আলোচনাসভায় বক্তারা

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে ‘অপহরণ’ শব্দটি ব্যবহৃত হচ্ছে

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৩ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

যখন কেউ কাউকে অপহরণ করে, তখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে, তারা কোনো আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই গ্রেপ্তার করছে। সে কারণে গ্রেপ্তারের পরিবর্তে ‘তুলে’ নিয়ে যাওয়া, ‘উঠিয়ে’ নিয়ে যাওয়ার মতো বেআইনি শব্দগুলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হচ্ছে।

গতকাল শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক আলোচনাসভায় সুপ্রিমকোর্টের অ্যাডভোকেট জ্যোতির্ময় বড়–য়া এসব কথা বলেন। ‘আইনের শাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা’ শীর্ষক ওই সভার আয়োজন করে মৌলিক অধিকার সুরক্ষা কমিটি।

সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, টেলিভিশন টক শোতে দেখলাম খুব কথা। যারা অপহৃত হয়ে যাচ্ছেন তারা আর কথা বলেন না। এটা বুঝবার বুদ্ধি নেই আপনাদের? কথা কেমন করে বলবে? যদি একটা অপহরণের ঘটনাই হতো শেষ অপহরণের ঘটনা, তা হলে অবশ্যই যারা অপহৃত হয়েছেন তারা এবং তাদের পরিবার কথা বলত। একটা অপহরণের ঘটনা সারতে না সারতেই যদি দেখেন, সাতজন অপহরণ হয়েছেন, তাও আবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দিয়ে এবং এমন পর্যায় থেকে যাকে আপনি ফেলে দিতে পারবেন না।... এটা তো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কালচারের ভেতরে ঢুকে গেছে। বাংলাদেশের মানুষও এখন ‘বিপদে পড়ার কালচারের’ মধ্যে ঢুকে গেছে। কেউ এখন প্রতিবাদ করতে গেলে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রতিবাদ করতে গিয়ে বিপদে পড়ো না। জনগণের অনাস্থা, অবিশ্বাসের জায়গাগুলো শনাক্ত করে, আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে হবে।

রিজওয়ানা বলেন, যেসব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আস্থাহীনতা ও অবিশ্বাস চরম, সেখান থেকে মুক্তি পেতে হলে কোনো আইন বাতিল করতে হলে আমাদের তা করতে হবে। যদি বিডিআরের নাম বদলে যেতে পারে, যে সে মূল্যবোধ নিয়ে ব্যাজ পরতে পারছে না, তা হলে র‌্যাবের ব্যাপারেও আসলে আমাদের চিন্তা করতে হবে।

বেলার প্রধান আরও বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্রধারী নাগরিকরা হারিয়ে যায়। কেউ বলতে পারে না। পুলিশ, র‌্যাব, সেনাবাহিনী বলতে পারবে না। এটা কোনো কথা? ন্যূনতম জবাবদিহিটুকু থাকবে না? তারা সমানে গ্রেপ্তার করতে পারে, জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে কেউ তো বাধা দিচ্ছে না। কিন্তু আমরা হারিয়ে যাব কেন? তা হলে এই পরিচয়পত্র দিয়ে আমাদের লাভ কি হলো? এটা আমাদের সুরক্ষাকবচ।

আর নাগরিকরা হারিয়ে গেলে কী হবে, আগামী নির্বাচনে জেতা যাবে? কোনোভাবেই সম্ভব নয়। বরং নাগরিকরা যদি থাকতে পারে তা হলেই আগামী নির্বাচনে জেতা সম্ভব।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে