পীরগঞ্জে ২ বিদ্যালয় বিলীনের আশঙ্কা

  মো. কামরুল হাসান জুয়েল, পীরগঞ্জ

০৭ অক্টোবর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রংপুরের পীরগঞ্জে বন্যার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে করতোয়া নদীর ভাঙন বেড়েই চলছে। ইতোমধ্যে উপজেলার টুকুরিয়া ইউনিয়নের বিছনা, দুর্গামতি, সুজারকুঠি গ্রামের সিংহভাগ নদীতে বিলীন হয়ে শতাধিক একর জমি ও অর্ধশতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি আমন ধানসহ জমিগুলো নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। নদীটির গতিপথ পরিবর্তন হয়ে প্রায় দেড় কিলোমিটার পীরগঞ্জ সীমানার ভেতরে সরে আসায় আরও কয়েকটি গ্রাম বিলীনের পথে। এভাবে নদীভাঙন অব্যাহত থাকলে শিগগিরই উপজেলার টুকুরিয়া ইউনিয়নের পাঁচ গ্রামসহ দুটি স্কুল নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী। নদীটি আগের পথে ফেরাতে দেড় কিলোমিটার এলাকা খনন করলে গ্রামসহ আবাদি জমির ফসলগুলো রক্ষা পাবে বলে জানায় এলাকাবাসী। গত ৫ অক্টোবর বিকালে ইউএনও কমল কুমার ঘোষ ও পীরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র তাজিমুল ইসলাম শামীম নদীভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এ সময় নদী পাড়ের কয়েকশ মানুষ কান্নায় ভেঙে পড়েন। নদীভাঙন রোধ করতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে তাদের অনুরোধ জানায় স্থানীয়রা। ইউএনও এবং মেয়র নদীভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন উপস্থিত জনতাকে।

সরেজমিন দেখা গেছে, উপজেলার কাবিলপুর, চতরা, বড় আলমপুর, চৈত্রকোল ইউনিয়নে বন্যার পানিতে তলিয়ে হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। রংপুর ও দিনাজপুর সীমান্তে বয়ে যাওয়া করতোয়া নদীটির বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের কয়েকটি স্থান ভেঙে লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে নদীর পার ভেঙে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার মহারাজপুর থেকে গতিপথ পরিবর্তন করে দেড় কিলোমিটার উত্তরে সরে পীরগঞ্জ উপজেলার টুকুরিয়া ইউনিয়নের বিছনা ও দুর্গামতি গ্রামে চলে আসে।

ভাঙনে নদীটির তলদেশে বিছনা গ্রামের একটি পাড়ার অর্ধশতাধিক পরিবারের বসতভিটা বিলীন হওয়ায় পরিবারগুলো আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। আশ্রয়হীন মোনাইল গ্রামের আবুল কাশেম, খাদেমুল ইসলাম, খালেক দক্ষিণ দুর্গাপুরের শাহীনুর আলম, জয়নাল আবেদীন, ফয়েজ উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের বসতবাড়ি জমিজমা ভাঙি নদীত চলি গেছি বাহে, হামরা এ্যালা বাড়িঘর হারা। হামার ভবিষ্যৎ কী তাক ওপর আল্লাহই জানে। নদী আর ৫০ থেকে ৬০ গজ ভাঙলেই যেগুলা বাড়ি আছে পাকা রাস্তাসহ নদীত বিলীন হবি।’

সুজারকুঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, পুনরায় বাঁধ নির্মাণ করে নদীভাঙন রোধ করতে না পারলে সুজারকুঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সুজারকুঠি উচ্চ বিদ্যালয়সহ পুরো গ্রাম এবং দুধিয়াবাড়ী, পারবোয়ালমারী গ্রাম নদীগর্ভে চলে যাবে। ইতোমধ্যেই সুজারকুঠির রাস্তা ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। টুকুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান ম-ল জানান, এবারের বন্যায় করতোয়া নদীটি দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার মহারাজপুর থেকে ভেঙে ভেঙে উত্তরে দেড় কিলোমিটার সরে এসে আমার ইউনিয়নের বিছনা ও দুর্গামতি গ্রাম হুমকির মুখে পড়েছে। এখনো নদী ভাঙছে। এই ভাঙন ঠেকাতে না পারলে এক সপ্তাহের মধ্যে বিছনা, দুর্গামতি, পারবোয়ালমারী, দুধিয়াবাড়ী, জয়ন্তীপুর ও সুজারকুঠি গ্রামের অসংখ্য বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমল কুমার ঘোষ জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বার বার তাগাদা দেওয়া হয়েছে। উনারা এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। পীরগঞ্জের পৌর মেয়র তাজিমুল ইসলাম শামীম জানান, চেয়ারম্যান ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে নদীভাঙনের কথা শুনে আমি সরেজমিন দেখতে গিয়েছিলাম। আমাদের এমপি স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বর্তমানে দেশের বাইরে আছেন। উনি দেশে ফিরলেই তাকে জানিয়ে দ্রুত এর সমাধান করা হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে