ভালুকায় সরকারি ১১ একর ভূমি বিক্রি করল দস্যূরা

  ভালুকা প্রতিনিধি

১৮ জুলাই ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ময়মনসিংহের ভালুকায় ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে বাজেয়াপ্ত (ফরফিডেট) খতিয়ানভুক্ত ও সরকারি বন বিভাগের প্রায় ২০ কোটি টাকা মূল্যের ১১ একর জমি ৮ কোটি ২২ লাখ টাকা দাম ধরে রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আরও ভুয়া খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত জমি বিক্রির পাঁয়তারা করছে একটি চক্র।

জানা গেছে, উপজেলার হবিরবাড়ি মৌজার ১৫৪ নম্বর দাগে বন বিজ্ঞপ্তিতে জমি থেকে প্রায় ১১ একর জমি জনৈক সিরাজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি ভালুকা সাবরেজিস্টার শাহ জালাল মোল্লাকে ম্যানেজ করে রবিন টেক্স (বাংলাদেশ) লিমিটেডের পক্ষে প্রতিনিধিত্বকারী রবিন রাজন সাখাওয়াত নামে এক ব্যক্তির কাছে গত ২৩ এপ্রিল সাবকবলা দলিল (নম্বর-৩৬৯১) বিক্রি করে দিয়েছে।

আরও জানা গেছে, জমি বিক্রেতা সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), সার্ভেয়ার, তৎকালীন ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা, বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা, বিট অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর স্বাক্ষর জাল করে ডিমারগেশন ম্যাপ, বিভিন্ন তদন্ত রিপোর্ট ও খাজনা রসিদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রের ফিরিস্তি তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে জমি রেজিস্ট্রির পাঁয়তারা করে আসছিলেন। প্রথমে ভালুকা সাবরেজিস্টার রেজিস্ট্রি করতে অপারগতা প্রকাশ করলেও রহস্যজনক কারণে এ বছরের গত ২৩ এপ্রিল দলিলটি রেজিস্ট্রি করে দেন।

হবিরবাড়ি এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, সিরাজুল ইসলাম যে কাগজপত্র দেখাচ্ছেন, সেটি জাল। ২০০০ সালে ১৫৪ নম্বর দাগটির যৌথভাবে সীমানা নির্ধারণ (ডিমারগেশন) হয়। ওই সময় রেকর্ডীয় জমির ১৬ জন মালিক ২৮ একর ৭০ শতাংশ এবং বাজেয়াপ্ত ২১ জন মালিক ৩৯ একর ৩০ শতাংশ জমির কাগজপত্র দেখিয়ে জমির দখল বুঝে পান। কিন্তু রেকর্ডীয় ও বন্দোবস্তপ্রাপ্ত জমির মালিকদের মাঝে সিরাজুল ইসলাম নামে কোনো ব্যক্তির নামে ডিমারগেশন হয়নি। ১৯৭১ সালে নান্দাইল সাবরেজিস্ট্রি অফিসে আগুন লেগে গুরুত্বপূর্ণ দলিল ও রেকর্ডপত্র পুড়ে যায়। এর পর থেকে একটি চক্র জালজালিয়াতির মাধ্যমে দলিল বানিয়ে তা বিক্রির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা করছে।

এ ব্যাপারে বারবার চেষ্টা করেও দলিল দাতা সিরাজুল ইসলাম ও গ্রহীতা রবিন রাজন সাখাওয়াতের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

হবিরবাড়ি রেঞ্জের রেঞ্জার মো. আ. কাদের জানান, আমরা জানতে পারছি এই রকম একটা দলিল রেজিস্ট্রি হয়েছে। আমরা নকল তুলে দেখব। পরে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। তিনি আরও বলেন, জায়গায় এখনো কেউ আসেনি। এলে আমরা বাধা দেওয়াসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

ভালুকা সাবরেজিস্ট্রার শাহ জালাল মোল্লা দলিল রেজিস্ট্রির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, দলিল রেজিস্ট্রির ব্যাপারে যা যা কাগজপত্র দরকার, সবই ঠিকঠাক মনে হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে