ ৪২ হাজার ৫৭২ কোটিতে দাঁড়িয়েছে।

আর্থিক খাতের চিত্র তুলে ধরে বলা হয়েছে, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ব্যাংকে ৬ হাজার ৪২৫টি শাখা ছিল। ২০১৫-১৬ অর্থবছর শেষে ৯ হাজার ৪৫৩টিতে উন্নীত হয়েছে। মুদ্রা সরবরাহের পরিমাণ ১ লাখ ৮০ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৯ লাখ ১৬ হাজার ৩৭৭ কোটিতে উন্নীত হয়েছে। ঋণের সুদহার ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ১২ শতাংশ ছিল। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এসে তা ১০ দশমিক ৩৯ শতাংশে নেমেছে। বহিঃখাতের চিত্র তুলে ধরে অর্থ বিভাগ বলছে, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে মোট রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১০ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। ২০১৫-১৬ অর্থবছর শেষে ৩৪ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আমদানির পরিমাণ ছিল ১৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে তা ৪০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। প্রবাসী আয় ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ৪ দশমিক ৮ ডলার থেকে বেড়ে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৩০ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

সরকারের তিন বছরের চিত্র : অন্যদিকে বর্তমান সরকারে চলতি মেয়াদে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকা- সংঘটিত হচ্ছে। বিশেষ করে বড় বড় অবকাঠামোর দৃশ্যমান রূপ নিচ্ছে। তিন বছরে দেশের মানুষের গড় আয় বেড়েছে ২৮২ মার্কিন ডলার। আর এই সময়ে জিডিপির প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ১ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। গত ৩ বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশের জাতীয় বাজেট বেড়েছে প্রায় ৭৫ হাজার কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে তিন বছরে। বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে ডিসেম্বর-২০১৬ পর্যন্ত ১৫ হাজার মেগাওয়াট, তিন বছর আগে ছিল ১১ হাজার মেগাওয়াটের নিচে। বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, বাংলাদেশে হতদরিদ্র মানুষের হার ২০১২-১৩ অর্থবছরে ছিল ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ছিল ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ। এবং ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ছিল ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ। এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৯ শতাংশে। অর্থ বিভাগের তথ্যমতে, ২০১৩-১৪ অর্থবছর শেষে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ছিল ১ হাজার ১৮৪ ডলার। আর ২০১৫-১৬ অর্থবছর শেষে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৬৬ ডলারে। চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছর শেষে তা ১৬৬০ ডলারে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই রকমভাবে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয় ৬ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। তিন বছর পর ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তা ৭ দশমিক ১১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। চলতি অর্থবছর শেষে ৭ দশমিক ২ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে বলে আশা করছে অর্থ বিভাগ।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ যে কোনো সময়ের চেয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত রিজার্ভ প্রায় ৩২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। তিন বছর আগে ২০১৪ সালের শুরুতে রিজার্ভ ছিল ২৫ বিলিয়ন ডলার। ২০১৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত রিজার্ভ ছিল ২৭ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে তিন বছরে রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যমতে, ডিসেম্বর শেষে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশের নিচে নেমেছে এসেছে। যা ৫৩ মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে। এর আগে অক্টোবর ২০১৬-এ মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, স্বাধীনতার পর ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের বাজেটের পরিমাণ ছিল মাত্র ১৭৫ কোটি টাকা। সেখান থেকে চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটের আকার দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৪ কোটি টাকা। এ অর্জন আমাদের জাতিকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। স্বাধীনতার পর থেকে দেশের যে অভূতপূর্ব উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অর্জন করেছে সে বিষয়ে জনগণকে জানানোর জন্যই রাজধানীসহ প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় উন্নয়নমেলার আয়োজন। সাধারণ মানুষকে শুধু উন্নয়নের কথা বলেই নয় তথ্য-উপাত্ত দিয়ে উন্নয়নের দিকগুলো জানানো হচ্ছে।

 

 

 

"

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
close
close