মাগুরায় পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

  মাগুরা প্রতিনিধি

০৭ অক্টোবর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মাগুরার মহম্মদপুরে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়াই এক ব্যক্তিকে আটক করে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগে মাগুরা ডিবি পুলিশের এক উপ-পরিদর্শকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তির নাম আলমগীর হোসেন। তার বাড়ি মহম্মদপুর উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামে। তিনি একজন সাবেক সেনা সদস্য বলে মামলায় উল্লেখ আছে। এ ছাড়া অভিযুক্ত ওই পুলিশ কর্মকর্তা আক্রান্তদের বাড়ি থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করেছেন ও আটকের পর তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য ২ লাখ টাকা দাবি করেছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। মাগুরার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শম্পা বসুর আদালতে গত বৃহস্পতিবার বিকালে মামলাটি দায়ের করেছেন আক্রান্ত আলমগীর হোসেনের ভাই মুক্তিযোদ্ধা মো. মশিউর রহমান। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, মারামারির মামলায় ২৯ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে মহম্মদপুর উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাড়ি থেকে আলমগীরকে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হিসেবে আটক করে ডিবি পুলিশের এসআই সালাহউদ্দিন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন তিন পুলিশ সদস্য। আটকের সময় আলমগীরের দুই হাত পেছনে দিয়ে হ্যান্ডক্যাপ লাগিয়ে বেধড়ক মারপিট করা হয়। তার স্ত্রীকে দিয়ে ঘরের আলমারি খুলে নগদ ৫০ হাজার টাকা ও দেড় লক্ষাধিক টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার নিয়ে যায় পুলিশ সদস্য। এ সময় আলমগীর হোসেনের পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেখতে চাইলে তারা ব্যর্থ হন। পাশাপাশি আলমগীরকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হলে সালাউদ্দিন দুই লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় শত শত লোকজনের সামনে বাঁশের লাঠি দিয়ে ও আখ দিয়ে আলমগীরকে পেটাতে পেটাতে মহম্মদপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মহম্মদপুর থানার ওসি আলমগীরের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা শেষে আদালতে সোপর্দ করেন। আদালত থেকে ২ অক্টোবর আলমগীর হোসেন জামিনে মুক্তি পান।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়ে মহম্মদপুর থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, আদালত কর্তৃক আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে ইস্যু করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মহম্মদপুর থানায় পৌঁছেছিল। সাধারণত যে কোনো মামলায় সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ সদস্যরা আসামিদের গ্রেপ্তার করেন। তবে অনেক ক্ষেত্রে থানায় মামলার সংখ্যা বেশি হলে ডিবি পুলিশকে আসামি গ্রেপ্তারের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্তরা সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করে আসামি ধরতে যান। কিন্তু আলমগীর হোসেনের ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিবি পুলিশ কর্মকর্তা সালাউদ্দিন গ্রেপ্তারের পর বিষয়টি আমাদের অবহিত করেন।

অন্যদিকে অভিযুক্ত ডিবির এসআই সালাউদ্দিন বলেন, আমি ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হিসেবে আলমগীরকে গ্রেপ্তার করেছি। আলমগীর হোসেন তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার অভিযোগ থেকে রেহায় পেতে এখন পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনছেন। আমি তাকে রাস্তা থেকে গ্রেপ্তার করেছি। বাড়ি থেকে নয়। এ ছাড়া নির্যাতনের অভিযোগ সম্পূর্ণই মিথ্যা।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে