ড্রেজিংয়ের টাকা পাচ্ছে না পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ

  তাওহীদুল ইসলাম

১৭ জুলাই ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১৭ জুলাই ২০১৭, ০০:২৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ড্রেজিংয়ের টাকা পরিশোধ করতে পারছে না পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ। বকেয়া ৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা পরিশোধে বিআইডব্লিউটিএকে দফায় দফায় চিঠি দিয়েও টাকা আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পদ্মা সেতু প্রকল্পের নদীশাসন কাজ করছে চীনা ঠিকাদার সিনোহাইড্রো করপোরেশন। ২০১৫ সালে পদ্মার নৌপথের নাব্যতা সংকট দেখা দিলে সিনোহাইড্রোর সহযোগিতায় ড্রেজিংকাজ করা হয়। এ জন্য টাকা পরিশোধের শর্তে কাজটি করে দেওয়ার কথা। সে অনুযায়ী ড্রেজিং সম্পন্ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। দুই দফায় টাকা পরিশোধের পরও ৩ কোটি ৬৫ লাখ ২৪ হাজার ৫৫০ টাকা বকেয়া রয়েছে। বিআইডব্লিউটিএকে তা পরিশোধের জন্য দফায় দফায় চিঠি দেওয়া হচ্ছে পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের পক্ষ থেকে। সর্বশেষ চিঠিতে বলা হয়েছে, এখন ঠিকাদার এ সংক্রান্ত ক্লেইম (ক্ষতিপূরণ) দাবি করতে পারে।

জানা গেছে, নৌমন্ত্রণালয়ের অনুরোধে পদ্মা নদীর মাওয়া পয়েন্টে মাওয়া ফেরিঘাটের ডান পাশে শিমুলিয়া-চরজানাজাত রুটে ড্রেজিং কাজ করে পদ্মা সেতু প্রকল্পের ঠিকাদার। ড্রেজিংকাজের জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সুপারিশ করা সর্বমোট ৯ কোটি ৮৫ লাখ ৩৩ হাজার ৯৬৪ টাকার মধ্যে ইতোমধ্যে ৬ কোটি ২০ লাখ ৯ হাজার ৪১৪ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। দুই দফায় ওই টাকা পরিশোধের পর অবশিষ্ট অর্থ পরিশোধে দেরি হচ্ছে। বাকি টাকা দ্রুত পরিশোধে গত ৬ জুলাই বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যানকে চিঠি দেন পদ্মা সেতুর প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম। এর আগে চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি এ বিষয়ে আরেকটি চিঠি দেওয়া হয়। এরও আগে গত বছরের ১৮ অক্টোবর ও ১৮ জানুয়ারি একই ধরনের চিঠি দেন পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরিচালক।

জানা গেছে, সিনোহাইড্রো থেকে ড্রেজিং কাজের পরিমাণ ও একক দরসংবলিত রিপোর্ট পদ্মা প্রকল্পের পরামর্শকের (সিএসসি-২) কাছে জমা দেওয়া হয়। ড্রেজিং ভলিউমের পরিমাণ ২,৮৭,২৯৭ ঘনমিটার ও একক দর ৩১১.৭৯ টাকা/ঘনমিটার। সে হিসাবে সেতু কর্তৃপক্ষের সার্ভিস চার্জ ১০ শতাংশ বাবদ ৮৯ লাখ ৫৭ হাজার ৬৩৩ টাকাসহ সর্বমোট পরিমাণ দাঁড়ায় ৯ কোটি ৮৫ লাখ ৩৩ হাজার ৯৬৫ টাকা। প্রথমে ৩ কোটি ৫০ লাখ এবং এরপর ২ কোটি ৭০ লাখ ৯ হাজার ৪১৪ টাকা পরিশোধ করে বিআইডব্লিউটিএ। কিন্তু এরপর বাকি টাকা পরিশোধে শুরু হয় গড়িমসি। এ জন্য বারবার তাগিদ দেওয়া হয়েছে পদ্মা সেতু প্রকল্পের পক্ষ থেকে। কারণ প্রকল্পের অনুরোধে তাদের ঠিকাদার সিনোহাইড্রো সে সময় বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিংকাজ করে দিতে রাজি হয়। নিজস্ব বড় ড্রেজারের অভাবে ড্রেজিং করতে পারিছল না সংস্থাটি।

সম্প্রতি পদ্মা সেতুর প্রকল্প পরিচালকের পক্ষ থেকে আরও একটি চিঠি লেখা হয়েছে বিআইডব্লিউটিএকে। তাতে বলা হয়েছেÑ পদ্মা নদীর কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাটের বিপরীত দিকে সংস্থাটির অনুরোধে নদীশাসনকাজের ঠিকাদার সিনোহাইড্রোর মাধ্যমে ড্রেজিং করা হয়। কিন্তু এর ড্রেজিং স্পয়েল ফেলা হয় পদ্মা প্রকল্পের অধিগ্রহণ করা জায়গায়। বিষয়টি অবগত করলে ড্রেজিং করা সমপরিমাণ মাটি প্রকল্পের অধিগ্রহণ করা এলাকার বাইরে বিআইডব্লিউটিএর নিজ খরচে অপসারণের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। এ কাজটি করার কথা এ বছরের আগস্ট-সেপ্টেম্বরের মধ্যে। আর ওই ড্রেজিং স্পয়েল ভরাট করা জায়গাটি নদীশাসনকাজের ‘ব্যাক স্লোপ’ এলাকায়। সেখানে শিগগির কাজ শুরু করবে ঠিকাদার। তাই এসব ড্রেজিং স্পয়েল জরুরি ভিত্তিতে অপসারণে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে